১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা, বিপাকে পাহাড়ি জনপদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩, নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু অঘোষিত সম্পদ বৈধ করার নতুন সুযোগ, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ করের প্রস্তাব শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তার মঞ্চ নাকি জাতির আত্মসমালোচনার সময়? বগুড়ায় এসআইকে কুপিয়ে মামলার নথি ছিনতাই, তদন্তে পুলিশ মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে, ইরান যুদ্ধের জ্বালানি ধাক্কায় বাড়ছে মার্কিন অর্থনীতির চাপ ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শক্তির সংজ্ঞা যদি পুরুষতন্ত্র লিখে দেয়, তবে নারীরা জিতবে কীভাবে? নতুন বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকার লড়াই: প্রযুক্তি, জ্ঞান ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের সময়

জীবন আমার বোন (পর্ব-১১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
  • 115

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

ভিতরের সব ঝনৎকার থেমে যায় এক সময়, খোকা বললে, ‘ব্যাস ব্যাস, থামো থামো মিউজিক কলেজের কাছে নেমে গেল খোকা।

কিছুক্ষণ কড়া নাড়ানাড়ির পর দরোজা খুলে দিলো সিদ্দিকাভাবী, নীলাভাবীর সতীন। বয়েস গড়িয়েছে ঢের, প্রায় রাজীব ভাইয়ের সমবয়েসী মনে হয়।

‘কে খোকা নাকি? ভিতরে এসো।’ দরোজা বন্ধ ক’রে সিদ্দিকাভাবী বললে, ‘অসুখ-বিসুখ ছিলো বুঝি?’

‘কই না তো?’

‘অনেকদিন এমুখো হওনি, তাই বলছি-‘

‘সময় পাইনি।’

‘চাকরি-বাকরিতে ঢুকে পড়েছো বুঝি?’

‘কই আর ”

‘বোনটাকে তো একবারও নিয়ে এলে না?’

‘আনবো আনবো ক’রে হ’য়ে ওঠে না আর কি!’

‘হবেও না কোনোদিন, তোমরা সব এক রসুনের গোড়া।’

একটা টুলের উপর টেবিলফ্যান চড়িয়ে সেটাকে চালিয়ে দিলো সিদ্দিকাভাবী। কাজের ভিতর থেকে কথা বলাটা সিদ্দিকাভাবীর পুরানো অভ্যেস; নিছক কথার প্রয়োজনে কখনও সময় খরচ করতে চায় না। খাটের তলা থেকে একটা পিকদান টেনে বের করতে করতে কিছুক্ষণ পর বললে, ‘খেয়েছো?’

‘হ্যাঁ।’

‘সত্যি তো?’

‘হ্যাঁ, সোজা বাড়ি থেকেই আপনাদের এখানে আসছি।’

‘বোসো তা’হলে, তোমার নীলাভাবী কুয়োতলায়’ উঠোনের দিকের দরোজার পর্দাটা ভালো ক’রে টেনে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চ’লে যায় সিদ্দিকাভাবী। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে খোকা। সিদ্দিকাভাবীর সামনে সবসময় সন্ত্রস্ত থাকে সে, মনে হয় অতি অল্পকালের মধ্যেই তাকে শিউরে উঠতে হবে। এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় হাঁড়ির ভাত টিপছে, তারপর মাড় গালবে।

 

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা, বিপাকে পাহাড়ি জনপদ

জীবন আমার বোন (পর্ব-১১)

১২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

ভিতরের সব ঝনৎকার থেমে যায় এক সময়, খোকা বললে, ‘ব্যাস ব্যাস, থামো থামো মিউজিক কলেজের কাছে নেমে গেল খোকা।

কিছুক্ষণ কড়া নাড়ানাড়ির পর দরোজা খুলে দিলো সিদ্দিকাভাবী, নীলাভাবীর সতীন। বয়েস গড়িয়েছে ঢের, প্রায় রাজীব ভাইয়ের সমবয়েসী মনে হয়।

‘কে খোকা নাকি? ভিতরে এসো।’ দরোজা বন্ধ ক’রে সিদ্দিকাভাবী বললে, ‘অসুখ-বিসুখ ছিলো বুঝি?’

‘কই না তো?’

‘অনেকদিন এমুখো হওনি, তাই বলছি-‘

‘সময় পাইনি।’

‘চাকরি-বাকরিতে ঢুকে পড়েছো বুঝি?’

‘কই আর ”

‘বোনটাকে তো একবারও নিয়ে এলে না?’

‘আনবো আনবো ক’রে হ’য়ে ওঠে না আর কি!’

‘হবেও না কোনোদিন, তোমরা সব এক রসুনের গোড়া।’

একটা টুলের উপর টেবিলফ্যান চড়িয়ে সেটাকে চালিয়ে দিলো সিদ্দিকাভাবী। কাজের ভিতর থেকে কথা বলাটা সিদ্দিকাভাবীর পুরানো অভ্যেস; নিছক কথার প্রয়োজনে কখনও সময় খরচ করতে চায় না। খাটের তলা থেকে একটা পিকদান টেনে বের করতে করতে কিছুক্ষণ পর বললে, ‘খেয়েছো?’

‘হ্যাঁ।’

‘সত্যি তো?’

‘হ্যাঁ, সোজা বাড়ি থেকেই আপনাদের এখানে আসছি।’

‘বোসো তা’হলে, তোমার নীলাভাবী কুয়োতলায়’ উঠোনের দিকের দরোজার পর্দাটা ভালো ক’রে টেনে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চ’লে যায় সিদ্দিকাভাবী। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে খোকা। সিদ্দিকাভাবীর সামনে সবসময় সন্ত্রস্ত থাকে সে, মনে হয় অতি অল্পকালের মধ্যেই তাকে শিউরে উঠতে হবে। এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় হাঁড়ির ভাত টিপছে, তারপর মাড় গালবে।

 

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)

জীবন আমার বোন (পর্ব-১০)