দেশের বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও মঞ্চনির্দেশক আতাউর রহমান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আবারও লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সোমবার তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান জানান, তার বাবার শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আতাউর রহমানের শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তিনি দেশবাসীর কাছে তার বাবার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর থেকেই আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার ওঠানামা
হাসপাতালে ভর্তি করার পরপরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে সাময়িকভাবে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট খুলে দেন। কিন্তু পরিস্থিতির আবার অবনতি হলে রোববার তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা উদ্বেগের মধ্যে সময় পার করছেন।
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নাম
আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক নাম। ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তিত্ব দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নাট্যচর্চা, অভিনয়, নির্দেশনা ও লেখালেখির মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন।
স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নাট্যজন হিসেবে তার অবদান দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও লেখক হিসেবে তিনি বহু প্রজন্মের শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য আতাউর রহমান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। তার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবন ও সৃষ্টিশীল কাজ বাংলাদেশের নাট্যজগতে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তার অসুস্থতার খবরে সংস্কৃতি অঙ্গনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















