০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
লে সেরাফিমের নতুন অ্যালবাম ঘিরে উত্তেজনা, টিজারে ফুটে উঠল দলের দারুণ রসায়ন বিলবোর্ডে ঝড় তুলল কর্টিস, নতুন অ্যালবাম উঠে এল তৃতীয় স্থানে ডে সিক্সের বিশ্বভ্রমণ শেষ হচ্ছে সিউলে তিনটি জমকালো কনসার্টে হাইব-গেফেনের নতুন চমক ‘সেন্ট সাটিন’, ক্যাটসআইয়ের পর আবারও বৈশ্বিক গার্ল গ্রুপে বাজি ট্রাম্প-লি ফোনালাপ ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে যুদ্ধনীতি নয়, আইনের ভাষাই হতে পারে শেষ ভরসা চীনকে ঘিরে বাস্তববাদী কূটনীতির প্রয়োজন অপচয়ের অদৃশ্য হিসাব: খাদ্য সংকট নয়, সংকট ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ক্ষুব্ধ ইরান, যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন অচলাবস্থা স্যামসাংয়ের ধর্মঘট পরিকল্পনায় আদালতের আংশিক নিষেধাজ্ঞা, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাড়ছে শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা উত্তেজনা

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে যুদ্ধনীতি নয়, আইনের ভাষাই হতে পারে শেষ ভরসা

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস, উত্তেজনা ও অসমাপ্ত দ্বন্দ্বের মধ্যে আটকে আছে। কাশ্মীর থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত সংঘাত, পানিবণ্টন কিংবা কূটনৈতিক টানাপোড়েন— প্রতিটি ইস্যুতে রাজনৈতিক আবেগ এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধানের পথ প্রায় হারিয়েই গেছে। অথচ বাস্তবতা হলো, দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের বড় অংশই এমন, যেগুলোর সমাধান সামরিক প্রতিক্রিয়ার বদলে আইনভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যেত।

দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হলো, সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত ঘটনাগুলোকে যৌথ তদন্ত বা আইনি সহায়তার কাঠামোর মধ্যে না এনে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিশোধমূলক নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। মুম্বাই হামলার পর থেকে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, কিন্তু পারস্পরিক তদন্ত সহযোগিতা, সাক্ষ্য বিনিময় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগকে কখনও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।

এই শূন্যতা শুধু কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়; এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থারও গভীর দুর্বলতা। কারণ যখন দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিশ্বাসভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে, তখন সামরিক প্রতিক্রিয়াই একমাত্র ভাষা হয়ে ওঠে। ফলাফল হয় আরও উত্তেজনা, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কী কী চুক্তি আছে, এগুলো স্থগিত হওয়ার অর্থ কী? -  BBC News বাংলা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বহু সংকটই দেখিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। পঠানকোট, উরি বা পুলওয়ামার মতো ঘটনার পর যৌথ তদন্তের কোনও কার্যকর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। পরিবর্তে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং সামরিক পদক্ষেপই সামনে এসেছে। এর পরিণতি হয়েছিল বালাকোট হামলা এবং পরবর্তী সামরিক সংঘাতে, যেখানে উভয় দেশই কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে পড়ে।

২০২৫ সালের পাহেলগাম ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। কোনও সন্ত্রাসী ঘটনার পর আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদ্যমান আইনি সহায়তা কাঠামো অনুসারে তদন্ত সহযোগিতার অনুরোধ জানানোই ছিল স্বাভাবিক পথ। পাকিস্তানের বিদ্যমান পারস্পরিক আইনি সহায়তা আইন সেই সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাবনাগুলিও রাষ্ট্রগুলোকে সহযোগিতামূলক তদন্তের বাধ্যবাধকতা দেয়। কিন্তু ভারত সেই আইনি পথ অনুসরণ না করে সরাসরি সামরিক কৌশল বেছে নেয়। এতে কেবল সংঘাতই বেড়েছে, সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো “যুদ্ধনীতি” থেকে “আইননীতি”-তে স্থানান্তর। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সামরিক শক্তি সবসময় রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা স্থায়ী সমাধান দেয় না। বরং আইনি প্রক্রিয়া, তদন্ত সহযোগিতা এবং স্বচ্ছ প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যদি নিয়মিত পুলিশ-টু-পুলিশ যোগাযোগ, তদন্ত সহযোগিতা এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে, তাহলে বহু জটিল ইস্যু অন্তত আলোচনার কাঠামোর মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। কাশ্মীর, সিয়াচেন, সির ক্রিক কিংবা বাণিজ্যপথ— প্রতিটি প্রশ্নেরই একটি আইনি মাত্রা রয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সেই দিকগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা না করলে যে কোনও শান্তি উদ্যোগ মাঝপথে থেমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

কূটনৈতিক সংঘাতে ভারত-পাকিস্তান

ইতিহাস দেখিয়েছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার মুহূর্ত দক্ষিণ এশিয়ায় খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কখনও সরকার পরিবর্তন, কখনও সন্ত্রাসী হামলা, কখনও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ— সবকিছু মিলিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ বারবার নষ্ট হয়েছে। তাই কেবল নেতাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না; প্রয়োজন টেকসই আইনি ও প্রশাসনিক অবকাঠামো।

এই বাস্তবতায় পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের আইনি সক্ষমতা কিছুটা শক্তিশালী করেছে বলে দাবি করতে পারে। পারস্পরিক আইনি সহায়তা, অর্থপাচারবিরোধী ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা নতুন কিছু আইন ও প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে ভারত এখনও পূর্ণাঙ্গ পারস্পরিক আইনি সহায়তা আইন প্রণয়ন করতে পারেনি, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবেই দেখা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্ত্রাসবাদের জবাবে যদি রাষ্ট্রগুলো “প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ” নীতিকে স্বাভাবিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়া ক্রমেই স্থায়ী সামরিক অস্থিরতার দিকে এগোবে। কারণ একবার সামরিক প্রতিক্রিয়া বৈধতা পেলে প্রতিটি সংকটই যুদ্ধের ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই প্রশ্নের ওপর— তারা কি প্রতিটি সংকটকে যুদ্ধের অজুহাত বানাবে, নাকি আইনের কাঠামোর মধ্যে এনে জবাবদিহি ও সহযোগিতার পথ খুঁজবে? দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কোটি মানুষের ভবিষ্যতের জন্য দ্বিতীয় পথটিই এখন সবচেয়ে জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

লে সেরাফিমের নতুন অ্যালবাম ঘিরে উত্তেজনা, টিজারে ফুটে উঠল দলের দারুণ রসায়ন

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে যুদ্ধনীতি নয়, আইনের ভাষাই হতে পারে শেষ ভরসা

০২:৪৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস, উত্তেজনা ও অসমাপ্ত দ্বন্দ্বের মধ্যে আটকে আছে। কাশ্মীর থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত সংঘাত, পানিবণ্টন কিংবা কূটনৈতিক টানাপোড়েন— প্রতিটি ইস্যুতে রাজনৈতিক আবেগ এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধানের পথ প্রায় হারিয়েই গেছে। অথচ বাস্তবতা হলো, দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের বড় অংশই এমন, যেগুলোর সমাধান সামরিক প্রতিক্রিয়ার বদলে আইনভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যেত।

দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হলো, সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত ঘটনাগুলোকে যৌথ তদন্ত বা আইনি সহায়তার কাঠামোর মধ্যে না এনে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিশোধমূলক নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। মুম্বাই হামলার পর থেকে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, কিন্তু পারস্পরিক তদন্ত সহযোগিতা, সাক্ষ্য বিনিময় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগকে কখনও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।

এই শূন্যতা শুধু কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়; এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থারও গভীর দুর্বলতা। কারণ যখন দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিশ্বাসভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে, তখন সামরিক প্রতিক্রিয়াই একমাত্র ভাষা হয়ে ওঠে। ফলাফল হয় আরও উত্তেজনা, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কী কী চুক্তি আছে, এগুলো স্থগিত হওয়ার অর্থ কী? -  BBC News বাংলা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বহু সংকটই দেখিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। পঠানকোট, উরি বা পুলওয়ামার মতো ঘটনার পর যৌথ তদন্তের কোনও কার্যকর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। পরিবর্তে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং সামরিক পদক্ষেপই সামনে এসেছে। এর পরিণতি হয়েছিল বালাকোট হামলা এবং পরবর্তী সামরিক সংঘাতে, যেখানে উভয় দেশই কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে পড়ে।

২০২৫ সালের পাহেলগাম ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। কোনও সন্ত্রাসী ঘটনার পর আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদ্যমান আইনি সহায়তা কাঠামো অনুসারে তদন্ত সহযোগিতার অনুরোধ জানানোই ছিল স্বাভাবিক পথ। পাকিস্তানের বিদ্যমান পারস্পরিক আইনি সহায়তা আইন সেই সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাবনাগুলিও রাষ্ট্রগুলোকে সহযোগিতামূলক তদন্তের বাধ্যবাধকতা দেয়। কিন্তু ভারত সেই আইনি পথ অনুসরণ না করে সরাসরি সামরিক কৌশল বেছে নেয়। এতে কেবল সংঘাতই বেড়েছে, সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো “যুদ্ধনীতি” থেকে “আইননীতি”-তে স্থানান্তর। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সামরিক শক্তি সবসময় রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা স্থায়ী সমাধান দেয় না। বরং আইনি প্রক্রিয়া, তদন্ত সহযোগিতা এবং স্বচ্ছ প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যদি নিয়মিত পুলিশ-টু-পুলিশ যোগাযোগ, তদন্ত সহযোগিতা এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে, তাহলে বহু জটিল ইস্যু অন্তত আলোচনার কাঠামোর মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। কাশ্মীর, সিয়াচেন, সির ক্রিক কিংবা বাণিজ্যপথ— প্রতিটি প্রশ্নেরই একটি আইনি মাত্রা রয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সেই দিকগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা না করলে যে কোনও শান্তি উদ্যোগ মাঝপথে থেমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

কূটনৈতিক সংঘাতে ভারত-পাকিস্তান

ইতিহাস দেখিয়েছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার মুহূর্ত দক্ষিণ এশিয়ায় খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কখনও সরকার পরিবর্তন, কখনও সন্ত্রাসী হামলা, কখনও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ— সবকিছু মিলিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ বারবার নষ্ট হয়েছে। তাই কেবল নেতাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না; প্রয়োজন টেকসই আইনি ও প্রশাসনিক অবকাঠামো।

এই বাস্তবতায় পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের আইনি সক্ষমতা কিছুটা শক্তিশালী করেছে বলে দাবি করতে পারে। পারস্পরিক আইনি সহায়তা, অর্থপাচারবিরোধী ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা নতুন কিছু আইন ও প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে ভারত এখনও পূর্ণাঙ্গ পারস্পরিক আইনি সহায়তা আইন প্রণয়ন করতে পারেনি, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবেই দেখা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্ত্রাসবাদের জবাবে যদি রাষ্ট্রগুলো “প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ” নীতিকে স্বাভাবিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়া ক্রমেই স্থায়ী সামরিক অস্থিরতার দিকে এগোবে। কারণ একবার সামরিক প্রতিক্রিয়া বৈধতা পেলে প্রতিটি সংকটই যুদ্ধের ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই প্রশ্নের ওপর— তারা কি প্রতিটি সংকটকে যুদ্ধের অজুহাত বানাবে, নাকি আইনের কাঠামোর মধ্যে এনে জবাবদিহি ও সহযোগিতার পথ খুঁজবে? দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কোটি মানুষের ভবিষ্যতের জন্য দ্বিতীয় পথটিই এখন সবচেয়ে জরুরি।