০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: বয়সের সঙ্গে ক্ষয় নয়, আগেভাগে যত্ন নেওয়ার নতুন বিজ্ঞান স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি

জীবন আমার বোন (পর্ব-১১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
  • 128

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

ভিতরের সব ঝনৎকার থেমে যায় এক সময়, খোকা বললে, ‘ব্যাস ব্যাস, থামো থামো মিউজিক কলেজের কাছে নেমে গেল খোকা।

কিছুক্ষণ কড়া নাড়ানাড়ির পর দরোজা খুলে দিলো সিদ্দিকাভাবী, নীলাভাবীর সতীন। বয়েস গড়িয়েছে ঢের, প্রায় রাজীব ভাইয়ের সমবয়েসী মনে হয়।

‘কে খোকা নাকি? ভিতরে এসো।’ দরোজা বন্ধ ক’রে সিদ্দিকাভাবী বললে, ‘অসুখ-বিসুখ ছিলো বুঝি?’

‘কই না তো?’

‘অনেকদিন এমুখো হওনি, তাই বলছি-‘

‘সময় পাইনি।’

‘চাকরি-বাকরিতে ঢুকে পড়েছো বুঝি?’

‘কই আর ”

‘বোনটাকে তো একবারও নিয়ে এলে না?’

‘আনবো আনবো ক’রে হ’য়ে ওঠে না আর কি!’

‘হবেও না কোনোদিন, তোমরা সব এক রসুনের গোড়া।’

একটা টুলের উপর টেবিলফ্যান চড়িয়ে সেটাকে চালিয়ে দিলো সিদ্দিকাভাবী। কাজের ভিতর থেকে কথা বলাটা সিদ্দিকাভাবীর পুরানো অভ্যেস; নিছক কথার প্রয়োজনে কখনও সময় খরচ করতে চায় না। খাটের তলা থেকে একটা পিকদান টেনে বের করতে করতে কিছুক্ষণ পর বললে, ‘খেয়েছো?’

‘হ্যাঁ।’

‘সত্যি তো?’

‘হ্যাঁ, সোজা বাড়ি থেকেই আপনাদের এখানে আসছি।’

‘বোসো তা’হলে, তোমার নীলাভাবী কুয়োতলায়’ উঠোনের দিকের দরোজার পর্দাটা ভালো ক’রে টেনে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চ’লে যায় সিদ্দিকাভাবী। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে খোকা। সিদ্দিকাভাবীর সামনে সবসময় সন্ত্রস্ত থাকে সে, মনে হয় অতি অল্পকালের মধ্যেই তাকে শিউরে উঠতে হবে। এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় হাঁড়ির ভাত টিপছে, তারপর মাড় গালবে।

 

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: বয়সের সঙ্গে ক্ষয় নয়, আগেভাগে যত্ন নেওয়ার নতুন বিজ্ঞান

জীবন আমার বোন (পর্ব-১১)

১২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

ভিতরের সব ঝনৎকার থেমে যায় এক সময়, খোকা বললে, ‘ব্যাস ব্যাস, থামো থামো মিউজিক কলেজের কাছে নেমে গেল খোকা।

কিছুক্ষণ কড়া নাড়ানাড়ির পর দরোজা খুলে দিলো সিদ্দিকাভাবী, নীলাভাবীর সতীন। বয়েস গড়িয়েছে ঢের, প্রায় রাজীব ভাইয়ের সমবয়েসী মনে হয়।

‘কে খোকা নাকি? ভিতরে এসো।’ দরোজা বন্ধ ক’রে সিদ্দিকাভাবী বললে, ‘অসুখ-বিসুখ ছিলো বুঝি?’

‘কই না তো?’

‘অনেকদিন এমুখো হওনি, তাই বলছি-‘

‘সময় পাইনি।’

‘চাকরি-বাকরিতে ঢুকে পড়েছো বুঝি?’

‘কই আর ”

‘বোনটাকে তো একবারও নিয়ে এলে না?’

‘আনবো আনবো ক’রে হ’য়ে ওঠে না আর কি!’

‘হবেও না কোনোদিন, তোমরা সব এক রসুনের গোড়া।’

একটা টুলের উপর টেবিলফ্যান চড়িয়ে সেটাকে চালিয়ে দিলো সিদ্দিকাভাবী। কাজের ভিতর থেকে কথা বলাটা সিদ্দিকাভাবীর পুরানো অভ্যেস; নিছক কথার প্রয়োজনে কখনও সময় খরচ করতে চায় না। খাটের তলা থেকে একটা পিকদান টেনে বের করতে করতে কিছুক্ষণ পর বললে, ‘খেয়েছো?’

‘হ্যাঁ।’

‘সত্যি তো?’

‘হ্যাঁ, সোজা বাড়ি থেকেই আপনাদের এখানে আসছি।’

‘বোসো তা’হলে, তোমার নীলাভাবী কুয়োতলায়’ উঠোনের দিকের দরোজার পর্দাটা ভালো ক’রে টেনে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চ’লে যায় সিদ্দিকাভাবী। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে খোকা। সিদ্দিকাভাবীর সামনে সবসময় সন্ত্রস্ত থাকে সে, মনে হয় অতি অল্পকালের মধ্যেই তাকে শিউরে উঠতে হবে। এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় হাঁড়ির ভাত টিপছে, তারপর মাড় গালবে।

 

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)