একসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখা হতো অ্যামাজনকে। বিশেষ করে ওপেনএআইয়ের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব এবং তাদের ক্লাউড ব্যবসার দ্রুত উত্থানের কারণে প্রযুক্তি বিশ্বে ধারণা তৈরি হয়েছিল, এআই প্রতিযোগিতায় অ্যামাজনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলাতে শুরু করেছে।
অ্যামাজনের ক্লাউড বিভাগ এডব্লিউএস এখন নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক, বিশাল অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নিজস্ব চিপ প্রযুক্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এআই নিয়ে নতুন কৌশল
এডব্লিউএস প্রধান ম্যাট গারম্যান মনে করেন, শুরুতে অনেকে অ্যামাজনের পরিকল্পনা বুঝতে পারেননি। তবে ধীরে ধীরে তাদের কৌশলের কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাড়াহুড়ো করে আলোচনায় আসার বদলে বাস্তব ব্যবসায়িক প্রয়োজনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্বে যখন এআইকে ঘিরে ভয়, চাকরি হারানোর আশঙ্কা এবং নানা ধরনের অতিরঞ্জিত ভবিষ্যদ্বাণী ছড়িয়ে পড়ছে, তখন অ্যামাজন তুলনামূলক শান্ত ও বাস্তবমুখী অবস্থান নিয়েছে। গারম্যানের মতে, এআই মানুষের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করবে এবং কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে।
নিজস্ব চিপেই বড় সুবিধা
অ্যামাজনের বর্তমান সাফল্যের বড় একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি অ্যানাপুর্না ল্যাবস অধিগ্রহণ করে নিজস্ব চিপ তৈরির কাজ শুরু করে। লক্ষ্য ছিল কম খরচে ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারে ক্লাউড সেবা পরিচালনা করা।
এই উদ্যোগ থেকেই আসে গ্র্যাভিটন ও ট্রেইনিয়াম চিপ। বিশেষ করে ট্রেইনিয়াম এখন এআই প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে এই চিপ প্রযুক্তি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যামাজনের চিপ ব্যবসাকে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হলে সেটির বার্ষিক আয় কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, অ্যামাজন শুধু ক্লাউড সেবাতেই নয়, এআই অবকাঠামোতেও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
ওপেনএআই সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ
সম্প্রতি ওপেনএআই তাদের মাইক্রোসফট সম্পর্ক পুনর্গঠন করেছে। এর ফলে অ্যামাজনের সঙ্গে নতুন ধরনের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘোষণা এসেছে, এডব্লিউএস ব্যবহারকারীরা ওপেনএআইয়ের মডেল ব্যবহার করতে পারবেন।
এটি শুধু প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, বরং এআই বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। কারণ এতদিন মাইক্রোসফটকে ওপেনএআইয়ের প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখা হলেও এখন বাজারে আরও বড় অংশীদারিত্বের পথ খুলছে।
প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন ভারসাম্য
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যামাজনের এই প্রত্যাবর্তন এআই বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। এতদিন এআই প্রতিযোগিতা মূলত মাইক্রোসফট, গুগল ও ওপেনএআইকে ঘিরে আবর্তিত হলেও এখন অ্যামাজনও বড় শক্তি হিসেবে সামনে আসছে।
একসময় যাকে পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান বলা হচ্ছিল, সেই অ্যামাজন এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মাধ্যমে আবারও প্রযুক্তি বিশ্বের কেন্দ্রীয় খেলোয়াড় হয়ে উঠছে।
অ্যামাজনের কৌশলগত বিনিয়োগ ও নিজস্ব চিপ প্রযুক্তি এআই প্রতিযোগিতায় নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















