০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও বেলুচ বিদ্রোহে ঝুঁকিতে আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের খনি প্রকল্প

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বাড়তে থাকা সশস্ত্র বিদ্রোহ এখন শুধু নিরাপত্তা নয়, দেশের বড় অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে গড়ে ওঠা বিলিয়ন ডলারের খনি প্রকল্প রেকো ডিক এখন এই সহিংসতার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

বিদ্রোহের তীব্রতা ও বড় হামলা

বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চালিয়ে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হামলার ধরন ও ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে প্রায় ৫০০ সশস্ত্র জঙ্গি বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত হামলা চালায়। অন্তত ১৮টি স্থানে আঘাত হানা এই হামলায় ৫৮ জন নিহত হন, যার মধ্যে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দু’পক্ষই ছিল।

হামলাগুলো শুধু সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাংক, পুলিশ স্টেশন, আদালত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমনকি আত্মঘাতী হামলাও চালানো হয়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

খনি প্রকল্পে বড় ধাক্কা

এই হামলার প্রভাব সরাসরি পড়েছে রেকো ডিক খনি প্রকল্পে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ও তামার ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৩ মিলিয়ন টন তামা ও ১৭ মিলিয়ন আউন্স স্বর্ণ মজুদের সম্ভাবনা থাকা এই প্রকল্প আগামী কয়েক দশকে বিশাল অর্থনৈতিক সুফল দিতে পারে।

কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে খনির কাজ ধীরগতিতে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামলার পর কয়েকদিন খনিতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ ছিল, ফলে কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক ও ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এবং হাজারো কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলা এই অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলছে।

এছাড়া পাশের ইরান অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে সীমান্ত এলাকা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা জঙ্গিদের চলাচল ও হামলার সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।

Pakistan says it has killed 145 'Indian-backed terrorists' in Balochistan  after deadly attacks | Euronews

বিদ্রোহের পেছনের কারণ

বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু দরিদ্রতম প্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার জনগণের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় তাদের কাছে পৌঁছায় না। উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কম থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।

এই ক্ষোভ থেকেই অনেক তরুণ শিক্ষিত বেলুচ যুবক বিদ্রোহে যোগ দিচ্ছেন। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ও বিদেশি কোম্পানিগুলো অঞ্চলটির সম্পদ ব্যবহার করছে, কিন্তু স্থানীয় মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না।

সহিংসতা ও মানবিক সংকট

বিদ্রোহ দমনে সরকারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তা অভিযান, গ্রেপ্তার ও নিখোঁজের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক মানুষ বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন।

এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হামলায় পরিবার হারানো, বাস্তুচ্যুতি এবং ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন এখন অনেকের দৈনন্দিন বাস্তবতা।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সমাধান ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা না গেলে বিদ্রোহ আরও জোরালো হতে পারে। আর তাতে পাকিস্তানের বড় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও বেলুচ বিদ্রোহে ঝুঁকিতে আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের খনি প্রকল্প

০৮:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বাড়তে থাকা সশস্ত্র বিদ্রোহ এখন শুধু নিরাপত্তা নয়, দেশের বড় অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে গড়ে ওঠা বিলিয়ন ডলারের খনি প্রকল্প রেকো ডিক এখন এই সহিংসতার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

বিদ্রোহের তীব্রতা ও বড় হামলা

বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চালিয়ে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হামলার ধরন ও ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে প্রায় ৫০০ সশস্ত্র জঙ্গি বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত হামলা চালায়। অন্তত ১৮টি স্থানে আঘাত হানা এই হামলায় ৫৮ জন নিহত হন, যার মধ্যে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দু’পক্ষই ছিল।

হামলাগুলো শুধু সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাংক, পুলিশ স্টেশন, আদালত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমনকি আত্মঘাতী হামলাও চালানো হয়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

খনি প্রকল্পে বড় ধাক্কা

এই হামলার প্রভাব সরাসরি পড়েছে রেকো ডিক খনি প্রকল্পে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ও তামার ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৩ মিলিয়ন টন তামা ও ১৭ মিলিয়ন আউন্স স্বর্ণ মজুদের সম্ভাবনা থাকা এই প্রকল্প আগামী কয়েক দশকে বিশাল অর্থনৈতিক সুফল দিতে পারে।

কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে খনির কাজ ধীরগতিতে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামলার পর কয়েকদিন খনিতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ ছিল, ফলে কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক ও ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এবং হাজারো কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলা এই অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলছে।

এছাড়া পাশের ইরান অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে সীমান্ত এলাকা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা জঙ্গিদের চলাচল ও হামলার সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।

Pakistan says it has killed 145 'Indian-backed terrorists' in Balochistan  after deadly attacks | Euronews

বিদ্রোহের পেছনের কারণ

বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু দরিদ্রতম প্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার জনগণের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় তাদের কাছে পৌঁছায় না। উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কম থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।

এই ক্ষোভ থেকেই অনেক তরুণ শিক্ষিত বেলুচ যুবক বিদ্রোহে যোগ দিচ্ছেন। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ও বিদেশি কোম্পানিগুলো অঞ্চলটির সম্পদ ব্যবহার করছে, কিন্তু স্থানীয় মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না।

সহিংসতা ও মানবিক সংকট

বিদ্রোহ দমনে সরকারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তা অভিযান, গ্রেপ্তার ও নিখোঁজের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক মানুষ বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন।

এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হামলায় পরিবার হারানো, বাস্তুচ্যুতি এবং ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন এখন অনেকের দৈনন্দিন বাস্তবতা।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সমাধান ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা না গেলে বিদ্রোহ আরও জোরালো হতে পারে। আর তাতে পাকিস্তানের বড় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।