১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
মেটার ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা: কিশোরদের জন্য বদলাবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, চাপ বাড়ছে টিকটক-ইউটিউবেও নিকেতু ইরালু: শান্তির এক সাহসী সেতু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ভারতীয় শিল্পের ঘুম ভাঙার সময় এখনই খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের

হাওরের পানি নামলে বাঁচতে পারে ডুবে যাওয়া ধানের এক-চতুর্থাংশ

টানা ছয় দিনের তীব্র রোদে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি অনেকটাই কমে গেছে। তবে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ডুবে আছে পাকা ধান। কৃষকদের দাবি, হাওরের পানি কিছুটা নামানো গেলে অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হতে পারে। এজন্য তারা কয়েকটি বাঁধ কেটে পানি নামানোর দাবি তুলেছেন।

সোমবার বিকেলে সুনামগঞ্জের চার উপজেলার কৃষকদের আবাদ করা দেখার হাওরের পানি নামার পথ মহাসিং নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানির উচ্চতা হাওরের চেয়ে অন্তত দুই হাত নিচে নেমে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন আগেও এই নদীর পানি অনেক বেশি ছিল।

পাগলা বাজার থেকে কাদিরপুর পর্যন্ত খেয়া নৌকা চালানো রফিক মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগেও নদীর পানি আরও দুই-তিন হাত ওপরে ছিল। এখন পানি নেমেছে, কিন্তু হাওরের পানি তেমন কমেনি। তাঁর মতে, দ্রুত পানি নামানো গেলে কৃষকরা ডুবে থাকা ক্ষেত থেকে কিছু ধান অন্তত উদ্ধার করতে পারবেন।

কৃষকদের আশা, এখনো পুরো ক্ষতি এড়ানো না গেলেও কিছু ধান ঘরে তোলা সম্ভব। শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের কৃষক কে এম ফখরুল ইসলাম বলেন, তাঁদের বেশিরভাগ পাকা জমিই পানির নিচে। কয়েক দিন এভাবে থাকলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তবে পানি কিছুটা নামলে বুকসমান পানি থেকেও কৃষকরা ধান কেটে আনতে পারবেন।

হাওরে ধান ডুবে বিপাকে বর্গাচাষিরা | কালবেলা

বাঁধ কাটার দাবি জোরালো

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, সবাই একমত হলে আগের মতো উতারিয়া বাঁধ কেটে পানি ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তাঁর মতে, কিছু পানি বের হয়ে গেলেও কৃষকদের জন্য বড় উপকার হবে। এমনকি আবার পানি ঢুকলেও দরিদ্র কৃষকরা কিছু ধান তুলতে পারবেন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক আহমদ বলেন, স্থানীয় কৃষকেরা তাঁকে জানিয়েছেন যে উতারিয়া বাঁধ কেটে পানি নামানো গেলে তারা উপকৃত হবেন। তিনি মনে করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আর কোনো লাভ হবে না।

একই ধরনের দাবি উঠেছে শাল্লা উপজেলাতেও। শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কৃষক নেতা ছত্তার মিয়া জানান, ভেড়াডহরের হাওরের পানি পাশের দাড়াইন নদীর চেয়ে প্রায় আড়াই ফুট ওপরে রয়েছে। কৃষকেরা নৈল্লার খাল ও চ্যাপটার হাওরের বাঁধ কাটার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে ডুবে থাকা প্রায় দুই থেকে আড়াইশ হেক্টর জমির ধান কেটে আনা সম্ভব হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, হাওরে অনেক কৃষকের খড় রয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে এবং স্থানীয়দের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারও জানিয়েছেন, বর্তমানে পানি আবার হাওরে ঢুকলেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম। যদি বাঁধ কেটে পানি নামানোর মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হন, তাহলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটার ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা: কিশোরদের জন্য বদলাবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, চাপ বাড়ছে টিকটক-ইউটিউবেও

হাওরের পানি নামলে বাঁচতে পারে ডুবে যাওয়া ধানের এক-চতুর্থাংশ

০৮:০৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

টানা ছয় দিনের তীব্র রোদে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি অনেকটাই কমে গেছে। তবে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ডুবে আছে পাকা ধান। কৃষকদের দাবি, হাওরের পানি কিছুটা নামানো গেলে অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হতে পারে। এজন্য তারা কয়েকটি বাঁধ কেটে পানি নামানোর দাবি তুলেছেন।

সোমবার বিকেলে সুনামগঞ্জের চার উপজেলার কৃষকদের আবাদ করা দেখার হাওরের পানি নামার পথ মহাসিং নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানির উচ্চতা হাওরের চেয়ে অন্তত দুই হাত নিচে নেমে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন আগেও এই নদীর পানি অনেক বেশি ছিল।

পাগলা বাজার থেকে কাদিরপুর পর্যন্ত খেয়া নৌকা চালানো রফিক মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগেও নদীর পানি আরও দুই-তিন হাত ওপরে ছিল। এখন পানি নেমেছে, কিন্তু হাওরের পানি তেমন কমেনি। তাঁর মতে, দ্রুত পানি নামানো গেলে কৃষকরা ডুবে থাকা ক্ষেত থেকে কিছু ধান অন্তত উদ্ধার করতে পারবেন।

কৃষকদের আশা, এখনো পুরো ক্ষতি এড়ানো না গেলেও কিছু ধান ঘরে তোলা সম্ভব। শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের কৃষক কে এম ফখরুল ইসলাম বলেন, তাঁদের বেশিরভাগ পাকা জমিই পানির নিচে। কয়েক দিন এভাবে থাকলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তবে পানি কিছুটা নামলে বুকসমান পানি থেকেও কৃষকরা ধান কেটে আনতে পারবেন।

হাওরে ধান ডুবে বিপাকে বর্গাচাষিরা | কালবেলা

বাঁধ কাটার দাবি জোরালো

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, সবাই একমত হলে আগের মতো উতারিয়া বাঁধ কেটে পানি ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তাঁর মতে, কিছু পানি বের হয়ে গেলেও কৃষকদের জন্য বড় উপকার হবে। এমনকি আবার পানি ঢুকলেও দরিদ্র কৃষকরা কিছু ধান তুলতে পারবেন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক আহমদ বলেন, স্থানীয় কৃষকেরা তাঁকে জানিয়েছেন যে উতারিয়া বাঁধ কেটে পানি নামানো গেলে তারা উপকৃত হবেন। তিনি মনে করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আর কোনো লাভ হবে না।

একই ধরনের দাবি উঠেছে শাল্লা উপজেলাতেও। শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কৃষক নেতা ছত্তার মিয়া জানান, ভেড়াডহরের হাওরের পানি পাশের দাড়াইন নদীর চেয়ে প্রায় আড়াই ফুট ওপরে রয়েছে। কৃষকেরা নৈল্লার খাল ও চ্যাপটার হাওরের বাঁধ কাটার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে ডুবে থাকা প্রায় দুই থেকে আড়াইশ হেক্টর জমির ধান কেটে আনা সম্ভব হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, হাওরে অনেক কৃষকের খড় রয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে এবং স্থানীয়দের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারও জানিয়েছেন, বর্তমানে পানি আবার হাওরে ঢুকলেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম। যদি বাঁধ কেটে পানি নামানোর মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হন, তাহলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।