ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তেকে ঘিরে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে তাকে অভিশংসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে দেশটির দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার—মার্কোস ও দুতার্তে পরিবারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৫৫ জন আইনপ্রণেতা সারা দুতার্তের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৬টি এবং ৯ জন বিরত থাকেন। এখন বিষয়টি যাবে সিনেটে, যেখানে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি পদে বহাল থাকবেন কি না। তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে ২৪ সদস্যের সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে এমন বিপুল সমর্থন প্রমাণ করে যে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয় সংসদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সঙ্গে দুতার্তে পরিবারের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক ঘাঁটি মিনদানাও অঞ্চলেও তাদের প্রভাব কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিশংসনের পর সারা দুতার্তের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সিনেটে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তাদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব এখন প্রসিকিউশনের ওপরই বর্তাবে। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মার্কোস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
অভিযোগের তালিকায় কী আছে
সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে গোপন তহবিল অপব্যবহার, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ঘুষ গ্রহণ এবং প্রেসিডেন্ট মার্কোস, তার স্ত্রী ও সাবেক স্পিকার মার্টিন রোমুয়ালদেজকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোই বর্তমান অভিশংসন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় রাজনৈতিক মিত্র হলেও মার্কোস ও দুতার্তে পরিবারের সম্পর্ক এখন চরম বৈরিতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর ঘটনায় এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসে আটক রয়েছেন।

২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা
সারা দুতার্তে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিনেটে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে সরকারি পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকারও হারাতে পারেন তিনি।
এদিকে অভিশংসন প্রক্রিয়াকে ঘিরে সিনেটেও নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। দুতার্তে সমর্থকরা সিনেট সভাপতিকে সরিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ অ্যালান পিটার কায়েতানোকে দায়িত্বে বসিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, সিনেটে এখনও দুতার্তে পরিবারের শক্ত অবস্থান রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এই বিচার প্রক্রিয়া ফিলিপাইনের রাজনীতিকে আরও বিভক্ত করতে পারে। একদিকে দুতার্তে সমর্থকরা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে দাবি করছে। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের অভিশংসন ভোট দেশটির রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















