১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
 নিকোলাস ওতামেন্দি: এক বিদায়, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি যুগের সমাপ্তি ব্রাইটন অধিনায়ক মেইসি সিমন্ডসের সঙ্গে নতুন চুক্তি নর্ডিক ওয়াকিং: হাঁটলেই মিলবে শরীরের প্রায় সব পেশির ব্যায়াম থাইল্যান্ডে ইতালীয় শিক্ষার্থীদের অসদাচরণে তীব্র ক্ষোভ, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল ইতালির দূতাবাস ৯ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা প্যারিসে তিন নারীকে ছুরিকাঘাত, ‘আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন’ দাবি; তবু সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স প্রবীণদের ভুলে যাচ্ছে সমাজ, বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশের ভয়াবহ বোঝা খাবার নিয়ে ‘খেলা’! মৃত মাছকে আঘাত করে টুকরো টুকরো করছে ঘাতক তিমি ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিতর্কে আবারও আলোচনায় রেনে রিচার্ডস পাসওয়ার্ড না জেনেও এআইকে দিয়ে লগইন, বাড়ছে সুবিধার সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি

মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্বপ্নে শঙ্কা, আত্মবিশ্বাসের বদলে বাড়ছে সংশয়

নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো ফুটবল দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের চেয়ে সংশয়ই যেন বেশি। সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের আগে দেশটির সমর্থকদের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যায়, এবার তার অনেকটাই অনুপস্থিত। দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, কোচ পরিবর্তন এবং চোট সমস্যা মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ অস্বস্তিকর।

বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিকতার প্রতীক ছিল। টানা সাতটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পৌঁছানো দলটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। সেই ব্যর্থতা দেশটির ফুটবল সংস্কৃতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়। সমর্থকদের কাছে শেষ ষোলোতে যাওয়া যেন ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই জাতীয় দল নিয়ে ধৈর্য কমতে শুরু করে।

কোচ বদল আর অনিশ্চয়তার সময়

২০২২ সালের পর কয়েক বছরের সময়টা মেক্সিকোর জন্য আরও হতাশাজনক ছিল। ২০২৩ গোল্ড কাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দলটি। এর মধ্যে কয়েকবার কোচ পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে ফেরানো হয় অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুয়েরেকে। এটি তার তৃতীয় মেয়াদ। আগুয়েরে আসার পর দলটি হঠাৎ বদলে যায়নি, তবে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তার অধীনে মেক্সিকো কনকাকাফ নেশনস লিগ এবং পরে গোল্ড কাপ জিতে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।

আগুয়েরের কৌশলও বেশ বাস্তবধর্মী। তিনি রক্ষণ শক্তিশালী করার দিকে জোর দিয়েছেন এবং দলকে ভুল কম করতে শিখিয়েছেন। চোখ ধাঁধানো ফুটবল না খেললেও মেক্সিকোকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন তিনি।

Mexican President Reviews 2026 World Cup Preparations with Infantino

চোটে জর্জরিত দল

বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন খেলোয়াড়দের চোট। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ফুটবলার এখনো পুরোপুরি ফিট নন। মাঝমাঠের মার্সেল রুইজের হাঁটুর সমস্যা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গোলরক্ষক লুইস মালাগন অ্যাকিলিস ইনজুরিতে ভুগছেন।

এছাড়া ডিফেন্ডার জুলিয়ান আরাউহো ও রদ্রিগো হুয়েস্কাসও চোটে পড়েছেন। অধিনায়ক এডসন আলভারেজ এবং তরুণ প্রতিভা গিলবার্তো মোরা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ফিট হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপের বড় ক্লাবে মেক্সিকোর উপস্থিতিও আগের মতো নেই। ফলে দলটির অভিজ্ঞতা ও মান নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শেষ ভরসা রাউল হিমেনেজ

মেক্সিকোর আক্রমণভাগের বড় ভরসা এখন রাউল হিমেনেজ। ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। ক্লাব ফুটবলে সফল ক্যারিয়ার থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের সেরা পারফরম্যান্স এখনো দেখাতে পারেননি তিনি।

তবে এবার মেক্সিকো যদি বড় কিছু করতে চায়, তাহলে হিমেনেজকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। অভিজ্ঞতা এবং গোল করার ক্ষমতা এখনো তাকে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় করে রেখেছে।

ঘরের মাঠ কি বাড়তি শক্তি দেবে?

মেক্সিকো এবার বিশ্বকাপ আয়োজন করছে তৃতীয়বারের মতো। ঘরের মাঠ, দর্শকদের সমর্থন এবং ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামের পরিবেশ দলটিকে বাড়তি শক্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে বাস্তবতা বলছে, দলটির লক্ষ্য আপাতত শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছানো। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমর্থকরা অবশ্য আশা ছাড়ছেন না। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে ঘরের মাঠের শক্তি কখনো কখনো অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

 নিকোলাস ওতামেন্দি: এক বিদায়, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি যুগের সমাপ্তি

মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্বপ্নে শঙ্কা, আত্মবিশ্বাসের বদলে বাড়ছে সংশয়

০৬:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো ফুটবল দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের চেয়ে সংশয়ই যেন বেশি। সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের আগে দেশটির সমর্থকদের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যায়, এবার তার অনেকটাই অনুপস্থিত। দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, কোচ পরিবর্তন এবং চোট সমস্যা মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ অস্বস্তিকর।

বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিকতার প্রতীক ছিল। টানা সাতটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পৌঁছানো দলটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। সেই ব্যর্থতা দেশটির ফুটবল সংস্কৃতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়। সমর্থকদের কাছে শেষ ষোলোতে যাওয়া যেন ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই জাতীয় দল নিয়ে ধৈর্য কমতে শুরু করে।

কোচ বদল আর অনিশ্চয়তার সময়

২০২২ সালের পর কয়েক বছরের সময়টা মেক্সিকোর জন্য আরও হতাশাজনক ছিল। ২০২৩ গোল্ড কাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দলটি। এর মধ্যে কয়েকবার কোচ পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে ফেরানো হয় অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুয়েরেকে। এটি তার তৃতীয় মেয়াদ। আগুয়েরে আসার পর দলটি হঠাৎ বদলে যায়নি, তবে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তার অধীনে মেক্সিকো কনকাকাফ নেশনস লিগ এবং পরে গোল্ড কাপ জিতে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।

আগুয়েরের কৌশলও বেশ বাস্তবধর্মী। তিনি রক্ষণ শক্তিশালী করার দিকে জোর দিয়েছেন এবং দলকে ভুল কম করতে শিখিয়েছেন। চোখ ধাঁধানো ফুটবল না খেললেও মেক্সিকোকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন তিনি।

Mexican President Reviews 2026 World Cup Preparations with Infantino

চোটে জর্জরিত দল

বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন খেলোয়াড়দের চোট। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ফুটবলার এখনো পুরোপুরি ফিট নন। মাঝমাঠের মার্সেল রুইজের হাঁটুর সমস্যা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গোলরক্ষক লুইস মালাগন অ্যাকিলিস ইনজুরিতে ভুগছেন।

এছাড়া ডিফেন্ডার জুলিয়ান আরাউহো ও রদ্রিগো হুয়েস্কাসও চোটে পড়েছেন। অধিনায়ক এডসন আলভারেজ এবং তরুণ প্রতিভা গিলবার্তো মোরা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ফিট হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপের বড় ক্লাবে মেক্সিকোর উপস্থিতিও আগের মতো নেই। ফলে দলটির অভিজ্ঞতা ও মান নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শেষ ভরসা রাউল হিমেনেজ

মেক্সিকোর আক্রমণভাগের বড় ভরসা এখন রাউল হিমেনেজ। ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। ক্লাব ফুটবলে সফল ক্যারিয়ার থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের সেরা পারফরম্যান্স এখনো দেখাতে পারেননি তিনি।

তবে এবার মেক্সিকো যদি বড় কিছু করতে চায়, তাহলে হিমেনেজকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। অভিজ্ঞতা এবং গোল করার ক্ষমতা এখনো তাকে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় করে রেখেছে।

ঘরের মাঠ কি বাড়তি শক্তি দেবে?

মেক্সিকো এবার বিশ্বকাপ আয়োজন করছে তৃতীয়বারের মতো। ঘরের মাঠ, দর্শকদের সমর্থন এবং ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামের পরিবেশ দলটিকে বাড়তি শক্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে বাস্তবতা বলছে, দলটির লক্ষ্য আপাতত শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছানো। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমর্থকরা অবশ্য আশা ছাড়ছেন না। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে ঘরের মাঠের শক্তি কখনো কখনো অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে।