বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা আবারও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির সংকট।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম অনেক এলাকায় গ্যালনপ্রতি সাড়ে চার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে, একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির চাপও তীব্র হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সামনে আরও বড় সংকট অপেক্ষা করছে।
জরুরি পদক্ষেপেও মিলছে না স্বস্তি
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে তেল মজুত ভাণ্ডার থেকে রেকর্ড গতিতে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি কিছু পরিবহন বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে এবং রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে সহজ করা হয়েছে।
তবে জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে ঠেকিয়ে রাখতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়। কারণ মূল সংকট তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার কারণে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহ কমে গেছে।

গ্যাস কর স্থগিতের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক
গ্যাসের বাড়তি দামের চাপ কমাতে ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে বন্ধ করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এতে ভোক্তারা খুব বেশি সুবিধা পাবেন না। বরং এতে জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়তে পারে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কর কমানো হলেও একজন চালকের সাপ্তাহিক খরচে খুব সামান্য পরিবর্তন আসবে। ফলে এটি রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় শোনালেও বাস্তবে কার্যকর সমাধান নয়।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা
জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে তেল উৎপাদন বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ে থাকলেও তা দ্রুত বাড়ছে না। ফলে দেশীয় উৎপাদন দিয়েও সংকট পুরোপুরি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর রপ্তানিও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইরান ইস্যুতে বাড়ছে উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা ছাড়া জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করার অন্য কোনো কার্যকর পথ এখন দেখা যাচ্ছে না।
এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিই নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















