ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মারধর ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
সোমবার বিজয়নগর থানার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুইজন হলেন আলাভিদপুর গ্রামের লভলুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও শাহনুর রহমান। ঘটনার পর তাদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তাদের বাবা লভলুর রহমানকেও আসামি করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম রূপক রায়। তিনি আলাভিদপুর গ্রামের সাহা পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা গোপাল রায় সোমবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রতারণার ফাঁদে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে রূপক রায় আমতলী বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাকে বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা বলে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে নেওয়ার পর তাকে বেঁধে ফেলা হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রূপকের কাছ থেকে জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। হামলার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এতে গুরুতর আহত হন রূপক রায়।
মোবাইল ফোন থেকে বিভ্রান্তিকর বার্তা
ঘটনার একপর্যায়ে রূপকের মোবাইল ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আছেন এবং তার ফোন হারিয়ে গেছে। এতে প্রথমে পরিবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে পরিবার জানতে পারে, রূপককে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এরপর তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযানে উদ্ধার
খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পরে সেখান থেকে রূপক রায়কে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করার পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, আটক হওয়ার পরও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব সরকার জানান, অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানোর জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















