০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
ফরিদপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সংঘর্ষ, মাছবাহী ট্রাকের চালক-সহকারী নিহত জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রক্টরকে নিয়ে কটূক্তির নিন্দা ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, আক্রান্তদের সরাতে উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার মস্কোয় ড্রোন হামলায় নিহত ভারতীয় শ্রমিক, আহত আরও তিনজন কলকাতায় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৩, আটক ২০ দ্য গান সিন্ডিকেট হরমুজ সংকটের চাপ, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ক্যালিফোর্নিয়ার সৈকত নিয়ে কোটি ডলারের লড়াই, ধনকুবেরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে উপকূল কমিশন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা আইন চাইল ড্যাব, হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ফরিদপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

জ্বালানি সংকট থেকে মুদ্রা সংকট: উন্নয়নশীল অর্থনীতির সামনে নতুন বাস্তবতা

বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানির দাম বাড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি শুধু তেল বা গ্যাসের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান মিলিয়ে অনেক দেশের জন্য জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে মুদ্রা সংকটে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব দেশ নিজেদের জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে, তাদের অর্থনীতি এখন দ্বৈত চাপের মুখে—একদিকে আমদানি ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সেই ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার মূল্যও বাড়ছে।

এ কারণেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উন্নয়নশীল এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের মুদ্রা দ্রুত দুর্বল হয়েছে। বিপরীতে, তেল রপ্তানিকারক কিছু দেশের মুদ্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে বা শক্তিশালী হয়েছে। এই বৈপরীত্য শুধু বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির একটি গভীর বাস্তবতা সামনে আনছে—জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এখন সরাসরি আর্থিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অনেক সরকার জ্বালানির উচ্চমূল্যের ধাক্কা সামাল দিতে ভর্তুকি, করছাড় কিংবা মূল্যনিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছে। স্বল্পমেয়াদে এতে রাজনৈতিক চাপ কমে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভও কিছুটা প্রশমিত হয়। কিন্তু এর আরেকটি মূল্য আছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার দুর্বল হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায় এবং বাজেট ঘাটতি বাড়তে থাকে। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানির ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অর্থনীতির ভেতরের শক্তি ক্ষয়ে যেতে থাকে।

ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্ক—প্রত্যেকটি দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও সংকটের মূল চরিত্র প্রায় একই। তেলের দাম বাড়লে শুধু জ্বালানি বিলই বাড়ে না, ডলারের চাহিদাও বেড়ে যায়। কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ এখনও ডলারে সম্পন্ন হয়। ফলে যেসব দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ কম, তাদেরকে একই সঙ্গে বেশি দামে তেল কিনতে হয় এবং সেই তেল কেনার জন্য আরও বেশি মূল্য দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হয়।

এই সংকটকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের সঙ্গে তুলনা করা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় একটি বড় পার্থক্য আছে। তখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বড় তেল আমদানিকারক ছিল। ফলে তেলের ধাক্কা ডলারকে দুর্বল করেছিল এবং অন্য দেশগুলো কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। এখন পরিস্থিতি উল্টো। যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে। ফলে জ্বালানি সংকটের সময় ডলার আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর সংকট দ্বিগুণ হচ্ছে।

The Energy Crisis Is Becoming a Currency Crisis in Asia's Emerging Markets  - Bloomberg

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সংকট কেবল সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা নয়; এটি উন্নয়ন মডেলের সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করছে। বহু দেশ এখনও এমন অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়া পরিবহন, বিদ্যুৎ কিংবা শিল্প খাত কল্পনাই করা যায় না। অথচ বিশ্বে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ইতোমধ্যে বিকল্প পথ তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎচালিত গাড়ি, সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও ব্যাটারি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এখন আর কেবল পরিবেশবাদী আলোচনার বিষয় নয়; এগুলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। যেসব দেশ দ্রুত এই রূপান্তরে এগোতে পারবে, তারা ভবিষ্যতের জ্বালানি ধাক্কা থেকে নিজেদের অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারবে।

এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে এর প্রাথমিক লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির বড় অংশ এখন ব্যাটারিচালিত। ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার এখনও তুলনামূলক ছোট হলেও প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে শুধু পরিবেশ সচেতনতা কাজ করছে না; সাধারণ মানুষও বুঝতে শুরু করেছে যে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি অর্থনৈতিকভাবে বেশি নিরাপদ।

তবে সরকারগুলোর নীতিগত দ্বিধা এখনও বড় বাধা। একদিকে তারা জ্বালানি ভর্তুকিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের গতি যথেষ্ট নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্য কম রাখতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, তার একটি অংশও যদি বৈদ্যুতিক পরিবহন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে।

এখানে শুধু আর্থিক হিসাব নয়, রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রশ্নও রয়েছে। বহু দশক ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য এমন এক কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে ধনী জ্বালানি রপ্তানিকারক রাষ্ট্রগুলো বিপুল সুবিধা পেয়েছে এবং দরিদ্র আমদানিনির্ভর দেশগুলো বারবার সংকটে পড়েছে। নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি সেই পুরোনো কাঠামো ভাঙার সুযোগ তৈরি করছে। কারণ সূর্য, বাতাস বা ব্যাটারি প্রযুক্তি এমন সম্পদ নয়, যা কেবল কয়েকটি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

তাই বর্তমান সংকটকে শুধু বিপদ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তা এবং একটি সুযোগ। উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি এখনই জ্বালানি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো আর কোনো জ্বালানি সংকট তাদের মুদ্রা সংকটে ঠেলে দিতে পারবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সংঘর্ষ, মাছবাহী ট্রাকের চালক-সহকারী নিহত

জ্বালানি সংকট থেকে মুদ্রা সংকট: উন্নয়নশীল অর্থনীতির সামনে নতুন বাস্তবতা

০৬:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানির দাম বাড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি শুধু তেল বা গ্যাসের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান মিলিয়ে অনেক দেশের জন্য জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে মুদ্রা সংকটে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব দেশ নিজেদের জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে, তাদের অর্থনীতি এখন দ্বৈত চাপের মুখে—একদিকে আমদানি ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সেই ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার মূল্যও বাড়ছে।

এ কারণেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উন্নয়নশীল এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের মুদ্রা দ্রুত দুর্বল হয়েছে। বিপরীতে, তেল রপ্তানিকারক কিছু দেশের মুদ্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে বা শক্তিশালী হয়েছে। এই বৈপরীত্য শুধু বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির একটি গভীর বাস্তবতা সামনে আনছে—জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এখন সরাসরি আর্থিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অনেক সরকার জ্বালানির উচ্চমূল্যের ধাক্কা সামাল দিতে ভর্তুকি, করছাড় কিংবা মূল্যনিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছে। স্বল্পমেয়াদে এতে রাজনৈতিক চাপ কমে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভও কিছুটা প্রশমিত হয়। কিন্তু এর আরেকটি মূল্য আছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার দুর্বল হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায় এবং বাজেট ঘাটতি বাড়তে থাকে। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানির ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অর্থনীতির ভেতরের শক্তি ক্ষয়ে যেতে থাকে।

ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্ক—প্রত্যেকটি দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও সংকটের মূল চরিত্র প্রায় একই। তেলের দাম বাড়লে শুধু জ্বালানি বিলই বাড়ে না, ডলারের চাহিদাও বেড়ে যায়। কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ এখনও ডলারে সম্পন্ন হয়। ফলে যেসব দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ কম, তাদেরকে একই সঙ্গে বেশি দামে তেল কিনতে হয় এবং সেই তেল কেনার জন্য আরও বেশি মূল্য দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হয়।

এই সংকটকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের সঙ্গে তুলনা করা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় একটি বড় পার্থক্য আছে। তখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বড় তেল আমদানিকারক ছিল। ফলে তেলের ধাক্কা ডলারকে দুর্বল করেছিল এবং অন্য দেশগুলো কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। এখন পরিস্থিতি উল্টো। যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে। ফলে জ্বালানি সংকটের সময় ডলার আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর সংকট দ্বিগুণ হচ্ছে।

The Energy Crisis Is Becoming a Currency Crisis in Asia's Emerging Markets  - Bloomberg

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সংকট কেবল সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা নয়; এটি উন্নয়ন মডেলের সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করছে। বহু দেশ এখনও এমন অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়া পরিবহন, বিদ্যুৎ কিংবা শিল্প খাত কল্পনাই করা যায় না। অথচ বিশ্বে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ইতোমধ্যে বিকল্প পথ তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎচালিত গাড়ি, সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও ব্যাটারি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এখন আর কেবল পরিবেশবাদী আলোচনার বিষয় নয়; এগুলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। যেসব দেশ দ্রুত এই রূপান্তরে এগোতে পারবে, তারা ভবিষ্যতের জ্বালানি ধাক্কা থেকে নিজেদের অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারবে।

এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে এর প্রাথমিক লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির বড় অংশ এখন ব্যাটারিচালিত। ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার এখনও তুলনামূলক ছোট হলেও প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে শুধু পরিবেশ সচেতনতা কাজ করছে না; সাধারণ মানুষও বুঝতে শুরু করেছে যে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি অর্থনৈতিকভাবে বেশি নিরাপদ।

তবে সরকারগুলোর নীতিগত দ্বিধা এখনও বড় বাধা। একদিকে তারা জ্বালানি ভর্তুকিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের গতি যথেষ্ট নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্য কম রাখতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, তার একটি অংশও যদি বৈদ্যুতিক পরিবহন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে।

এখানে শুধু আর্থিক হিসাব নয়, রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রশ্নও রয়েছে। বহু দশক ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য এমন এক কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে ধনী জ্বালানি রপ্তানিকারক রাষ্ট্রগুলো বিপুল সুবিধা পেয়েছে এবং দরিদ্র আমদানিনির্ভর দেশগুলো বারবার সংকটে পড়েছে। নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি সেই পুরোনো কাঠামো ভাঙার সুযোগ তৈরি করছে। কারণ সূর্য, বাতাস বা ব্যাটারি প্রযুক্তি এমন সম্পদ নয়, যা কেবল কয়েকটি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

তাই বর্তমান সংকটকে শুধু বিপদ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তা এবং একটি সুযোগ। উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি এখনই জ্বালানি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো আর কোনো জ্বালানি সংকট তাদের মুদ্রা সংকটে ঠেলে দিতে পারবে না।