১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
৫০-এর পর ত্বকে ব্লাশ ব্যবহারে ক্রিম নাকি পাউডার—কোনটি বেশি মানানসই? শরতের চলচ্চিত্র উৎসবে ভোগ সম্পাদকদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমা মাস্কের স্পেসএক্সে ট্রাম্পের বিনিয়োগ, উঠল স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তিন বছরে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ার চীনা যন্ত্রাংশের ওপর মার্কিন রোবট শিল্পের নির্ভরতা ফাঁস, নতুন নিষেধাজ্ঞায় বাড়ছে উদ্বেগ প্রেমের টানে কানাডা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে, স্বপ্নের বাড়ি হারিয়েও আক্ষেপ নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারেও মার্কিন শেয়ারবাজারে আয় বৃদ্ধির চমক, দুই প্রতিষ্ঠানের বড় অবদান মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধে সুপ্রিম কোর্টের ছাড়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যবিমার খরচে বিপাকে লাখো মানুষ, এক বছরে বীমা ছাড়লেন ৪ লাখ ৪০ হাজার এপস্টেইনকে সহায়তার মামলায় গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ

মমতার ভরাডুবির পর একে একে পদত্যাগ, পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি

পশ্চিমবিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও উপদেষ্টা মহলে শুরু হয়েছে পদত্যাগের ধারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ পাওয়া একাধিক সাবেক আমলা, অর্থনীতিবিদ ও উপদেষ্টা নিজেদের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও নির্বাচনে হারের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতোমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, এইচ কে দ্বিবেদী ও মনোজ পন্ত। পাশাপাশি পদ ছেড়েছেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারও।

নৈতিকতার প্রশ্নে পদত্যাগ

অভিরূপ সরকার জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

তার ভাষায়, তিনি সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তি না হলেও তার নিয়োগ ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ। যেহেতু তাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং সেই সরকার এখন নির্বাচনে হেরে গেছে, তাই পদে থেকে যাওয়ার নৈতিক অধিকার তার নেই।

বিজেপির বড় জয়

এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে জয় পায়। ২৯৪ আসনের মধ্যে দলটি ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পায় মাত্র ৮০টি আসন।

এই ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক সাবেক আমলা ও উপদেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার পদত্যাগ না করার ঘোষণা - দৈনিক সংগ্রাম

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অতীতেও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসে। ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় কেন্দ্র তাকে দিল্লিতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়।

পরে অবসরের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। এবার নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিনিও নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে।

সচিবালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদী ও মনোজ পন্তও নিজেদের উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

পদত্যাগ করলেন অ্যাডভোকেট জেনারেলও

শুধু আমলারা নন, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তও নিজের পদ ছেড়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্তও একই পদে কাজ করেছিলেন।

এছাড়া তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে কর্মরত এক সাবেক সাংবাদিক, যিনি মিডিয়া উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন, তিনিও মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন।

মমতার অবস্থান ঘিরে বিতর্ক

একদিকে যখন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা পদত্যাগ করছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দাবি করছেন যে নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে তার দলই জয়ী হয়েছে। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপি মিলে ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপি করেছে।

তৃণমূলের মুখপাত্র জয় প্রকাশ মজুমদার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা কটাক্ষ করে বলেন, সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান না বলেই পদত্যাগ করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে এই ধারাবাহিক পদত্যাগ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয় ও পদত্যাগের ঢেউ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে একে একে পদত্যাগ করছেন সাবেক আমলা, উপদেষ্টা ও আইন কর্মকর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির পর প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে বড় পরিবর্তন। মমতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের পদত্যাগ ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০-এর পর ত্বকে ব্লাশ ব্যবহারে ক্রিম নাকি পাউডার—কোনটি বেশি মানানসই?

মমতার ভরাডুবির পর একে একে পদত্যাগ, পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি

০৫:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পশ্চিমবিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও উপদেষ্টা মহলে শুরু হয়েছে পদত্যাগের ধারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ পাওয়া একাধিক সাবেক আমলা, অর্থনীতিবিদ ও উপদেষ্টা নিজেদের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও নির্বাচনে হারের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতোমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, এইচ কে দ্বিবেদী ও মনোজ পন্ত। পাশাপাশি পদ ছেড়েছেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারও।

নৈতিকতার প্রশ্নে পদত্যাগ

অভিরূপ সরকার জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

তার ভাষায়, তিনি সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তি না হলেও তার নিয়োগ ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ। যেহেতু তাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং সেই সরকার এখন নির্বাচনে হেরে গেছে, তাই পদে থেকে যাওয়ার নৈতিক অধিকার তার নেই।

বিজেপির বড় জয়

এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে জয় পায়। ২৯৪ আসনের মধ্যে দলটি ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পায় মাত্র ৮০টি আসন।

এই ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক সাবেক আমলা ও উপদেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার পদত্যাগ না করার ঘোষণা - দৈনিক সংগ্রাম

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অতীতেও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসে। ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় কেন্দ্র তাকে দিল্লিতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়।

পরে অবসরের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। এবার নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিনিও নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে।

সচিবালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদী ও মনোজ পন্তও নিজেদের উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

পদত্যাগ করলেন অ্যাডভোকেট জেনারেলও

শুধু আমলারা নন, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তও নিজের পদ ছেড়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্তও একই পদে কাজ করেছিলেন।

এছাড়া তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে কর্মরত এক সাবেক সাংবাদিক, যিনি মিডিয়া উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন, তিনিও মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন।

মমতার অবস্থান ঘিরে বিতর্ক

একদিকে যখন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা পদত্যাগ করছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দাবি করছেন যে নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে তার দলই জয়ী হয়েছে। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপি মিলে ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপি করেছে।

তৃণমূলের মুখপাত্র জয় প্রকাশ মজুমদার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা কটাক্ষ করে বলেন, সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান না বলেই পদত্যাগ করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে এই ধারাবাহিক পদত্যাগ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয় ও পদত্যাগের ঢেউ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে একে একে পদত্যাগ করছেন সাবেক আমলা, উপদেষ্টা ও আইন কর্মকর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির পর প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে বড় পরিবর্তন। মমতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের পদত্যাগ ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা।