দেশজুড়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
চিকিৎসকদের ওপর হামলায় উদ্বেগ
বক্তব্যে ডা. ডোনার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত এক মাসে বিভিন্ন মাত্রার অন্তত ২৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। মাথায় আঘাত ও হাত ভাঙার মতো গুরুতর অবস্থার মধ্য দিয়ে তাকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
হাসপাতালে রোগীর চাপ ও সংকট
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ডা. ডোনার বলেন, রোগীর তুলনায় জনবল ও অবকাঠামোর সংকট দীর্ঘদিনের। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১ হাজার ৭০০ শয্যার হাসপাতালে প্রায়ই ৪ থেকে ৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন।
তার ভাষ্য, অনেক সময় একটি বেডে দুই থেকে তিনজন রোগীকে রাখতে হয়। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসকেরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এক ধরনের বিস্ময়কর দায়িত্ববোধের পরিচয়।
করোনাকালে চিকিৎসকদের ত্যাগ
করোনাভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বহু চিকিৎসক পরিবার থেকে দূরে থেকে রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন।
তিনি জানান, অনেক চিকিৎসক জানতেন তারা আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও ছিল। তবুও তারা দায়িত্ব পালন থেকে পিছিয়ে যাননি। নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আইন প্রণয়নের দাবি
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান ডা. ডোনার। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে জবাবদিহির স্পষ্ট ব্যবস্থাও আইনে রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।
তার মতে, নিরাপত্তাহীনতা চলতে থাকলে তরুণদের মধ্যে চিকিৎসা পেশায় আগ্রহ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষ চিকিৎসকেরা বিদেশমুখী হওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান
চিকিৎসকদের নিয়ে কোনো ঘটনা প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে আহত চিকিৎসককে দ্রুত ঢাকায় আনার জন্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
মানববন্ধনে ড্যাব নেতৃবৃন্দ ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর পর শনিবার ভোরে স্বজনেরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দায়িত্বরত এক চিকিৎসক আহত হন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















