০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

জেমস কনোলি: এডিনবরার সন্তান থেকে আইরিশ বিদ্রোহের সমাজতান্ত্রিক মুখ

ইতিহাসের পাতায় জেমস কনোলি এমন এক নাম, যিনি একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের নেতা, সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের সাহসী যোদ্ধা। ১৮৬৮ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্ম নেওয়া এই মানুষটি শেষ পর্যন্ত আইরিশ স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠেন।

শিকড় স্কটল্যান্ডে, পরিচয় আইরিশ আন্দোলনে

অনেকেই কনোলিকে শুধুই আইরিশ নেতা হিসেবে মনে করেন। কিন্তু তার জন্ম এডিনবরার অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট দেখেই বড় হয়েছেন তিনি। তরুণ বয়সে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্কটিশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং স্থানীয় নির্বাচনে অংশও নেন।

পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে যান কনোলি। সেখানে শ্রমিক সংগঠনের পূর্ণকালীন সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে তার সংগ্রাম আন্তর্জাতিক মাত্রা পায়।

The Easter Rising and the Soviet Union: an untold chapter in Ireland's  great rebellion | openDemocracy

ইস্টার বিদ্রোহে সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি

১৯১৬ সালের ইস্টার বিদ্রোহে কনোলির অংশগ্রহণ তাকে ইতিহাসে স্থায়ী করে তোলে। ডাবলিনে সংঘটিত এই বিদ্রোহে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ একত্রিত হলেও কনোলি সেখানে সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উপস্থিত হন। অন্য অনেক নেতা যেখানে জাতীয়তাবাদী আবেগে অনুপ্রাণিত, সেখানে কনোলির লক্ষ্য ছিল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

তার এই অবস্থান বিদ্রোহকে এক নতুন মাত্রা দেয়, যেখানে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গেও যুক্ত হয়।

সাহসের শেষ অধ্যায়

ইস্টার বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ বাহিনী কনোলিকে গ্রেপ্তার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি দাঁড়াতে পারছিলেন না। তার পায়ে গুলির আঘাত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবুও তাকে একটি চেয়ারে বেঁধে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করানো হয় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

The Easter Rising of 1916 - The Irish Place

তার এই দৃঢ়তা ও মৃত্যুকে নির্ভয়ে গ্রহণ করার ঘটনা তাকে এক অনন্য সাহসী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, ব্রিটিশদের এই কঠোর প্রতিক্রিয়াই পরবর্তীতে আইরিশ স্বাধীনতা যুদ্ধের পথ তৈরি করে।

স্বীকৃতির অভাব ও উত্তরাধিকার

এডিনবরায় কনোলির স্মরণে খুবই সামান্য একটি ফলক রয়েছে, যা অনেকের মতে তার অবদানের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তবুও তার জীবন ও আদর্শ আজও সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

তিনি শুধু একজন বিপ্লবী ছিলেন না, বরং নিজের বিশ্বাসের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত এক সংগ্রামী মানুষ। তার জীবনের পথ দেখায়, আদর্শের জন্য লড়াই কতটা গভীর ও ব্যক্তিগত হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

জেমস কনোলি: এডিনবরার সন্তান থেকে আইরিশ বিদ্রোহের সমাজতান্ত্রিক মুখ

০১:৩৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় জেমস কনোলি এমন এক নাম, যিনি একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের নেতা, সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের সাহসী যোদ্ধা। ১৮৬৮ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্ম নেওয়া এই মানুষটি শেষ পর্যন্ত আইরিশ স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠেন।

শিকড় স্কটল্যান্ডে, পরিচয় আইরিশ আন্দোলনে

অনেকেই কনোলিকে শুধুই আইরিশ নেতা হিসেবে মনে করেন। কিন্তু তার জন্ম এডিনবরার অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট দেখেই বড় হয়েছেন তিনি। তরুণ বয়সে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্কটিশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং স্থানীয় নির্বাচনে অংশও নেন।

পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে যান কনোলি। সেখানে শ্রমিক সংগঠনের পূর্ণকালীন সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে তার সংগ্রাম আন্তর্জাতিক মাত্রা পায়।

The Easter Rising and the Soviet Union: an untold chapter in Ireland's  great rebellion | openDemocracy

ইস্টার বিদ্রোহে সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি

১৯১৬ সালের ইস্টার বিদ্রোহে কনোলির অংশগ্রহণ তাকে ইতিহাসে স্থায়ী করে তোলে। ডাবলিনে সংঘটিত এই বিদ্রোহে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ একত্রিত হলেও কনোলি সেখানে সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উপস্থিত হন। অন্য অনেক নেতা যেখানে জাতীয়তাবাদী আবেগে অনুপ্রাণিত, সেখানে কনোলির লক্ষ্য ছিল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

তার এই অবস্থান বিদ্রোহকে এক নতুন মাত্রা দেয়, যেখানে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গেও যুক্ত হয়।

সাহসের শেষ অধ্যায়

ইস্টার বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ বাহিনী কনোলিকে গ্রেপ্তার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি দাঁড়াতে পারছিলেন না। তার পায়ে গুলির আঘাত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবুও তাকে একটি চেয়ারে বেঁধে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করানো হয় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

The Easter Rising of 1916 - The Irish Place

তার এই দৃঢ়তা ও মৃত্যুকে নির্ভয়ে গ্রহণ করার ঘটনা তাকে এক অনন্য সাহসী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, ব্রিটিশদের এই কঠোর প্রতিক্রিয়াই পরবর্তীতে আইরিশ স্বাধীনতা যুদ্ধের পথ তৈরি করে।

স্বীকৃতির অভাব ও উত্তরাধিকার

এডিনবরায় কনোলির স্মরণে খুবই সামান্য একটি ফলক রয়েছে, যা অনেকের মতে তার অবদানের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তবুও তার জীবন ও আদর্শ আজও সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

তিনি শুধু একজন বিপ্লবী ছিলেন না, বরং নিজের বিশ্বাসের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত এক সংগ্রামী মানুষ। তার জীবনের পথ দেখায়, আদর্শের জন্য লড়াই কতটা গভীর ও ব্যক্তিগত হতে পারে।