১০:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের

মিরাজের ঘূর্ণিতে ধস, প্রথম ইনিংসে এগিয়ে বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টে দুর্দান্ত স্পিন আক্রমণে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে নাটকীয়ভাবে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। একসময় ৫ উইকেটে ৩৪৯ রান তুলে বড় সংগ্রহের পথে থাকা দলটি শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৩৭ রানে।

এই ধসের মূল নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের এই অফস্পিনার ক্যারিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ইনিংস থামিয়ে দেন ৩৮৬ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

মিরপুরের উইকেটে দিনের শেষভাগে বাড়তে থাকে টার্ন ও অনিয়মিত বাউন্স। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি স্পিনাররা চেপে ধরেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের। মিরাজ শুরুতেই ইমাম-উল-হককে এলবিডব্লিউ করে শতরানের জুটি ভাঙেন। ৪৫ রান করা ইমামের বিদায়ের পর দ্রুতই চাপে পড়ে পাকিস্তান।

এরপর সৌদ শাকিল ও অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজলকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের মধ্যক্রম ভেঙে দেন মিরাজ। ৬০ রান করা ফজল ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসী। তবে মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনিও।

শেষদিকে নোমান আলিকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মিরাজ। আর শাহিন শাহ আফ্রিদিকে শর্ট কভারে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করে পূর্ণ করেন নিজের পাঁচ উইকেট। তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১০২ রান।

মিরাজ ক্যারিশমায় ইনিংস ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারালো বাংলাদেশ

স্পিন আক্রমণে সহায়তা করেন তাইজুল ইসলামও। তিনি হাসান আলির উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন এবং ২ উইকেটে ৩৯ রান দেন। দিনের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন পেসার তাসকিন আহমেদ। পাকিস্তানের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইসকে ফিরিয়ে দিয়ে বড় জুটি ভাঙেন তিনি।

তাসকিনের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষও। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তৃতীয় বোলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তাসকিন।

এছাড়া নাহিদ রানাও একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোলিং সাফল্যে ভূমিকা রাখেন।

পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আজান আওয়াইস। অভিষেক ম্যাচেই তিনি করেন ১০৩ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ানও খেলেন দ্রুতগতির ৫৯ রানের ইনিংস। তবে রিজওয়ান আউট হওয়ার পর আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পাকিস্তানের নিচের সারির ব্যাটাররা।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। শান্ত করেন ১০১ রান, আর মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৯১ রান।

২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামবে বাংলাদেশ। মিরপুরের উইকেট যেভাবে স্পিন সহায়তা করছে, তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন স্বাগতিকদের দিকেই ঝুঁকে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

মিরাজের ঘূর্ণিতে ধস, প্রথম ইনিংসে এগিয়ে বাংলাদেশ

০৭:২৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মিরপুর টেস্টে দুর্দান্ত স্পিন আক্রমণে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে নাটকীয়ভাবে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। একসময় ৫ উইকেটে ৩৪৯ রান তুলে বড় সংগ্রহের পথে থাকা দলটি শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৩৭ রানে।

এই ধসের মূল নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের এই অফস্পিনার ক্যারিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ইনিংস থামিয়ে দেন ৩৮৬ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

মিরপুরের উইকেটে দিনের শেষভাগে বাড়তে থাকে টার্ন ও অনিয়মিত বাউন্স। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি স্পিনাররা চেপে ধরেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের। মিরাজ শুরুতেই ইমাম-উল-হককে এলবিডব্লিউ করে শতরানের জুটি ভাঙেন। ৪৫ রান করা ইমামের বিদায়ের পর দ্রুতই চাপে পড়ে পাকিস্তান।

এরপর সৌদ শাকিল ও অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজলকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের মধ্যক্রম ভেঙে দেন মিরাজ। ৬০ রান করা ফজল ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসী। তবে মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনিও।

শেষদিকে নোমান আলিকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মিরাজ। আর শাহিন শাহ আফ্রিদিকে শর্ট কভারে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করে পূর্ণ করেন নিজের পাঁচ উইকেট। তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১০২ রান।

মিরাজ ক্যারিশমায় ইনিংস ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারালো বাংলাদেশ

স্পিন আক্রমণে সহায়তা করেন তাইজুল ইসলামও। তিনি হাসান আলির উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন এবং ২ উইকেটে ৩৯ রান দেন। দিনের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন পেসার তাসকিন আহমেদ। পাকিস্তানের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইসকে ফিরিয়ে দিয়ে বড় জুটি ভাঙেন তিনি।

তাসকিনের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষও। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তৃতীয় বোলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তাসকিন।

এছাড়া নাহিদ রানাও একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোলিং সাফল্যে ভূমিকা রাখেন।

পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আজান আওয়াইস। অভিষেক ম্যাচেই তিনি করেন ১০৩ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ানও খেলেন দ্রুতগতির ৫৯ রানের ইনিংস। তবে রিজওয়ান আউট হওয়ার পর আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পাকিস্তানের নিচের সারির ব্যাটাররা।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। শান্ত করেন ১০১ রান, আর মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৯১ রান।

২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামবে বাংলাদেশ। মিরপুরের উইকেট যেভাবে স্পিন সহায়তা করছে, তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন স্বাগতিকদের দিকেই ঝুঁকে আছে।