১১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাজস্থানের কোটায় তিনতলা রেস্তোরাঁ ধসে মৃত্যু এক, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ বহুজন ইসলামাবাদ হামলার মূলহোতা গ্রেপ্তার, ভারতীয় মদদের অভিযোগে উত্তপ্ত পাকিস্তান এনসিপির আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি, থানায় সাধারণ ডায়েরি নির্বাচন প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট প্রধান উপদেষ্টা, আগামী এক সপ্তাহকে দেখছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় সিলেটে জামায়াতের সমাবেশে নজিরবিহীন নারী অংশগ্রহণ, রাজনীতিতে নতুন বার্তা টঙ্গীতে ট্রেনের নিচে মা ও দুই বছরের শিশুর মৃত্যু, পরিবারের দাবি আত্মহত্যা ফেনীতে ‘ডাক্তার’ উপাধি ব্যবহার করে বিতর্কে জামায়াত প্রার্থী, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ তারেকের অঙ্গীকার: ক্ষমতায় গেলে ফিরবে বিডিআর নাম, সেনাবাহিনী হবে না রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া–১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘন, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর জরিমানা গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার

জীবন আমার বোন (পর্ব-১১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
  • 80

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

ভিতরের সব ঝনৎকার থেমে যায় এক সময়, খোকা বললে, ‘ব্যাস ব্যাস, থামো থামো মিউজিক কলেজের কাছে নেমে গেল খোকা।

কিছুক্ষণ কড়া নাড়ানাড়ির পর দরোজা খুলে দিলো সিদ্দিকাভাবী, নীলাভাবীর সতীন। বয়েস গড়িয়েছে ঢের, প্রায় রাজীব ভাইয়ের সমবয়েসী মনে হয়।

‘কে খোকা নাকি? ভিতরে এসো।’ দরোজা বন্ধ ক’রে সিদ্দিকাভাবী বললে, ‘অসুখ-বিসুখ ছিলো বুঝি?’

‘কই না তো?’

‘অনেকদিন এমুখো হওনি, তাই বলছি-‘

‘সময় পাইনি।’

‘চাকরি-বাকরিতে ঢুকে পড়েছো বুঝি?’

‘কই আর ”

‘বোনটাকে তো একবারও নিয়ে এলে না?’

‘আনবো আনবো ক’রে হ’য়ে ওঠে না আর কি!’

‘হবেও না কোনোদিন, তোমরা সব এক রসুনের গোড়া।’

একটা টুলের উপর টেবিলফ্যান চড়িয়ে সেটাকে চালিয়ে দিলো সিদ্দিকাভাবী। কাজের ভিতর থেকে কথা বলাটা সিদ্দিকাভাবীর পুরানো অভ্যেস; নিছক কথার প্রয়োজনে কখনও সময় খরচ করতে চায় না। খাটের তলা থেকে একটা পিকদান টেনে বের করতে করতে কিছুক্ষণ পর বললে, ‘খেয়েছো?’

‘হ্যাঁ।’

‘সত্যি তো?’

‘হ্যাঁ, সোজা বাড়ি থেকেই আপনাদের এখানে আসছি।’

‘বোসো তা’হলে, তোমার নীলাভাবী কুয়োতলায়’ উঠোনের দিকের দরোজার পর্দাটা ভালো ক’রে টেনে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চ’লে যায় সিদ্দিকাভাবী। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে খোকা। সিদ্দিকাভাবীর সামনে সবসময় সন্ত্রস্ত থাকে সে, মনে হয় অতি অল্পকালের মধ্যেই তাকে শিউরে উঠতে হবে। এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় হাঁড়ির ভাত টিপছে, তারপর মাড় গালবে।

 

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজস্থানের কোটায় তিনতলা রেস্তোরাঁ ধসে মৃত্যু এক, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ বহুজন

জীবন আমার বোন (পর্ব-১১)

১২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

ভিতরের সব ঝনৎকার থেমে যায় এক সময়, খোকা বললে, ‘ব্যাস ব্যাস, থামো থামো মিউজিক কলেজের কাছে নেমে গেল খোকা।

কিছুক্ষণ কড়া নাড়ানাড়ির পর দরোজা খুলে দিলো সিদ্দিকাভাবী, নীলাভাবীর সতীন। বয়েস গড়িয়েছে ঢের, প্রায় রাজীব ভাইয়ের সমবয়েসী মনে হয়।

‘কে খোকা নাকি? ভিতরে এসো।’ দরোজা বন্ধ ক’রে সিদ্দিকাভাবী বললে, ‘অসুখ-বিসুখ ছিলো বুঝি?’

‘কই না তো?’

‘অনেকদিন এমুখো হওনি, তাই বলছি-‘

‘সময় পাইনি।’

‘চাকরি-বাকরিতে ঢুকে পড়েছো বুঝি?’

‘কই আর ”

‘বোনটাকে তো একবারও নিয়ে এলে না?’

‘আনবো আনবো ক’রে হ’য়ে ওঠে না আর কি!’

‘হবেও না কোনোদিন, তোমরা সব এক রসুনের গোড়া।’

একটা টুলের উপর টেবিলফ্যান চড়িয়ে সেটাকে চালিয়ে দিলো সিদ্দিকাভাবী। কাজের ভিতর থেকে কথা বলাটা সিদ্দিকাভাবীর পুরানো অভ্যেস; নিছক কথার প্রয়োজনে কখনও সময় খরচ করতে চায় না। খাটের তলা থেকে একটা পিকদান টেনে বের করতে করতে কিছুক্ষণ পর বললে, ‘খেয়েছো?’

‘হ্যাঁ।’

‘সত্যি তো?’

‘হ্যাঁ, সোজা বাড়ি থেকেই আপনাদের এখানে আসছি।’

‘বোসো তা’হলে, তোমার নীলাভাবী কুয়োতলায়’ উঠোনের দিকের দরোজার পর্দাটা ভালো ক’রে টেনে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চ’লে যায় সিদ্দিকাভাবী। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে খোকা। সিদ্দিকাভাবীর সামনে সবসময় সন্ত্রস্ত থাকে সে, মনে হয় অতি অল্পকালের মধ্যেই তাকে শিউরে উঠতে হবে। এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় হাঁড়ির ভাত টিপছে, তারপর মাড় গালবে।

 

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)