একটি গয়না কখনও কখনও শুধু অলংকার থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতি, ভালোবাসা আর প্রজন্মের শক্তির প্রতীক। অভিনেত্রী মাইকেলা জায়ে রদ্রিগেজের কাছে তাঁর মায়ের হীরাখচিত শান্তিচিহ্নের নেকলেস ঠিক তেমনই এক অনুভূতির নাম।
ব্রডওয়ের নতুন মঞ্চায়ন ‘দ্য রকি হরর শো’-তে অভিনয় করা এই তারকা জানিয়েছেন, বিশেষ মুহূর্তে তাঁর মা তাঁকে নেকলেসটি পরতে দেন। তবে মজার বিষয় হলো, অনুষ্ঠান শেষ হলে মা আবার সেটি ফেরতও নিয়ে নেন।
মাইকেলার ভাষায়, এই নেকলেস তাঁর কাছে শুধু একটি গয়না নয়, বরং পরিবারের উত্তরাধিকার। তিনি মনে করেন, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের বহু মানুষের স্মৃতি, ভালোবাসা এবং শক্তি।
স্মৃতির ভেতর বেঁচে থাকা মানুষগুলো
মাইকেলা জানান, নেকলেসটি প্রথমে ছিল তাঁর খালা নিতার কাছে। প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বসিত সেই মানুষটি ক্যানসারে মারা গেলেও তাঁর প্রাণশক্তি এখনও এই গয়নাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে মনে করেন তিনি। একইভাবে তাঁর এক চাচার স্মৃতিও এতে জড়িয়ে আছে, যাঁর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল।
এই নেকলেস তাঁকে আরও বেশি করে মনে করিয়ে দেয় তাঁর দাদি, খালা কিম এবং খালা ডেবির কথা। তাঁদের কেউ কোভিডের সময়, কেউ আবার ক্যানসারের কারণে মারা গেছেন। মাইকেলার বিশ্বাস, তাঁদের আত্মার এক অংশ এখনও এই গয়নার মধ্যে রয়ে গেছে।
বড় মুহূর্তে সঙ্গী হয় নেকলেস
অভিনেত্রী জানান, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতেই মা সাধারণত নেকলেসটি তাঁকে দেন। কোনও বড় অনুষ্ঠান, সফর কিংবা বিশেষ অর্জনের মুহূর্তে এটি তাঁর সঙ্গী হয়।

২০২১ সালে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পোজ’-এ অভিনয়ের জন্য এমি মনোনয়ন পাওয়ার খবর জানার সময়ও তিনি এই নেকলেস পরেছিলেন। সেই মনোনয়ন ছিল ঐতিহাসিক, কারণ প্রধান অভিনয় বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া প্রথম উন্মুক্ত ট্রান্স নারী ছিলেন তিনি। পরে গোল্ডেন গ্লোব জয় করেও ইতিহাস গড়েন মাইকেলা।
শক্তি আর নিরাপত্তার প্রতীক
মাইকেলা বলেন, নেকলেসটি কাছে থাকলে তিনি এক ধরনের মানসিক শক্তি অনুভব করেন। মাঝেমধ্যে সেটি স্পর্শ করলেই তাঁর মনে হয়, পরিবারের আশীর্বাদ তাঁর সঙ্গে আছে।
তবে নেকলেসটি নিজের কাছে না থাকলে তাঁর ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। তখন সবচেয়ে স্বস্তি পান যখন জানেন, এটি তাঁর মায়ের কাছেই নিরাপদে আছে।
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উত্তরাধিকার
ভবিষ্যতে এই গয়নাটি পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের কারও হাতে তুলে দিতে চান মাইকেলা। তাঁর মতে, এটি এমন কাউকে দিতে হবে, যে জীবনের অভিজ্ঞতা ও পরিণতিতে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে।
তিনি বলেন, যদি তাঁর মেয়ে বা ছেলে হয়, তাহলে হয়তো তাঁদের কাউকে দেবেন। আবার কোনও ভাগনির হাতেও এটি তুলে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেবেন, এটি এমন নারীদের স্মৃতি বহন করে, যাঁরা তাঁকে জীবনে সাহস আর শক্তি দিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















