সাম্প্রতিক সংঘাতে ইউএইর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তি। স্থানীয়ভাবে তৈরি জ্যামার ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের পাঠানো বিপুল সংখ্যক ড্রোনের প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কর্মকর্তারা। এই সাফল্য শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নয়, বরং ইউএইর শিল্প সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার দিকটিও সামনে এনেছে।
সংঘাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চিত্র
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইউএইর দিকে হাজারের বেশি ড্রোন পাঠানো হয়। পাশাপাশি শত শত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়। এই পরিস্থিতিতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে তৈরি জ্যামার প্রযুক্তির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
)
নিজস্ব প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ
প্রতিরক্ষা খাতে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংঘাত ছিল বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের বড় পরীক্ষা। পূর্বে পরীক্ষাগার বা সীমিত পরিবেশে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবার সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়। এতে দেখা গেছে, দেশের ভেতরে তৈরি পণ্যই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সফলভাবে কাজ করতে সক্ষম।
দ্রুত উন্নয়ন, দ্রুত মোতায়েন
এই সংঘাতের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি। কিছু প্রতিরক্ষা পণ্য, যেগুলো আগে ছিল না, সেগুলো মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে তৈরি ও কার্যকর করা হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেসব প্রযুক্তি তৈরি করতে দুই বছর সময় লাগত, সেগুলো মাত্র ১৫ দিনে তৈরি করে আরও ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবহার শুরু করা হয়। এতে বোঝা গেছে, চাপের মধ্যে দেশের প্রযুক্তি খাত কত দ্রুত কাজ করতে পারে।
স্বনির্ভরতার পথে অগ্রগতি
বর্তমানে ইউএই দাবি করছে, সফট-কিল এয়ার ডিফেন্স বা জ্যামার প্রযুক্তিতে তারা পুরোপুরি স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে পুরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই দেশীয় প্রযুক্তির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে ইউএই পণ্যের চাহিদা
শুধু নিজস্ব নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ইউএইর প্রতিরক্ষা পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। কয়েক বছর আগে যেখানে আন্তর্জাতিক অর্ডার ছিল খুবই কম, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে মোট অর্ডারের বড় অংশই বিদেশ থেকে আসছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, দেশটির প্রযুক্তি এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশল
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএই সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করতে চায় না, বরং যেসব ক্ষেত্রে তারা দক্ষতা অর্জন করেছে, সেগুলোকেই আরও শক্তিশালী করতে চায়। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছরে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পুরো অভিজ্ঞতা ইউএইকে একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—নিজস্ব প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা থাকলে সংকটের সময় দ্রুত ও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















