বিশ্ব টেনিসে নতুন এক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফরাসি ওপেনের ঠিক আগে শীর্ষ খেলোয়াড়দের একটি অংশ পুরস্কার অর্থ ও খেলোয়াড়দের সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় গ্র্যান্ড স্ল্যাম বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের এক নম্বর নারী খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কার সরাসরি মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ইতালিয়ান ওপেনে সংবাদ সম্মেলনে সাবালেঙ্কা বলেন, পরিস্থিতি এমন থাকলে একসময় খেলোয়াড়রা বয়কটের পথেও যেতে পারেন। এরপর কোকো গফ ও এলেনা রাইবাকিনাও একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বয়কট পরিকল্পনা নেই, তবুও এই আলোচনা টেনিস বিশ্বের বড় টুর্নামেন্টগুলোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
উঠে আসবে নতুন মুখ
যদি শীর্ষ খেলোয়াড়রা কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে মূল ড্রতে অপেক্ষমাণ নিচের সারির খেলোয়াড়রা সুযোগ পাবেন। ফলে প্রতিযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও টুর্নামেন্টের মান ও আকর্ষণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ইতিহাসে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। ১৯৭৩ সালে উইম্বলডনে বড় ধরনের বয়কট হয়েছিল। তখন অনেক তারকা অনুপস্থিত থাকায় তুলনামূলক কম আলোচিত খেলোয়াড় ইয়ান কোদেস শিরোপা জিতেছিলেন। সেই উদাহরণ এখন আবার সামনে আসছে।
র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
গ্র্যান্ড স্ল্যামে অংশ না নিলে খেলোয়াড়দের র্যাঙ্কিংয়ে বিশাল ক্ষতি হতে পারে। কারণ চ্যাম্পিয়নরা পান দুই হাজার পয়েন্ট। আগের বছরের পয়েন্টও হারিয়ে যাবে, নতুন পয়েন্টও যোগ হবে না। এতে বর্তমান শীর্ষ খেলোয়াড়দের অবস্থান দ্রুত নেমে যেতে পারে।
অন্যদিকে যারা খেলবেন, তারা তুলনামূলক সহজ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গিয়ে নিজেদের র্যাঙ্কিং উন্নত করার সুযোগ পাবেন। ফলে পুরো টেনিস র্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

দর্শক কি মুখ ফিরিয়ে নেবেন?
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বড় তারকা না থাকলেও গ্র্যান্ড স্ল্যামের দর্শকসংখ্যা পুরোপুরি কমে যাবে না। কারণ উইম্বলডন, ইউএস ওপেন বা ফরাসি ওপেন এখন শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এগুলো বড় সাংস্কৃতিক উৎসবেও পরিণত হয়েছে।
অনেক দর্শক আগেভাগেই টিকিট কিনে রাখেন। করপোরেট বক্স, স্পনসর কার্যক্রম ও স্টেডিয়ামের পরিবেশও এই টুর্নামেন্টগুলোর বড় আকর্ষণ। তাই কিছু তারকা না থাকলেও পুরো আয়োজন থেমে যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কোটি ডলারের সম্প্রচার চুক্তির প্রশ্ন
গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলোর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপ। বিভিন্ন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বহু বছরের চুক্তি রয়েছে। ফরাসি ওপেন, ইউএস ওপেন ও উইম্বলডনের সম্প্রচার অধিকার নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকশ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি বয়কট হয়তো সঙ্গে সঙ্গে বড় আর্থিক ক্ষতি করবে না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি চললে ভবিষ্যতে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো টেনিসের মূল্যায়ন নতুনভাবে করতে পারে।
এখনই কি বয়কট হচ্ছে?
এ মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ফরাসি ওপেন ঘনিয়ে আসার কারণে খেলোয়াড়দের এই অবস্থানকে অনেকে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছেন। তবুও বিষয়টি যে বিশ্ব টেনিসে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















