১২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
ডাবল ডেনিমে চমক, মেট গালার আগে কনর স্টরির ফ্যাশন ঝলক রাজনৈতিক পরিচয়ের আগে পেশাগত পরিচয়ের আহ্বান: হতাশ মতিউর রহমান চৌধুরী মাগুরায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২২ বছরের তরুণীর সিলেটে হামসদৃশ উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্তের চাপ কুমিল্লার চান্দিনায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, স্বামীকে বেঁধে রেখে মুক্তিপণ দাবি সাদা ক্যানভাস জুতার প্রত্যাবর্তন, গ্রীষ্ম ২০২৬-এ ‘৯০ দশকের স্টাইলেই নতুন ট্রেন্ড ইতালির আইওলিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ভিন্ন স্বাদের ছুটি, নির্জনতা আর প্রকৃতির মোহে নতুন গন্তব্য মেট গালার আগে কোলম্যান ডোমিংগোর ঝলমলে পার্টি, নাচে-গানে জমে উঠল রাত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন অর্থনৈতিক সমীকরণ: পরিবর্তনের ঢেউয়ে চাপে পুরনো শক্তি ব্রেক্সিটের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও চাঙ্গা লন্ডনের আর্থিক খাত

ট্রাম্পের ছায়ায় ফেডের ভবিষ্যৎ: কেভিন ওয়ারশ কি বদলে দেবেন আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে সরাসরি ফেডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

রাজনৈতিক চাপ ও ফেডের স্বাধীনতা

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রেসিডেন্টের সরাসরি সমালোচনা, আইনি চাপ এবং প্রকাশ্য মন্তব্য ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবুও এখন পর্যন্ত এই চাপ খুব একটা কার্যকর হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

Trump Picks Kevin Warsh as Next Fed Chair - The New York Times

ওয়ারশের অবস্থান: কতটা পরিবর্তন আসবে?

কেভিন ওয়ারশকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং কিছুটা নমনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি ফেডে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবেন—এমনটা নিশ্চিত নয়। কারণ ফেডের সিদ্ধান্ত এককভাবে চেয়ারম্যানের হাতে থাকে না; বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের সমর্থন জরুরি।

ওয়ারশ নিজেও জানিয়েছেন, তিনি কর্মী পরিবর্তনের বদলে নীতিগত পরিবর্তনে বেশি আগ্রহী। এতে অনেকের উদ্বেগ কমেছে, কারণ আগে ধারণা ছিল তিনি হয়তো ফেডের আঞ্চলিক শাখাগুলোর নেতৃত্ব বদলে ফেলতে পারেন।

নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা

ওয়ারশের কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফেডের বিশাল ব্যালান্স শিট দ্রুত কমানোর উদ্যোগ। বর্তমানে এটি প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা অনেকের মতে অতিরিক্ত বড়।

তবে এই পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ বন্ড বিক্রি করলে সুদের হার বেড়ে যেতে পারে, যা অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে। সেই প্রভাব সামাল দিতে আবার স্বল্পমেয়াদি সুদের হার কমাতে হতে পারে।

ডলার কেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা

‘ফরওয়ার্ড গাইডেন্স’ নিয়ে সন্দেহ

ওয়ারশ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—ফরওয়ার্ড গাইডেন্স। এটি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগাম সুদের হার সম্পর্কে ধারণা দেয়। এর ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা থাকে। কিন্তু ওয়ারশ মনে করেন, এতে নীতিনির্ধারকরা অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতি বদলালেও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে দেরি করেন।

বাস্তব সীমাবদ্ধতা

যদিও এসব ধারণা আলোচনায় আছে, বাস্তবে ওয়ারশের ক্ষমতা সীমিত। সুদের হার নির্ধারণের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হলে ফেডের ১২ সদস্যের কমিটির মধ্যে অন্তত সাতজনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে এককভাবে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন।

বিশ্বের সেরা দশ ধনী কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সুদের হার আপাতত স্থির রাখার প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

ফেড কি আরও রাজনৈতিক হবে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ফেড কি আরও রাজনৈতিক হয়ে উঠবে? বিশ্লেষকদের মতে, যদি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নীতির সমালোচনা করতে থাকেন, তাহলে এটি নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করবে। এতে ফেডের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ওয়ারশ হয়তো বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবেন না, কিন্তু তার অবস্থান ও বক্তব্য ফেডকে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

ফেডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন চেয়ারম্যানের সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সামনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাবল ডেনিমে চমক, মেট গালার আগে কনর স্টরির ফ্যাশন ঝলক

ট্রাম্পের ছায়ায় ফেডের ভবিষ্যৎ: কেভিন ওয়ারশ কি বদলে দেবেন আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

১১:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে সরাসরি ফেডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

রাজনৈতিক চাপ ও ফেডের স্বাধীনতা

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রেসিডেন্টের সরাসরি সমালোচনা, আইনি চাপ এবং প্রকাশ্য মন্তব্য ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবুও এখন পর্যন্ত এই চাপ খুব একটা কার্যকর হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

Trump Picks Kevin Warsh as Next Fed Chair - The New York Times

ওয়ারশের অবস্থান: কতটা পরিবর্তন আসবে?

কেভিন ওয়ারশকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং কিছুটা নমনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি ফেডে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবেন—এমনটা নিশ্চিত নয়। কারণ ফেডের সিদ্ধান্ত এককভাবে চেয়ারম্যানের হাতে থাকে না; বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের সমর্থন জরুরি।

ওয়ারশ নিজেও জানিয়েছেন, তিনি কর্মী পরিবর্তনের বদলে নীতিগত পরিবর্তনে বেশি আগ্রহী। এতে অনেকের উদ্বেগ কমেছে, কারণ আগে ধারণা ছিল তিনি হয়তো ফেডের আঞ্চলিক শাখাগুলোর নেতৃত্ব বদলে ফেলতে পারেন।

নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা

ওয়ারশের কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফেডের বিশাল ব্যালান্স শিট দ্রুত কমানোর উদ্যোগ। বর্তমানে এটি প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা অনেকের মতে অতিরিক্ত বড়।

তবে এই পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ বন্ড বিক্রি করলে সুদের হার বেড়ে যেতে পারে, যা অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে। সেই প্রভাব সামাল দিতে আবার স্বল্পমেয়াদি সুদের হার কমাতে হতে পারে।

ডলার কেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা

‘ফরওয়ার্ড গাইডেন্স’ নিয়ে সন্দেহ

ওয়ারশ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—ফরওয়ার্ড গাইডেন্স। এটি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগাম সুদের হার সম্পর্কে ধারণা দেয়। এর ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা থাকে। কিন্তু ওয়ারশ মনে করেন, এতে নীতিনির্ধারকরা অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতি বদলালেও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে দেরি করেন।

বাস্তব সীমাবদ্ধতা

যদিও এসব ধারণা আলোচনায় আছে, বাস্তবে ওয়ারশের ক্ষমতা সীমিত। সুদের হার নির্ধারণের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হলে ফেডের ১২ সদস্যের কমিটির মধ্যে অন্তত সাতজনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে এককভাবে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন।

বিশ্বের সেরা দশ ধনী কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সুদের হার আপাতত স্থির রাখার প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

ফেড কি আরও রাজনৈতিক হবে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ফেড কি আরও রাজনৈতিক হয়ে উঠবে? বিশ্লেষকদের মতে, যদি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নীতির সমালোচনা করতে থাকেন, তাহলে এটি নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করবে। এতে ফেডের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ওয়ারশ হয়তো বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবেন না, কিন্তু তার অবস্থান ও বক্তব্য ফেডকে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

ফেডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন চেয়ারম্যানের সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সামনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।