যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও শান্তি আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নতুন করে প্রকাশিত এক ইরানি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ওয়াশিংটন এমন কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে, যা তেহরানের কাছে কার্যত অগ্রহণযোগ্য।
ইরানি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন যুদ্ধক্ষতির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ না পায়। একই সঙ্গে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবিও তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আলোচনায় নতুন জট
তেহরান তাদের শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তগুলো সামনে আনে বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের জব্দ হয়ে থাকা সম্পদের একটি অংশও মুক্ত করতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি সামরিক সংঘাত পুরোপুরি বন্ধের বিষয়টিও আলোচনার অগ্রগতির সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে যুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে যেসব ছাড় আদায় করা সম্ভব হয়নি, এখন আলোচনার টেবিলে সেগুলো আদায়ের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পাল্টা শর্ত
শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইরানও বেশ কয়েকটি পূর্বশর্ত দিয়েছে। তেহরান বলছে, সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া ও যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলেছে দেশটি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি। এই জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।
লেবানন ইস্যুতে বাড়ছে বিরোধ
বর্তমান উত্তেজনার বড় একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবানন পরিস্থিতি। ইরান চায় লেবাননে হামলা ও সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হোক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল এই দাবিতে সম্মত নয় বলে জানা গেছে। ফলে এই ইস্যু শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের কড়া বার্তা
পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ইরানের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে সামরিক চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















