০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায় এশিয়ার মনস্তত্ত্ব বদলে দিচ্ছে ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া সরে গেলে কার দিকে ঝুঁকবে অঞ্চল? কোপাকাবানায় ইতিহাস: শাকিরার ফ্রি কনসার্টে দুই মিলিয়নের ঢল, ব্রাজিল কাঁপাল ল্যাটিন সুর পশ্চিমবঙ্গের ফলতা আসনে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ, ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজে বড় বিনিয়োগ: সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে এডিবির নতুন তহবিল ব্লন্ডির জন্মকথা: নিউইয়র্কের ভাঙাচোরা শহরেই গড়ে ওঠা এক সঙ্গীত বিপ্লব রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড উৎপাদন, এপ্রিলে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিট ছাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বড় অবদান সহজ হচ্ছে না ‘আল্ট্রাপ্রসেসড’ খাবারের সংজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যশিল্প পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও বেলুচ বিদ্রোহে ঝুঁকিতে আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের খনি প্রকল্প সন্ত্রাসীদের ২৭ হামলার মাঝেও চলছে পাকিস্তানের জাফফার এক্সপ্রেস

ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ, ভস্মীভূত গ্রাম আর লাখো মুসলিম ঘরছাড়া

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে একের পর এক গ্রাম এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে পুরো এলাকা জুড়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা অনেকের কাছে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি বলেই মনে হচ্ছে। বসতবাড়ি, দোকান, এমনকি জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত সীমান্ত গ্রাম
সীমান্তের কাছে অবস্থিত বহু গ্রামে দেখা গেছে, পুরো রাস্তা মুছে গেছে মানচিত্র থেকে। এক সময়ের জনবহুল বাজার, বাড়িঘর এখন কেবল ধূসর ধ্বংসস্তূপ। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে ব্যাপক ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য জীবনযাত্রা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। অনেক জায়গায় স্কুল, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা
এই সংঘাতের ফলে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছেন। তারা নিজেদের জীবনের সঞ্চিত সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। পরিবারগুলো এখন শুধুমাত্র নিরাপদ আশ্রয় আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে ব্যস্ত।

সংঘাতের পটভূমি
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ শুরু হয় মার্চের শুরুতে, যখন সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরপর সামরিক অভিযান আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা ভবিষ্যতেও ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি নিয়ে বিতর্ক
ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এ ধরনের হামলার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের মানবিক মূল্য
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। আহতদের সংখ্যা আরও বেশি। যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গাজা-প্যাটার্নের পুনরাবৃত্তি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যাচ্ছে, তা গাজায় ব্যবহৃত কৌশলের সঙ্গে অনেকাংশে মিল রয়েছে। পরিকল্পিত বিস্ফোরণ, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া—এসব কৌশল একই ধরণের ধ্বংসের চিত্র তৈরি করছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বর্তমানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তারা কবে আবার নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝে পড়ে থাকা স্মৃতিগুলোই এখন তাদের একমাত্র অবলম্বন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ, ভস্মীভূত গ্রাম আর লাখো মুসলিম ঘরছাড়া

০৭:০০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে একের পর এক গ্রাম এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে পুরো এলাকা জুড়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা অনেকের কাছে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি বলেই মনে হচ্ছে। বসতবাড়ি, দোকান, এমনকি জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত সীমান্ত গ্রাম
সীমান্তের কাছে অবস্থিত বহু গ্রামে দেখা গেছে, পুরো রাস্তা মুছে গেছে মানচিত্র থেকে। এক সময়ের জনবহুল বাজার, বাড়িঘর এখন কেবল ধূসর ধ্বংসস্তূপ। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে ব্যাপক ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য জীবনযাত্রা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। অনেক জায়গায় স্কুল, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা
এই সংঘাতের ফলে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছেন। তারা নিজেদের জীবনের সঞ্চিত সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। পরিবারগুলো এখন শুধুমাত্র নিরাপদ আশ্রয় আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে ব্যস্ত।

সংঘাতের পটভূমি
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ শুরু হয় মার্চের শুরুতে, যখন সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরপর সামরিক অভিযান আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা ভবিষ্যতেও ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি নিয়ে বিতর্ক
ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এ ধরনের হামলার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের মানবিক মূল্য
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। আহতদের সংখ্যা আরও বেশি। যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গাজা-প্যাটার্নের পুনরাবৃত্তি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যাচ্ছে, তা গাজায় ব্যবহৃত কৌশলের সঙ্গে অনেকাংশে মিল রয়েছে। পরিকল্পিত বিস্ফোরণ, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া—এসব কৌশল একই ধরণের ধ্বংসের চিত্র তৈরি করছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বর্তমানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তারা কবে আবার নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝে পড়ে থাকা স্মৃতিগুলোই এখন তাদের একমাত্র অবলম্বন।