সমকালের একটি শিরোনাম “শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন। রোববার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নব-নির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।
গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন (এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম বাদে, তিনি ১৯ মিনিট পর মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন)। এদের মধ্যে বিএনপি জোটে ৩৬ জন বৈধ প্রার্থী, জামায়াত জোটের ১২ জন বৈধ প্রার্থী ও স্বতন্ত্রদের জোটের এক বৈধ প্রার্থীরসহ মোট ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে তাদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”অপরাধীরা বেপরোয়া, পুলিশে অস্বস্তি অভিযান নিয়ে”
অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযানে পুলিশের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। অপরাধীরা এবং গ্রেপ্তার আসামির সহযোগী-সমর্থকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালাচ্ছে। এ কারণে অভিযান চালানো নিয়ে পুলিশের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে।
অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের কিছুদিনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অপরাধীদের মধ্যে যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়েছিল, তা রয়ে গেছে। অপরাধীদের এমন আচরণের ক্ষেত্রে ‘মব সংস্কৃতির’ও দায় রয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ বাহিনী আগের মতো কঠোর ভূমিকায় যেতে না পারায় অপরাধীরা সেই সুযোগ নিচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে হারানো মনোবল এখনো পুরোপুরি ফিরে পাননি অনেক পুলিশ সদস্য। এটিও পুলিশের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে।
সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে। একদিকে মনোবল হারানো পুলিশ বাহিনী, অন্যদিকে অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণ—এ দুইয়ের মাঝেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে যাওয়া পুলিশ দলের ওপর হামলার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের পুরান বন্দরে ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্তে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় সংঘবদ্ধ ১০-১৫ জন। তারা দুই পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে একটি শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অবশ্য শটগানটি চার ঘণ্টা পর পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “দেশের আমদানি-রফতানি দুই খাতেই মন্দা”
এ খাতের সবচেয়ে বড় পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। রফতানির শীর্ষ পাঁচের অন্যতম কৃষিজ পণ্যের কমেছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
রফতানির পাশাপাশি আমদানিতেও মন্দা ভাব বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমেছে দশমিক ১৯ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা কমেছে ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, শিল্প কাঁচামালের ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলা কমেছে ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, আমদানি ও রফতানি উভয় খাতেই নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে, যা দেশের অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ইপিবির তথ্য অনুযায়ী ১০ মাসে মোট পণ্য রফতানি কমে যাওয়াটা শুধু একটি সংখ্যাগত পতন নয়; এটি দেশের অর্থনীতিতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের প্রতিফলন। বৈশ্বিক মন্দা ভাব, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে চাহিদা হ্রাস প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাককে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের বাজারে অস্থিরতা উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। ফলে দেশের রফতানিমুখী শিল্পগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
মানবজমিনের একটি শিরোন “হতাশায় বিএনপি’র বঞ্চিত ত্যাগীরা”
দল এবং সরকারে পদ-পদবি না পাওয়া বিএনপি’র ত্যাগী অনেক নেতা হতাশায় ভুগছেন। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া, দলীয় কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতাদের কেউ কেউ রাজনীতি নিয়েও ভিন্ন চিন্তা করছেন। এ ছাড়া দল এবং সরকারের দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের সঙ্গে দূরত্বের কারণেও কেউ কেউ হতাশ। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ প্রয়োজনের সময় এখন অনেককে পাওয়া যায় না।
তারা বলছেন, দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও সরকারে দায়িত্ব নেয়া নেতারা নিয়মিত নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ রাখলে, তাদের খোঁজখবর নিলে এই সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে। এজন্য নেতা ও মন্ত্রীদের দলীয় কার্যালয়ে বসার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এমন দাবি থেকে মন্ত্রীদের দলীয় কার্যালয়ে বসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই নির্দেশনা খুব একটা মানা হচ্ছে না। দলীয় কার্যালয়ে মন্ত্রীদের না পাওয়ায় অনেকে বিভিন্ন দাবি ও প্রয়োজন নিয়ে সচিবালয়ে ছুটছেন।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিয়তই যেভাবে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দল সংকটে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে কেবল দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাই তৈরি হবে না, বরং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করার কারণে দলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি একটি বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 















