১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
ডাবল ডেনিমে চমক, মেট গালার আগে কনর স্টরির ফ্যাশন ঝলক রাজনৈতিক পরিচয়ের আগে পেশাগত পরিচয়ের আহ্বান: হতাশ মতিউর রহমান চৌধুরী মাগুরায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২২ বছরের তরুণীর সিলেটে হামসদৃশ উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্তের চাপ কুমিল্লার চান্দিনায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, স্বামীকে বেঁধে রেখে মুক্তিপণ দাবি সাদা ক্যানভাস জুতার প্রত্যাবর্তন, গ্রীষ্ম ২০২৬-এ ‘৯০ দশকের স্টাইলেই নতুন ট্রেন্ড ইতালির আইওলিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ভিন্ন স্বাদের ছুটি, নির্জনতা আর প্রকৃতির মোহে নতুন গন্তব্য মেট গালার আগে কোলম্যান ডোমিংগোর ঝলমলে পার্টি, নাচে-গানে জমে উঠল রাত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন অর্থনৈতিক সমীকরণ: পরিবর্তনের ঢেউয়ে চাপে পুরনো শক্তি ব্রেক্সিটের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও চাঙ্গা লন্ডনের আর্থিক খাত

এআইতে ভরসা, নাকি মস্তিষ্কের আত্মসমর্পণ? কর্মক্ষেত্রে নতুন চিন্তার সংকট

ক্যালকুলেটর মানুষকে গণিত থেকে দূরে সরায়নি, জিপিএস চালকদের পথ চিনতে সাহায্য করেছে—প্রযুক্তির এই উদাহরণগুলো বহুদিন ধরেই আমাদের জীবনে সুবিধা এনে দিয়েছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আসার পর প্রশ্নটা নতুন করে সামনে এসেছে—মানুষ কি এখন নিজের চিন্তাশক্তি ছেড়ে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে?

প্রযুক্তির সুবিধা, কিন্তু ঝুঁকিও আছে

প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ সহজ হয়—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে গণনার গতি বাড়ে, জিপিএস ব্যবহার করলে পথ হারানোর ভয় কমে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এই সুবিধার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব দক্ষতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, ভুল ফলাফল দেওয়া হলেও অনেকেই ক্যালকুলেটরের উত্তর প্রশ্ন না করেই মেনে নিয়েছেন। একইভাবে, জিপিএস বেশি ব্যবহার করলে মানুষের স্থানিক স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে।

How to Use AI as a Manager

এআই: সুবিধা থেকে নির্ভরশীলতার দিকে

এই একই প্রবণতা এখন আরও তীব্রভাবে দেখা যাচ্ছে এআই ব্যবহারে। কারণ এআই শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজ করে না, বরং নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়, বিশ্লেষণ করে, এমনকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করে।

গবেষকরা এই প্রবণতাকে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা মানসিক আত্মসমর্পণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ, মানুষ ধীরে ধীরে নিজের চিন্তা করার দায়িত্ব পুরোপুরি প্রযুক্তির হাতে তুলে দিচ্ছে।

ভুল হলেও এআইকেই ভরসা

একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের এআই-এর সাহায্যে জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়। যখন এআই সঠিক উত্তর দিয়েছে, তখন ব্যবহারকারীরা ভালো ফল করেছেন। কিন্তু যখন ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে, তখন তারা নিজের বিচার না করে সেটিই মেনে নিয়েছেন এবং ফলাফল খারাপ হয়েছে।

এতে স্পষ্ট, অনেকেই এআই-এর ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন যে, নিজের চিন্তাশক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজনই অনুভব করছেন না।

8 in 10 employees say they need AI training — after their companies rolled  out the tools - AZ Big Media

 

কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে উদ্বেগ

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের এআই ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। এতে কাজের গতি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে সমালোচনামূলক চিন্তার অভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।

কারণ এআই এখনও ভুল করতে পারে। নতুন বা জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের নিজস্ব বিচারবোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সমাধান কী হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে কর্মীরা নিজেরা চিন্তা করতে উৎসাহ পায়।

যাদের চিন্তাশক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি, তারা এআই-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। পাশাপাশি সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রণোদনা ও নিয়মিত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হলে মানুষ এআই-এর ভুল ধরতে বেশি সক্ষম হয়।

Agentic AI, explained | MIT Sloan

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নির্দিষ্ট সময় এআই ছাড়া কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সবসময় এআই-এর সাহায্য নিতে পারে, তাদের শেখার অগ্রগতি তুলনামূলক কম হয়।

প্রযুক্তি সহায়ক, বিকল্প নয়

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের মত, প্রযুক্তি মানুষের সহায়ক হিসেবে থাকলেই সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু যদি মানুষ নিজের চিন্তার জায়গা ছেড়ে দেয়, তখনই সমস্যা তৈরি হয়।
অর্থাৎ, কাজের গতি বাড়াতে এআই দরকার, কিন্তু চিন্তার দায়িত্ব এখনো মানুষেরই।

এআই নির্ভরতা বাড়লেও চিন্তার ভার মানুষের হাতেই রাখতে হবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাবল ডেনিমে চমক, মেট গালার আগে কনর স্টরির ফ্যাশন ঝলক

এআইতে ভরসা, নাকি মস্তিষ্কের আত্মসমর্পণ? কর্মক্ষেত্রে নতুন চিন্তার সংকট

১১:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ক্যালকুলেটর মানুষকে গণিত থেকে দূরে সরায়নি, জিপিএস চালকদের পথ চিনতে সাহায্য করেছে—প্রযুক্তির এই উদাহরণগুলো বহুদিন ধরেই আমাদের জীবনে সুবিধা এনে দিয়েছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আসার পর প্রশ্নটা নতুন করে সামনে এসেছে—মানুষ কি এখন নিজের চিন্তাশক্তি ছেড়ে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে?

প্রযুক্তির সুবিধা, কিন্তু ঝুঁকিও আছে

প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ সহজ হয়—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে গণনার গতি বাড়ে, জিপিএস ব্যবহার করলে পথ হারানোর ভয় কমে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এই সুবিধার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব দক্ষতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, ভুল ফলাফল দেওয়া হলেও অনেকেই ক্যালকুলেটরের উত্তর প্রশ্ন না করেই মেনে নিয়েছেন। একইভাবে, জিপিএস বেশি ব্যবহার করলে মানুষের স্থানিক স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে।

How to Use AI as a Manager

এআই: সুবিধা থেকে নির্ভরশীলতার দিকে

এই একই প্রবণতা এখন আরও তীব্রভাবে দেখা যাচ্ছে এআই ব্যবহারে। কারণ এআই শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজ করে না, বরং নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়, বিশ্লেষণ করে, এমনকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করে।

গবেষকরা এই প্রবণতাকে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা মানসিক আত্মসমর্পণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ, মানুষ ধীরে ধীরে নিজের চিন্তা করার দায়িত্ব পুরোপুরি প্রযুক্তির হাতে তুলে দিচ্ছে।

ভুল হলেও এআইকেই ভরসা

একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের এআই-এর সাহায্যে জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়। যখন এআই সঠিক উত্তর দিয়েছে, তখন ব্যবহারকারীরা ভালো ফল করেছেন। কিন্তু যখন ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে, তখন তারা নিজের বিচার না করে সেটিই মেনে নিয়েছেন এবং ফলাফল খারাপ হয়েছে।

এতে স্পষ্ট, অনেকেই এআই-এর ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন যে, নিজের চিন্তাশক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজনই অনুভব করছেন না।

8 in 10 employees say they need AI training — after their companies rolled  out the tools - AZ Big Media

 

কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে উদ্বেগ

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের এআই ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। এতে কাজের গতি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে সমালোচনামূলক চিন্তার অভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।

কারণ এআই এখনও ভুল করতে পারে। নতুন বা জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের নিজস্ব বিচারবোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সমাধান কী হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে কর্মীরা নিজেরা চিন্তা করতে উৎসাহ পায়।

যাদের চিন্তাশক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি, তারা এআই-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। পাশাপাশি সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রণোদনা ও নিয়মিত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হলে মানুষ এআই-এর ভুল ধরতে বেশি সক্ষম হয়।

Agentic AI, explained | MIT Sloan

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নির্দিষ্ট সময় এআই ছাড়া কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সবসময় এআই-এর সাহায্য নিতে পারে, তাদের শেখার অগ্রগতি তুলনামূলক কম হয়।

প্রযুক্তি সহায়ক, বিকল্প নয়

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের মত, প্রযুক্তি মানুষের সহায়ক হিসেবে থাকলেই সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু যদি মানুষ নিজের চিন্তার জায়গা ছেড়ে দেয়, তখনই সমস্যা তৈরি হয়।
অর্থাৎ, কাজের গতি বাড়াতে এআই দরকার, কিন্তু চিন্তার দায়িত্ব এখনো মানুষেরই।

এআই নির্ভরতা বাড়লেও চিন্তার ভার মানুষের হাতেই রাখতে হবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।