রাজধানীর এক হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানা বিদ্রোহে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ রাইফেলসের ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহাল করা হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই বাহিনীর নাম ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
পিলখানা ট্র্যাজেডি ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ
তারেক রহমান বলেন, পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বহু সেনা কর্মকর্তা শহীদ হওয়ার পর পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তি বিডিআরের নাম বদলে দেয় এবং বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকও পরিবর্তন করা হয়। জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার বহনকারী বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা শহীদ দিবস’ অথবা জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার বিষয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও জানান, যাতে ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি আর না ঘটে।

নিরাপত্তা কাঠামো ও সংস্কারের পরিকল্পনা
সভায় অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন এবং সেনা আইনের কিছু ধারা সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তারেক রহমান বলেন, এসব সুপারিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পে’ নীতি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে আবেগ ও পারিবারিক স্মৃতি
বক্তব্যের শুরুতে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর ও তাঁর পরিবারের আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। শৈশবে সেনানিবাসের পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গর্ব প্রকাশ করে বলেন, গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষও এই গর্ব ভাগ করে নেয়।
সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা
তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে জনগণ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসেবে দেখে। অতীত পনেরো বছরে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না—সে প্রশ্নও তিনি তোলেন, বিশেষ করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে। তাঁর ভাষ্য, সেনাবাহিনীর সম্মান কথায় নয়, কর্মের মাধ্যমে রক্ষা করতে হয়।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেনাবাহিনীকে কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব অটুট রাখতে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সভার পরিবেশ ও অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় শহীদ সেনা সদস্য, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে তারেক রহমান উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সভায় পিলখানায় নিহত তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের পুত্রসহ কয়েকজন বক্তা গত পনেরো বছরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ডা. জোবাইদা রহমান ও জ্যেষ্ঠ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা ও উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















