নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ। নিহত ব্যক্তি আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মাইনুকি নামে পরিচিত ছিলেন। তাকে আইএসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লেক চাদ অববাহিকায় এই অভিযান চালানো হয়। দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-মাইনুকি দীর্ঘদিন ধরে আইএসের প্রচার কার্যক্রম, অর্থ সংগ্রহ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির পরিকল্পনা এবং ড্রোন উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং স্কুলশিক্ষার্থীদের অপহরণের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল।
বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান
নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা বলেন, এই অভিযান সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় একটি বড় অগ্রগতি। অভিযানে আল-মাইনুকির কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি আকাশ ও স্থল অভিযান সমন্বয়ে চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, মার্কিন ও নাইজেরিয়ান বাহিনী অত্যন্ত জটিল একটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
আফ্রিকায় বাড়ছে আইএসের তৎপরতা
মধ্যপ্রাচ্যে শক্ত ঘাঁটি হারানোর পর ইসলামিক স্টেট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার ও সোমালিয়াসহ একাধিক দেশে সংগঠনটি নতুন ঘাঁটি গড়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম আফ্রিকায় বর্তমানে আইএসের আট থেকে বারো হাজার যোদ্ধা সক্রিয় রয়েছে। এই অঞ্চলে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও তাদের প্রতিযোগিতা চলছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আফ্রিকাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে সংগঠনটি।
যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়া সম্পর্কের নতুন ধাপ
এই যৌথ অভিযানকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত বছর নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় তিনি নাইজেরিয়াকে সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ার বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে শত শত সেনা পাঠায়। গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও জঙ্গিবিরোধী কৌশলগত সহায়তাও বাড়ানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকাই এখন ইসলামিক স্টেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের এলাকা হয়ে উঠেছে। আর নাইজেরিয়া সেই লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
নাইজেরিয়ায় যৌথ অভিযানে আইএসের শীর্ষ নেতা আল-মাইনুকি নিহত। আফ্রিকায় জঙ্গিবাদ দমনে বড় সাফল্যের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















