০৮:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের শেষ ভরসাও কি ফুরিয়ে এসেছে? মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড় হাম চিকিৎসা কেন জরুরি ঘোষণা করা হচ্ছে না র‌্যাবকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা, আসছে নতুন আইন ও নাম পরিবর্তনের ভাবনা ফার্নেস অয়েলের দাম আবার বাড়ল, লিটারপ্রতি এখন ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক, বিশেষ এলাকায় সীমিত সেবা চালু মৃগীরোগে অচেতন চালক, সেই সুযোগে ভ্যান চুরি: ঝিনাইদহে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কোরবানির ঈদ ২৮ মে, বাংলাদেশে জিলহজ মাস শুরু তনু হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল চতুর্থ পুরুষের রক্ত

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের শেষ ভরসাও কি ফুরিয়ে এসেছে?

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই বৈপরীত্যে ভরা। একদিকে যুদ্ধ, সীমান্ত উত্তেজনা ও সন্ত্রাসবাদ; অন্যদিকে শান্তি আলোচনা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও রাজনৈতিক আশাবাদ। কিন্তু গত তিন দশকের অভিজ্ঞতা এখন এমন এক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক আর আগের প্রচলিত কাঠামোয় ফেরানো সম্ভব কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ভারতের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—“আলোচনা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না” এই নীতিকে আর কেবল কূটনৈতিক ভাষ্য হিসেবে নয়, বরং স্থায়ী কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

১৯৯০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয়ের পর পাকিস্তানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামো মনে করেছিল, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতকে চাপে ফেলা সম্ভব। সেই সময় থেকেই সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের নিরাপত্তা নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। ভারতের বিভিন্ন সরকার যদিও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়, তবু পাকিস্তানের ভেতরের শক্তির ভারসাম্য বারবার সেই উদ্যোগকে ধ্বংস করেছে।

নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে যে ‘কম্পোজিট ডায়ালগ’ শুরু হয়েছিল, তা ছিল দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা। মানবিক ইস্যু, বাণিজ্য, আস্থা তৈরির ব্যবস্থা, কাশ্মীর এবং সন্ত্রাসবাদ—সবকিছুকে একই কাঠামোর ভেতরে আনার চেষ্টা হয়েছিল। ভারতের দৃষ্টিতে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা ছিল সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তি। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষমতাকাঠামোর বড় অংশ কাশ্মীর ছাড়া অন্য যেকোনো অগ্রগতিকে সন্দেহের চোখে দেখত।

এরপর ইতিহাস একাধিকবার একই শিক্ষা দিয়েছে। লাহোর বাসযাত্রার পর কারগিল যুদ্ধ। শান্তি আলোচনার পর আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাই। আগ্রা বৈঠকের ব্যর্থতা। সংসদ হামলা। মুম্বাই হামলা। পাঠানকোট। উরি। প্রতিবারই রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংলাপের পথ খুলতে চেয়েছে, আর প্রতিবারই কোনো না কোনো সন্ত্রাসী আঘাত সেই প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশের মধ্যে এই বিশ্বাস শক্তিশালী হয়েছে যে পাকিস্তানের বেসামরিক সরকার ও সামরিক কাঠামো একই কৌশলে পরিচালিত হয় না; বরং অনেক সময় শান্তি উদ্যোগকে ইচ্ছাকৃতভাবেই নস্যাৎ করা হয়।

মনমোহন সিংয়ের সময় গোপন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে কাশ্মীর নিয়ে একটি “কার্যকর সমঝোতা”র সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বলে বহু কূটনীতিক মনে করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। কারণ, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রসায়ন কখনোই স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রস্তুত ছিল না। এমনকি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থাও কার্যত ফলহীন প্রমাণিত হয়।

Can India stop Pakistan's river water — and will it spark a new war? | India -Pakistan Tensions | Al Jazeera

নরেন্দ্র মোদির আমলেও শুরুতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা ছিল দৃশ্যমান। শপথ অনুষ্ঠানে নওয়াজ শরিফকে আমন্ত্রণ, আকস্মিক লাহোর সফর, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার নতুন কাঠামো—সবই ছিল সেই ইঙ্গিত। কিন্তু পাঠানকোট ও উরির হামলার পর ভারতীয় নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। “সার্জিক্যাল স্ট্রাইক” ছিল শুধু সামরিক অভিযান নয়; এটি ছিল রাজনৈতিক বার্তাও। ভারত বোঝাতে চেয়েছে যে সীমান্তপারের হামলার জবাব কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তবে এখানে একটি কঠিন সত্যও রয়েছে। সামরিক জবাব যেমন পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ থেকে সরাতে পারেনি, তেমনি দীর্ঘ সংলাপ প্রক্রিয়াও পারেনি। অর্থাৎ ভারত যে দুই পথই চেষ্টা করেছে—আলোচনা ও শক্তি প্রয়োগ—দুটোর কোনোটিই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। এই ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ সম্ভবত পাকিস্তানের রাষ্ট্রচিন্তাতেই নিহিত। দেশটির নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রে ভারতবিরোধিতা এত গভীরভাবে প্রোথিত যে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপও সেই অবস্থান বদলাতে পারেনি।

এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব। ভারত এখন সম্পর্ককে আর “স্বাভাবিক” ধরে নিতে চাইছে না। বরং সন্ত্রাসবাদকে দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রীয় প্রশ্নে পরিণত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও দিল্লি এই বার্তা দিতে চাইছে যে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রথম ধাপ কখনোই কেবল সীমান্ত সংঘর্ষ নয়; বরং সন্ত্রাসী হামলাই সেই সিঁড়ির শুরু।

তবে এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিরকাল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে পারে না। সীমান্ত, পানি, মানবিক সংকট, বন্দি বিনিময় কিংবা আকস্মিক সামরিক উত্তেজনা—এসব মোকাবিলায় অন্তত ন্যূনতম যোগাযোগ কাঠামো প্রয়োজন। কারণ সংলাপ না থাকলে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়ে, আর দক্ষিণ এশিয়ায় সেই ঝুঁকির মূল্য অনেক বেশি।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তাই আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে শান্তির ভাষা আগের মতো বিশ্বাসযোগ্য শোনায় না, আবার স্থায়ী বৈরিতাকেও নিরাপদ সমাধান বলা যায় না। গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা শুধু এটুকুই স্পষ্ট করেছে—যতদিন পাকিস্তান রাষ্ট্র তার কৌশলগত চিন্তায় মৌলিক পরিবর্তন না আনবে, ততদিন উপমহাদেশে স্থায়ী স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের শেষ ভরসাও কি ফুরিয়ে এসেছে?

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের শেষ ভরসাও কি ফুরিয়ে এসেছে?

০৮:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই বৈপরীত্যে ভরা। একদিকে যুদ্ধ, সীমান্ত উত্তেজনা ও সন্ত্রাসবাদ; অন্যদিকে শান্তি আলোচনা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও রাজনৈতিক আশাবাদ। কিন্তু গত তিন দশকের অভিজ্ঞতা এখন এমন এক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক আর আগের প্রচলিত কাঠামোয় ফেরানো সম্ভব কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ভারতের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—“আলোচনা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না” এই নীতিকে আর কেবল কূটনৈতিক ভাষ্য হিসেবে নয়, বরং স্থায়ী কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

১৯৯০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয়ের পর পাকিস্তানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামো মনে করেছিল, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতকে চাপে ফেলা সম্ভব। সেই সময় থেকেই সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের নিরাপত্তা নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। ভারতের বিভিন্ন সরকার যদিও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়, তবু পাকিস্তানের ভেতরের শক্তির ভারসাম্য বারবার সেই উদ্যোগকে ধ্বংস করেছে।

নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে যে ‘কম্পোজিট ডায়ালগ’ শুরু হয়েছিল, তা ছিল দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা। মানবিক ইস্যু, বাণিজ্য, আস্থা তৈরির ব্যবস্থা, কাশ্মীর এবং সন্ত্রাসবাদ—সবকিছুকে একই কাঠামোর ভেতরে আনার চেষ্টা হয়েছিল। ভারতের দৃষ্টিতে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা ছিল সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তি। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষমতাকাঠামোর বড় অংশ কাশ্মীর ছাড়া অন্য যেকোনো অগ্রগতিকে সন্দেহের চোখে দেখত।

এরপর ইতিহাস একাধিকবার একই শিক্ষা দিয়েছে। লাহোর বাসযাত্রার পর কারগিল যুদ্ধ। শান্তি আলোচনার পর আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাই। আগ্রা বৈঠকের ব্যর্থতা। সংসদ হামলা। মুম্বাই হামলা। পাঠানকোট। উরি। প্রতিবারই রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংলাপের পথ খুলতে চেয়েছে, আর প্রতিবারই কোনো না কোনো সন্ত্রাসী আঘাত সেই প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশের মধ্যে এই বিশ্বাস শক্তিশালী হয়েছে যে পাকিস্তানের বেসামরিক সরকার ও সামরিক কাঠামো একই কৌশলে পরিচালিত হয় না; বরং অনেক সময় শান্তি উদ্যোগকে ইচ্ছাকৃতভাবেই নস্যাৎ করা হয়।

মনমোহন সিংয়ের সময় গোপন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে কাশ্মীর নিয়ে একটি “কার্যকর সমঝোতা”র সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বলে বহু কূটনীতিক মনে করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। কারণ, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রসায়ন কখনোই স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রস্তুত ছিল না। এমনকি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থাও কার্যত ফলহীন প্রমাণিত হয়।

Can India stop Pakistan's river water — and will it spark a new war? | India -Pakistan Tensions | Al Jazeera

নরেন্দ্র মোদির আমলেও শুরুতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা ছিল দৃশ্যমান। শপথ অনুষ্ঠানে নওয়াজ শরিফকে আমন্ত্রণ, আকস্মিক লাহোর সফর, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার নতুন কাঠামো—সবই ছিল সেই ইঙ্গিত। কিন্তু পাঠানকোট ও উরির হামলার পর ভারতীয় নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। “সার্জিক্যাল স্ট্রাইক” ছিল শুধু সামরিক অভিযান নয়; এটি ছিল রাজনৈতিক বার্তাও। ভারত বোঝাতে চেয়েছে যে সীমান্তপারের হামলার জবাব কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তবে এখানে একটি কঠিন সত্যও রয়েছে। সামরিক জবাব যেমন পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ থেকে সরাতে পারেনি, তেমনি দীর্ঘ সংলাপ প্রক্রিয়াও পারেনি। অর্থাৎ ভারত যে দুই পথই চেষ্টা করেছে—আলোচনা ও শক্তি প্রয়োগ—দুটোর কোনোটিই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। এই ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ সম্ভবত পাকিস্তানের রাষ্ট্রচিন্তাতেই নিহিত। দেশটির নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রে ভারতবিরোধিতা এত গভীরভাবে প্রোথিত যে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপও সেই অবস্থান বদলাতে পারেনি।

এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব। ভারত এখন সম্পর্ককে আর “স্বাভাবিক” ধরে নিতে চাইছে না। বরং সন্ত্রাসবাদকে দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রীয় প্রশ্নে পরিণত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও দিল্লি এই বার্তা দিতে চাইছে যে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রথম ধাপ কখনোই কেবল সীমান্ত সংঘর্ষ নয়; বরং সন্ত্রাসী হামলাই সেই সিঁড়ির শুরু।

তবে এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিরকাল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে পারে না। সীমান্ত, পানি, মানবিক সংকট, বন্দি বিনিময় কিংবা আকস্মিক সামরিক উত্তেজনা—এসব মোকাবিলায় অন্তত ন্যূনতম যোগাযোগ কাঠামো প্রয়োজন। কারণ সংলাপ না থাকলে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়ে, আর দক্ষিণ এশিয়ায় সেই ঝুঁকির মূল্য অনেক বেশি।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তাই আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে শান্তির ভাষা আগের মতো বিশ্বাসযোগ্য শোনায় না, আবার স্থায়ী বৈরিতাকেও নিরাপদ সমাধান বলা যায় না। গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা শুধু এটুকুই স্পষ্ট করেছে—যতদিন পাকিস্তান রাষ্ট্র তার কৌশলগত চিন্তায় মৌলিক পরিবর্তন না আনবে, ততদিন উপমহাদেশে স্থায়ী স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে যাবে।