বিদেশে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার প্রবণতা মার্কিনিদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে, আর সেই তালিকায় জাপানের নামও এখন উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে। বৈশ্বিক কর্মপরিবেশ ও আন্তঃসাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি ন্যাভিগেটরের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিদেশে পাড়ি জমানোর বিষয়ে মার্কিনিদের আগ্রহ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। সেই আগ্রহের কেন্দ্রগুলোর একটি জাপান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক অনলাইন অনুসন্ধানে জাপানের অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। দেশটি নিয়ে প্রায় ৪৯ হাজার ৪০০টি অনুসন্ধান হয়েছে। তবে বাস্তব জীবনে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভাষাগত জটিলতা, সাংস্কৃতিক পার্থক্য ও কর্মপরিবেশের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পর জাপানের অবস্থান নেমে যায় ১৬ নম্বরে।
বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে
প্রতিবেদনটি বলছে, ২০২৫ সাল ছিল মার্কিন নাগরিকদের বিদেশমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী বছর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস জানায়, কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিতে নেতিবাচক অভিবাসন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের তালিকায় কানাডা ছিল সবার ওপরে। এরপর ছিল নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও স্পেন। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড দশম স্থানে উঠে আসে। জাপানও উচ্চ আগ্রহের তালিকায় থাকলেও বাস্তব স্থানান্তরের বিবেচনায় পিছিয়ে পড়ে।
কোন দেশগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়
প্রতিবেদনটি শুধু অনলাইন অনুসন্ধান নয়, বরং কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাংস্কৃতিক মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ ও অভিবাসন প্রবণতার মতো বিষয়ও বিশ্লেষণ করেছে।
এই সূচকে সুইজারল্যান্ড প্রথম স্থান পেয়েছে। এরপর রয়েছে নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও কানাডা। এছাড়া নরওয়ে, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যও শীর্ষ দশে রয়েছে।

কান্ট্রি ন্যাভিগেটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষে থাকা বেশিরভাগ দেশেই ইংরেজিভাষী পরিবেশ অথবা মার্কিন সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। পাশাপাশি এসব দেশে অভিবাসনের জন্য সুসংগঠিত ব্যবস্থা ও স্থিতিশীল চাকরির বাজারও রয়েছে। ফলে বিদেশে যেতে চাওয়া মার্কিনিদের কাছে এসব দেশ তুলনামূলকভাবে সহজ ও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাপানের আকর্ষণ ও সীমাবদ্ধতা
বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও উন্নত নগরী হিসেবে টোকিওসহ জাপানের বিভিন্ন শহর জীবনমানের দিক থেকে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তা জাপানকে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে জাপানের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কঠোর অফিস সংস্কৃতি ও ভাষাগত সীমাবদ্ধতা বিদেশিদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।
জাপানের অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ লাখ ২০ হাজারে। এদের বেশিরভাগই চীন, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক।
কান্ট্রি ন্যাভিগেটরের সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস ক্রসবির মতে, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন দেশে সফলভাবে মানিয়ে নিতে হলে স্থানীয় সংস্কৃতি বোঝা এবং তার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিদেশে পাড়ি জমানোর স্বপ্নে জাপান এখনো মার্কিনিদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবতার পরীক্ষায় সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বাধাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে।
জাপানে বসবাসে মার্কিনিদের আগ্রহ বাড়লেও ভাষা ও কর্মসংস্কৃতির কারণে বাস্তব স্থানান্তরে পিছিয়ে পড়ছে দেশটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















