পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার গারগান্ডা চা বাগানের নারী শ্রমিকরা এখন নিজেদের ভাগ্য বদলাতে নতুন পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, অনিয়মিত মজুরি আর সরকারি সহায়তার অভাব তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
জীবনযুদ্ধ আর অনিশ্চয়তা
গারগান্ডা চা বাগানের শ্রমিক গুঞ্জন নাইকের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বাসন্তী নাইক এখন প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করছেন খাদ্য সহায়তার উপর। ৫১ বছর বয়সী বাসন্তী নিজেও একজন শ্রমিক, কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে পারছেন না। বাগানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হওয়ায় শ্রমিকরা বন্ধ শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সহায়তাও পাচ্ছেন না। তাঁর একমাত্র নগদ আয় রাজ্য সরকারের একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ।
নারীদের নতুন সিদ্ধান্ত
এই পরিস্থিতিতে বাগানের অনেক নারী শ্রমিক নিজেরাই উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন দাবি জানানো হলেও কোনও ফল না পাওয়ায় এখন নিজেরাই সমবায় গড়ে তুলে বাগান পরিচালনা করতে চান। তাদের বিশ্বাস, সংগঠিতভাবে কাজ করলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ বদলাতে পারবেন।
ভোট রাজনীতিতে চা বাগান
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে চা বাগান শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে উঠে এসেছে। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং—এই তিন জেলায় প্রায় ২০টি আসনে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে এই শ্রমিকদের ভূমিকা বড়।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শ্রমিকদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। একদিকে দৈনিক মজুরি বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সমবায়ের সফল উদাহরণ
আলিপুরদুয়ারের কালচিনি এলাকার মধু চা বাগান একটি সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত সমবায় বাগান চালাচ্ছে। মালিক হঠাৎ বাগান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর প্রায় ২৫০ জন শ্রমিক নিজেরাই দায়িত্ব নেয়। তাদের মতে, ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ সফল হবে এবং তারা এমন প্রার্থীকেই ভোট দেবেন, যিনি এই ধরনের সমবায়কে সমর্থন করবেন।
অপুষ্টি ও বঞ্চনার বাস্তবতা
তবে এই সাফল্যের মাঝেও চা বাগানগুলিতে অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। মধু চা বাগানের এক শ্রমিক অপুষ্টির কারণে মারা যান, অথচ তাঁর পরিবার প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এই ঘটনা শ্রমিকদের দুর্দশার গভীরতা আরও স্পষ্ট করে।
নির্বাচনের আগে যোগাযোগ
নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। মজুরি বকেয়া, প্রভিডেন্ট ফান্ডের সমস্যা—এসব বিষয় নিয়ে শ্রমিকদের দাবি শুনছেন তারা। কিন্তু শ্রমিকদের আশা, এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পরিবর্তন ঘটবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















