যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই বোরবন হুইস্কির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এখন সেই শিল্পই বড় সংকটে পড়েছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় গুদামে জমে আছে কোটি কোটি ব্যারেল বোরবন, উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে বড় বড় ডিস্টিলারি প্রতিষ্ঠান, আর কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারির সময় মানুষ ঘরে বসে প্রচুর মদ কিনেছিল। সেই বাড়তি চাহিদা দেখে কোম্পানিগুলো ব্যাপক উৎপাদনে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এখন বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত।
জিম বিমেও ধাক্কা
বিশ্বখ্যাত বোরবন ব্র্যান্ড জিম বিমের উৎপাদন কেন্দ্রেও এখন চাপ স্পষ্ট। কেন্টাকির লুইসভিলের কাছে তাদের বিশাল কারখানার একটি বড় ডিস্টিলারি ইউনিট চলতি বছরের শুরু থেকে বন্ধ রয়েছে এবং অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত তা বন্ধ থাকতে পারে।
কোম্পানির গুদামগুলোতে সারি সারি ব্যারেলে জমে আছে প্রস্তুত বোরবন। কিন্তু সেই মদের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কর্মীদের অনেককে অন্য বিভাগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিক্রি বাড়াতে নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের আকৃষ্ট করতে আনারস-স্বাদের বোরবন ও অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়ও বাজারে আনার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মদপান কমাচ্ছে মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে এখন অনেক মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে মদপান কমিয়ে দিচ্ছেন। ওজন কমানোর নতুন ওষুধের ব্যবহারও মদের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে গাঁজা ও টিএইচসি-জাতীয় পানীয় সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই সেদিকে ঝুঁকছেন।
অর্থনৈতিক চাপও বড় কারণ। মূল্যস্ফীতির কারণে নিয়মিত মদপায়ীরাও এখন খরচ কমাচ্ছেন। ফলে একসময় দ্রুত বাড়তে থাকা বোরবনের বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধস।
কেন্টাকিতে রেকর্ড পরিমাণ মজুত
বর্তমানে কেন্টাকিতে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ ব্যারেল বোরবন জমা রয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মজুত দিয়ে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত বাজার চালানো সম্ভব।
২০২২ সালে আমেরিকান হুইস্কির বিক্রি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে চাহিদা কমছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট ডিস্টিলারিগুলোর অনেকেই টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে।
ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকার যুদ্ধ
কলোরাডোভিত্তিক একটি ছোট ব্র্যান্ড তাদের উৎপাদন কমিয়ে কর্মী সংখ্যা ৩০ থেকে ১২ জনে নামিয়ে এনেছে। অনেক ক্রেতাই এখন নতুন বোতল না কিনে আগের কেনা মদ ব্যবহার করছেন। ফলে ছোট ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে বড় কোম্পানিগুলোও খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যারেল তৈরির কারখানা বিক্রি করে দিচ্ছে, আবার কেউ কেউ সম্ভাব্য একীভূত হওয়ার পথ খুঁজছে।
ব্যারেলের বাজারেও ধস
বোরবন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কাঠের ব্যারেলের বাজারও এখন মন্দায়। কয়েক বছর আগেও একটি ব্যারেলের দাম ছিল অনেক বেশি। এখন সেই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবহৃত ব্যারেল, যেগুলো একসময় স্কটল্যান্ড বা আয়ারল্যান্ডে বিক্রি হতো, সেগুলোর চাহিদাও কমে গেছে।
কিছু কোম্পানি এখন সেই ব্যারেল বাগানের টব হিসেবে বিক্রি করছে।
পর্যটনের ওপর ভরসা
সংকটের মধ্যেও বোরবন শিল্প এখন পর্যটনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। জিম বিমের কারখানা ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। গত বছর সেখানে প্রায় দেড় লাখ মানুষ ঘুরতে গেছেন।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদা কমলেও বোরবনের সাংস্কৃতিক আবেদন এখনও শক্তিশালী। তাই দীর্ঘমেয়াদে আবার বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















