০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না: সীমান্ত ইস্যুতে কড়া বার্তা হুমায়ুন কবিরের রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র-পদ্মা সেতু-কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের ঋণের বোঝা এখন ২০ কোটি মানুষের কাঁধে: প্রধানমন্ত্রী ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তেকে অভিশংসনের পক্ষে বিপুল ভোট, ২০২৮ নির্বাচনে বড় প্রভাবের আশঙ্কা লাইফ সাপোর্টে বরেণ্য নাট্যজন আতাউর রহমান, সুস্থতার জন্য দোয়া চাইলেন পরিবার জাপানে বসবাসের স্বপ্নে মার্কিনিদের আগ্রহ বাড়ছে, তবে বাধা ভাষা ও কর্মসংস্কৃতি হাওরের পানি নামলে বাঁচতে পারে ডুবে যাওয়া ধানের এক-চতুর্থাংশ ভারতে বিনিয়োগে অনীহা কেন: আস্থাহীনতার অর্থনীতি মায়ের শান্তির প্রতীকেই শক্তি খুঁজে পান মাইকেলা রদ্রিগেজ যুদ্ধের অন্ধকার পেরিয়ে গয়নার জগতে আলো ছড়ানো এক নারীর গল্প ব্র্যাকের সেবায় এক বছরে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ, আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরলেন হুমায়ুন কবির

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার এমন একটি জাতীয় নিরাপত্তা স্থাপত্য নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি দেবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ আয়োজিত “বাংলাদেশ ফার্স্ট: অ্যা ফরেন পলিসি আউটলুক ফর অ্যা নিউ বাংলাদেশ” শীর্ষক এক নীতিগত গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির মূল দিক

বক্তব্যে হুমায়ুন কবির সরকারের “বাংলাদেশ ফার্স্ট” পররাষ্ট্রনীতি ধারণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই নীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু কূটনীতি।

তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন, যা দেশের নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করবে।

ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান

গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল এএনএম মুনীরুজ্জামান (অব.)। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য বাস্তবধর্মী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে।

জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে কৌশলগত বাস্তববাদ

বৈঠকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো শাফকাত মুনীর “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতিকে কৌশলগত বাস্তববাদের পুনরাগমন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই নীতির কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব।

তার মতে, বিশ্ব রাজনীতির অনিশ্চয়তা ও দ্রুত পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাসী, কৌশলগতভাবে নমনীয় এবং পেশাদার কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে ভিত্তি করেই সেই নীতি পরিচালিত হওয়া উচিত।

গোলটেবিল বৈঠকে সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার পর অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত মতবিনিময়ও অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ফার্স্ট পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরলেন হুমায়ুন কবির।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না: সীমান্ত ইস্যুতে কড়া বার্তা হুমায়ুন কবিরের

বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরলেন হুমায়ুন কবির

০৭:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার এমন একটি জাতীয় নিরাপত্তা স্থাপত্য নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি দেবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ আয়োজিত “বাংলাদেশ ফার্স্ট: অ্যা ফরেন পলিসি আউটলুক ফর অ্যা নিউ বাংলাদেশ” শীর্ষক এক নীতিগত গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির মূল দিক

বক্তব্যে হুমায়ুন কবির সরকারের “বাংলাদেশ ফার্স্ট” পররাষ্ট্রনীতি ধারণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই নীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু কূটনীতি।

তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন, যা দেশের নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করবে।

ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান

গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল এএনএম মুনীরুজ্জামান (অব.)। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য বাস্তবধর্মী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে।

জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে কৌশলগত বাস্তববাদ

বৈঠকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো শাফকাত মুনীর “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতিকে কৌশলগত বাস্তববাদের পুনরাগমন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই নীতির কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব।

তার মতে, বিশ্ব রাজনীতির অনিশ্চয়তা ও দ্রুত পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাসী, কৌশলগতভাবে নমনীয় এবং পেশাদার কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে ভিত্তি করেই সেই নীতি পরিচালিত হওয়া উচিত।

গোলটেবিল বৈঠকে সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার পর অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত মতবিনিময়ও অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ফার্স্ট পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরলেন হুমায়ুন কবির।