বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বুধবার সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৫.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি চাপ থাকলেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখছে।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) মার্চ মাসেই মাত্র দশটি তেল চালানে অতিরিক্ত এক হাজার দুইশো কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তারপরও রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়নের উপরে থাকা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার ইতিবাচক সংকেত।
রেমিট্যান্সই মূল চালিকাশক্তি
চলতি বছরের মার্চে মাসিক রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনেই এসেছে ২.১২ বিলিয়ন ডলার। ডলারের বিপরীতে টাকার দর কিছুটা উঁচুতে থাকায় প্রবাসীরা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন — যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখছে।
আইএমএফ পদ্ধতিতে হিসাব
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ ৩০.২০ বিলিয়ন ডলার, যা মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৩০ বিলিয়নের মাইলফলক পার করেছে। মোট রিজার্ভ এখন ৩৫.১৩ বিলিয়ন।
সামনের চ্যালেঞ্জ
অর্থনীতিবিদরা বলছেন রিজার্ভের চিত্র আপাতত সন্তোষজনক হলেও হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় আরও বাড়বে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান যদি হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে রেমিট্যান্সে বড় ধরনের পতন আসতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















