দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক গড়েছে রামপালের মৈত্রী সুপার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। চলতি বছরের এপ্রিলে এই কেন্দ্র থেকে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, যা এক মাসে কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাসজুড়ে উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শুধু এপ্রিল মাসেই জাতীয় উৎপাদনের ৯ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে রামপাল কেন্দ্র, যা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এটি নতুন কোনো একক সাফল্য নয়। এর আগে এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি উৎপাদনের মাইলফলক ইতোমধ্যে পাঁচবার অতিক্রম করেছে এই কেন্দ্র। ফলে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ উৎপাদন ধরে রাখার ক্ষেত্রে কেন্দ্রটির সক্ষমতা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
তাপপ্রবাহে বাড়তি চাহিদা সামাল
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দেশে তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই সময়ে কেন্দ্রটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই সময় প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর প্রায় ৯৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীলতা
উচ্চ চাহিদার সময় রামপাল কেন্দ্রের এই উৎপাদন জাতীয় গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে গরমের সময় যখন বিদ্যুতের চাপ বাড়ে, তখন কেন্দ্রটির এমন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর হয়ে ওঠে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্র পরিচালনা করা এর শক্তিশালী নকশা এবং কর্মীদের দক্ষতার প্রতিফলন। এই সাফল্য ভবিষ্যতেও উৎপাদন ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
দেশের বিদ্যুৎ খাতে অবদান
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিয়মিত উচ্চ উৎপাদন এবং চাহিদার সময় কার্যকর সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রটি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে এপ্রিলে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিট উৎপাদন, জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে ৯ শতাংশের বেশি অবদান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















