০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
দ্য গান সিন্ডিকেট হরমুজ সংকটের চাপ, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ক্যালিফোর্নিয়ার সৈকত নিয়ে কোটি ডলারের লড়াই, ধনকুবেরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে উপকূল কমিশন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা আইন চাইল ড্যাব, হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ফরিদপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ ডুয়েটে নতুন ভিসি নিয়োগ ঘিরে উত্তেজনা, আন্দোলনে অচল ক্যাম্পাস পুতিনের যুদ্ধ, রাশিয়ার নিঃসঙ্গতা বিহারের স্কুলে দুপুরের খাবার ঘিরে ভয়, সাপের অভিযোগের পর টিফিনের থালায় এখন আতঙ্ক মণিপুরে এখনও নিখোঁজ ২০ জন, পরিবারগুলোর আকুতি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কংগ্রেসের নতুন সমীকরণে চাপে বিরোধী জোট, রাজ্যে ছাড় দিতে নারাজ আঞ্চলিক দলগুলো

অগাস্ট স্যান্ডারের ক্যামেরায় এক শতকের জার্মান সমাজের মুখ

একজন কৃষক, এক পেস্ট্রি প্রস্তুতকারক, এক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, এক অন্ধ শিশু কিংবা এক রাজনৈতিক বন্দি—সবাইকে একই গুরুত্ব দিয়ে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন জার্মান আলোকচিত্রী অগাস্ট স্যান্ডার। তাঁর স্বপ্ন ছিল বিংশ শতকের জার্মান সমাজকে এমনভাবে তুলে ধরা, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানুষের ভেতরের বাস্তব চেহারাটি দেখতে পারে। সেই বিশাল প্রকল্পেরই বিরল প্রদর্শনী এখন দর্শকদের সামনে এসেছে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পকলা গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে “বিংশ শতকের মানুষ” শীর্ষক এই সংগ্রহ। এখানে রয়েছে ছয় শতাধিক আলোকচিত্র, যা স্যান্ডারের দীর্ঘ কয়েক দশকের কাজের ফল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরে এই সংগ্রহ একসঙ্গে দেখানোর সুযোগ ভবিষ্যতে আর নাও আসতে পারে।

সমাজকে দেখার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

অগাস্ট স্যান্ডার ছিলেন জার্মানির কোলোন শহরের একজন পেশাদার আলোকচিত্রী। বিশ শতকের শুরুর দিকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষকে আলাদা পরিচয়ে তুলে ধরবেন। কৃষক, শ্রমিক, শিল্পী, নারী, শহুরে মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের প্রান্তিক মানুষ—সবাই ছিলেন তাঁর ক্যামেরার বিষয়।

তিনি চেয়েছিলেন প্রায় ছয় হাজার ছবি নিয়ে এক ধরনের সামাজিক মানচিত্র তৈরি করতে। সেই সময় বড় আকারের কাঁচের নেগেটিভ ব্যবহার করে হাজার হাজার ছবি তুলেছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর বহু নেগেটিভ নষ্ট হয়ে যায়। পরে বেঁচে থাকা নেগেটিভ থেকে নতুন প্রিন্ট তৈরি করা হয়।

A New Look at August Sander's 'People of the Twentieth Century' - The New  York Times

মানুষের মুখে সত্যের ছাপ

স্যান্ডারের ছবিগুলোর বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সেখানে কৃত্রিম হাসি বা সাজানো অভিব্যক্তি নেই। মানুষগুলোকে যেমন, ঠিক তেমনভাবেই দেখানো হয়েছে। এক পেস্ট্রি প্রস্তুতকারকের ছবিতে যেমন দেখা যায় তাঁর আত্মবিশ্বাস ও পেশার প্রতি গর্ব, তেমনি এক কৃষক পরিবারের ছবিতে ফুটে উঠেছে পরিশ্রমী জীবনের নীরব মর্যাদা।

বিশেষ করে “তরুণ কৃষক” শিরোনামের ছবিটি সবচেয়ে আলোচিত। মাঠের ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকা তিন যুবকের সেই ছবি শুধু একটি সময়ের দলিল নয়, বরং সমাজের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেও ধরা হয়।

প্রান্তিক মানুষের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব

স্যান্ডারের প্রকল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ ছিল সমাজের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে তৈরি বিভাগ। এখানে তিনি ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী শ্রমিক, মানসিক আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা, অন্ধ শিশু এবং নির্যাতনের শিকার ইহুদিদের ছবিও তুলেছিলেন। এই ছবিগুলোই নাৎসি শাসকদের ক্ষুব্ধ করেছিল। তাঁদের ধারণা ছিল, এসব ছবি জার্মান সমাজের ‘অস্বস্তিকর সত্য’ সামনে নিয়ে আসে।

অনেক সমালোচকের মতে, এখানেই স্যান্ডারের কাজ শুধু শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি মানবতা ও নৈতিকতার এক শক্তিশালী দলিলে পরিণত হয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সমাজের প্রতিটি মানুষই ইতিহাসের অংশ।

আজও প্রাসঙ্গিক সেই আলোকচিত্র

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও অগাস্ট স্যান্ডারের কাজ নতুন করে আলোচনায় আসছে। কারণ তাঁর ছবিগুলো শুধু অতীতকে দেখায় না, বরং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দেয়। সামাজিক বিভাজন, বৈষম্য ও পরিচয়ের প্রশ্নে তাঁর কাজ এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন শিল্পবোদ্ধারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্য গান সিন্ডিকেট

অগাস্ট স্যান্ডারের ক্যামেরায় এক শতকের জার্মান সমাজের মুখ

০৬:২০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

একজন কৃষক, এক পেস্ট্রি প্রস্তুতকারক, এক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, এক অন্ধ শিশু কিংবা এক রাজনৈতিক বন্দি—সবাইকে একই গুরুত্ব দিয়ে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন জার্মান আলোকচিত্রী অগাস্ট স্যান্ডার। তাঁর স্বপ্ন ছিল বিংশ শতকের জার্মান সমাজকে এমনভাবে তুলে ধরা, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানুষের ভেতরের বাস্তব চেহারাটি দেখতে পারে। সেই বিশাল প্রকল্পেরই বিরল প্রদর্শনী এখন দর্শকদের সামনে এসেছে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পকলা গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে “বিংশ শতকের মানুষ” শীর্ষক এই সংগ্রহ। এখানে রয়েছে ছয় শতাধিক আলোকচিত্র, যা স্যান্ডারের দীর্ঘ কয়েক দশকের কাজের ফল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরে এই সংগ্রহ একসঙ্গে দেখানোর সুযোগ ভবিষ্যতে আর নাও আসতে পারে।

সমাজকে দেখার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

অগাস্ট স্যান্ডার ছিলেন জার্মানির কোলোন শহরের একজন পেশাদার আলোকচিত্রী। বিশ শতকের শুরুর দিকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষকে আলাদা পরিচয়ে তুলে ধরবেন। কৃষক, শ্রমিক, শিল্পী, নারী, শহুরে মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের প্রান্তিক মানুষ—সবাই ছিলেন তাঁর ক্যামেরার বিষয়।

তিনি চেয়েছিলেন প্রায় ছয় হাজার ছবি নিয়ে এক ধরনের সামাজিক মানচিত্র তৈরি করতে। সেই সময় বড় আকারের কাঁচের নেগেটিভ ব্যবহার করে হাজার হাজার ছবি তুলেছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর বহু নেগেটিভ নষ্ট হয়ে যায়। পরে বেঁচে থাকা নেগেটিভ থেকে নতুন প্রিন্ট তৈরি করা হয়।

A New Look at August Sander's 'People of the Twentieth Century' - The New  York Times

মানুষের মুখে সত্যের ছাপ

স্যান্ডারের ছবিগুলোর বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সেখানে কৃত্রিম হাসি বা সাজানো অভিব্যক্তি নেই। মানুষগুলোকে যেমন, ঠিক তেমনভাবেই দেখানো হয়েছে। এক পেস্ট্রি প্রস্তুতকারকের ছবিতে যেমন দেখা যায় তাঁর আত্মবিশ্বাস ও পেশার প্রতি গর্ব, তেমনি এক কৃষক পরিবারের ছবিতে ফুটে উঠেছে পরিশ্রমী জীবনের নীরব মর্যাদা।

বিশেষ করে “তরুণ কৃষক” শিরোনামের ছবিটি সবচেয়ে আলোচিত। মাঠের ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকা তিন যুবকের সেই ছবি শুধু একটি সময়ের দলিল নয়, বরং সমাজের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেও ধরা হয়।

প্রান্তিক মানুষের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব

স্যান্ডারের প্রকল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ ছিল সমাজের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে তৈরি বিভাগ। এখানে তিনি ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী শ্রমিক, মানসিক আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা, অন্ধ শিশু এবং নির্যাতনের শিকার ইহুদিদের ছবিও তুলেছিলেন। এই ছবিগুলোই নাৎসি শাসকদের ক্ষুব্ধ করেছিল। তাঁদের ধারণা ছিল, এসব ছবি জার্মান সমাজের ‘অস্বস্তিকর সত্য’ সামনে নিয়ে আসে।

অনেক সমালোচকের মতে, এখানেই স্যান্ডারের কাজ শুধু শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি মানবতা ও নৈতিকতার এক শক্তিশালী দলিলে পরিণত হয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সমাজের প্রতিটি মানুষই ইতিহাসের অংশ।

আজও প্রাসঙ্গিক সেই আলোকচিত্র

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও অগাস্ট স্যান্ডারের কাজ নতুন করে আলোচনায় আসছে। কারণ তাঁর ছবিগুলো শুধু অতীতকে দেখায় না, বরং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দেয়। সামাজিক বিভাজন, বৈষম্য ও পরিচয়ের প্রশ্নে তাঁর কাজ এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন শিল্পবোদ্ধারা।