১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
চীনে বই পড়ার নতুন অভিযান: মোবাইল ছেড়ে পাঠে ফিরতে বলছে সরকার, কিন্তু স্বাধীনতা নিয়েই বড় প্রশ্ন চীনের ‘নিজস্ব পুলিশ কুকুর’ বিপ্লব: নিরাপত্তা থেকে জাতীয় গর্বে কুনমিংয়ের উত্থান হংকংয়ের অ্যান্টিক বাজারে লুকানো চীনের হারানো ঐতিহ্য, পাচারের অন্ধকার পথ উন্মোচন চীনের ক্ষমতার কেন্দ্রে কাই চি: শি জিনপিংয়ের ছায়াসঙ্গী নাকি ভবিষ্যতের উত্তরসূরি? আসাম ভোট ২০২৬: শুরুতেই চাপে বিরোধী শীর্ষ নেতারা, ফলাফলের আগে বাড়ছে জনমানসে উত্তেজনা আসামে ভোট গণনা শুরুতেই এগিয়ে বিজেপি, শর্মা ও গৌরব গগৈর লড়াইয়ে নজর কেরালায় ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত, ১৪০ আসনের লড়াইয়ে এগিয়ে কংগ্রেস জোট কলকাতায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, শুরুতেই সমানে সমান তৃণমূল-বিজেপি হাওরে আগাম বন্যার তাণ্ডব: ফসল হারিয়ে চোখের জলে ভাসছে ছাতকের কৃষক তামিলনাড়ু রাজনীতিতে নতুন ঝড়? বিজয়ের টিভিকে-র চমক, শুরুর ফলেই এগিয়ে ৪০-এর বেশি আসনে

বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে ব্যবহারকারী: আসক্তির নকশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করছে—সাম্প্রতিক একাধিক তথ্য ও রায় সেই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নকশা এখন শুধু ব্যবহার সহজ করার জন্য নয়, বরং ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন অভিযোগ দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক এক মামলার রায়ে উঠে এসেছে, কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা চাইলে সহজে সরে আসতে না পারেন। বিশেষ করে কিশোরদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের বেশি সময় ধরে ধরে রাখার কৌশলই ছিল মূল লক্ষ্য।

আসক্তির নকশা কীভাবে কাজ করে

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে ব্যবহারকারীরা বারবার ফিরে আসতে বাধ্য হন। অসীম স্ক্রল, অনিশ্চিতভাবে কনটেন্ট দেখানো, কিংবা বারবার রিফ্রেশ করার অভ্যাস—এসবই মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে তৈরি। এর ফলে ব্যবহারকারীরা অনেক সময় বুঝেও বের হতে পারেন না, তবুও থেকে যান।

Digital Platforms: What They Are & How They Create Value

 

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মস্তিষ্কে পুরস্কার পাওয়ার অনিশ্চয়তা যত বেশি থাকে, তত বেশি আগ্রহ তৈরি হয়। এই মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আটকে রাখে।

গোপন কৌশল ও বিভ্রান্তি

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল দেখা গেছে। অনেক সময় বড় আকর্ষণীয় বাটন দিয়ে ব্যবহারকারীকে একটি সেবায় যুক্ত করা হয়, আর সেখান থেকে বের হওয়ার পথ রাখা হয় জটিল ও অস্পষ্ট। এতে ব্যবহারকারীরা না বুঝেই বিভিন্ন সেবায় যুক্ত হয়ে পড়েন।

এ ধরনের কৌশলকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবহারকারীদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা, যা তারা স্বাভাবিকভাবে নিতেন না।

আইন ও নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান আইন কি যথেষ্ট? অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। নতুন কোনো ফিচার চালুর আগে সেটি ব্যবহারকারীর জন্য ক্ষতিকর কি না, তা প্রমাণের দায় কোম্পানির ওপরই থাকা উচিত।

5 Types of Digital Platforms to Drive Business Value - Blink

কারণ, এই প্রযুক্তিগুলো এখন শুধু বিনোদন বা যোগাযোগের মাধ্যম নয়, মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কোথায়

একটি সুস্থ বাজার ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু যখন প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করে, তখন সেই স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সময় এসেছে প্রযুক্তির নকশা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার—যেখানে ব্যবহারকারীর স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, শুধু ব্যবসায়িক লাভ নয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে বই পড়ার নতুন অভিযান: মোবাইল ছেড়ে পাঠে ফিরতে বলছে সরকার, কিন্তু স্বাধীনতা নিয়েই বড় প্রশ্ন

বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে ব্যবহারকারী: আসক্তির নকশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

১১:০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করছে—সাম্প্রতিক একাধিক তথ্য ও রায় সেই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নকশা এখন শুধু ব্যবহার সহজ করার জন্য নয়, বরং ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন অভিযোগ দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক এক মামলার রায়ে উঠে এসেছে, কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা চাইলে সহজে সরে আসতে না পারেন। বিশেষ করে কিশোরদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের বেশি সময় ধরে ধরে রাখার কৌশলই ছিল মূল লক্ষ্য।

আসক্তির নকশা কীভাবে কাজ করে

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে ব্যবহারকারীরা বারবার ফিরে আসতে বাধ্য হন। অসীম স্ক্রল, অনিশ্চিতভাবে কনটেন্ট দেখানো, কিংবা বারবার রিফ্রেশ করার অভ্যাস—এসবই মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে তৈরি। এর ফলে ব্যবহারকারীরা অনেক সময় বুঝেও বের হতে পারেন না, তবুও থেকে যান।

Digital Platforms: What They Are & How They Create Value

 

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মস্তিষ্কে পুরস্কার পাওয়ার অনিশ্চয়তা যত বেশি থাকে, তত বেশি আগ্রহ তৈরি হয়। এই মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আটকে রাখে।

গোপন কৌশল ও বিভ্রান্তি

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল দেখা গেছে। অনেক সময় বড় আকর্ষণীয় বাটন দিয়ে ব্যবহারকারীকে একটি সেবায় যুক্ত করা হয়, আর সেখান থেকে বের হওয়ার পথ রাখা হয় জটিল ও অস্পষ্ট। এতে ব্যবহারকারীরা না বুঝেই বিভিন্ন সেবায় যুক্ত হয়ে পড়েন।

এ ধরনের কৌশলকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবহারকারীদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা, যা তারা স্বাভাবিকভাবে নিতেন না।

আইন ও নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান আইন কি যথেষ্ট? অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। নতুন কোনো ফিচার চালুর আগে সেটি ব্যবহারকারীর জন্য ক্ষতিকর কি না, তা প্রমাণের দায় কোম্পানির ওপরই থাকা উচিত।

5 Types of Digital Platforms to Drive Business Value - Blink

কারণ, এই প্রযুক্তিগুলো এখন শুধু বিনোদন বা যোগাযোগের মাধ্যম নয়, মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কোথায়

একটি সুস্থ বাজার ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু যখন প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করে, তখন সেই স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সময় এসেছে প্রযুক্তির নকশা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার—যেখানে ব্যবহারকারীর স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, শুধু ব্যবসায়িক লাভ নয়।