যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সমুদ্রসৈকতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ে এক ধনী ব্যবসায়ী ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সংঘাত এখন জাতীয় আলোচনায় পরিণত হয়েছে। সমুদ্রের ধারে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করা জন লেভি জুনিয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সৈকতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ লাখ ডলার জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিজের স্বপ্নের বাড়ির নাম দিয়েছিলেন ‘লেভিল্যান্ড’। ক্যালিফোর্নিয়ার কার্লসবাড এলাকায় সমুদ্রের ধারে গড়ে ওঠা এই বাড়িতে রয়েছে ব্যক্তিগত ক্রীড়া সুবিধাসহ নানা বিলাসী আয়োজন। কিন্তু সেই বাড়িকেই ঘিরে এখন শুরু হয়েছে দীর্ঘ আইনি লড়াই।
সৈকতের পথ বন্ধের অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশনের অভিযোগ, লেভি একটি গেট বন্ধ রেখে সৈকতে প্রবেশের পথ আটকে দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি লেগুনের পাশের হাঁটার পথও বন্ধ করা হয়েছে। তবে লেভির দাবি, সংশ্লিষ্ট গেট তার জমির মধ্যে নয় এবং যে পথ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সেটিও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অংশ।
শুনানির সময় কমিশনের এক সদস্য অভিযোগ করেন, এটি ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের অধিকারের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিয়ে লেভি কমিশনের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন।
আইনি ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
এই বিরোধ এখন শুধু একটি বাড়ি বা গেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিষয়টি রাজ্য কমিশনের জরিমানা আরোপের ক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। লেভি আদালতে মামলা করে দাবি করেছেন, আদালতের পূর্ণ বিচার ছাড়াই এত বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
তার ভাষায়, একই সংস্থা তদন্তকারী, অভিযোগকারী ও বিচারকের ভূমিকায় কাজ করছে। ফলে ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সংস্থা
ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশন ১৯৭২ সালে গঠিত হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল উপকূলীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। সময়ের সঙ্গে সংস্থাটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০১৪ সালে কমিশনকে প্রতিদিনের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সংস্থাটি আলোচনায় রয়েছে।
সমর্থকদের মতে, এই কমিশন না থাকলে ক্যালিফোর্নিয়ার বহু সৈকত ধনীদের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্যয় বাড়ছে।
বিরোধ আরও জটিল হচ্ছে
এই মামলায় দুটি গেটকে কেন্দ্র করে মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি গেট ব্যক্তিগত ড্রাইভওয়ের প্রবেশমুখে অবস্থিত, যা আসলে একটি আবাসিক সমিতির জমিতে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে লেগুনের পাশের হাঁটার পথটি আদৌ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
কার্লসবাড শহর প্রশাসনের বর্তমান কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে লেভির অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এতে পুরো বিষয়টি আরও জটিল আকার নিয়েছে।
আপসের পরও চলছে মামলা
শেষ পর্যন্ত কমিশনের চাপের মুখে লেভি আপাতত একটি গেট খুলতে রাজি হয়েছেন। বিনিময়ে তার জরিমানার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে ১৪ লাখ ডলারে নামানো হয়েছে। তবে তিনি এটিকে ‘চাঁদাবাজির মতো আচরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং মামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, জরিমানার উদ্দেশ্য অর্থ আদায় নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানো এবং জনসাধারণের অধিকার রক্ষা করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















