সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে নাটকীয় লড়াইয়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের দ্রুত জোড়া আঘাতে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে, ফলে ঐতিহাসিক রান তাড়ার ম্যাচে সফরকারীরা দিন শেষ করেছে চরম চাপে।
৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে ধাক্কা খেলেও পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। তবে দিনের শেষভাগে তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদুতে আবারও ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়ে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য এখনও তাদের প্রয়োজন ১২১ রান, হাতে রয়েছে মাত্র তিন উইকেট।
মুশফিকের রেকর্ড গড়া ইনিংস
বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের ভিত্তি তৈরি হয় তৃতীয় দিনেই। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করে তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসকে পৌঁছে দেন ৩৯০ রানে।
এই ইনিংসের মাধ্যমে মুশফিক টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং মুমিনুল হককে ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হয়ে যান। তার ইনিংসই মূলত পাকিস্তানের সামনে এমন এক লক্ষ্য দাঁড় করায়, যা টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম কঠিন রান তাড়ার চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিজওয়ান-সালমানের প্রতিরোধ
চতুর্থ দিনের শুরুতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও পাকিস্তান সহজে হাল ছাড়েনি। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা মিলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের দীর্ঘ জুটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করতে থাকে।
বিশেষ করে সালমান আগা ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসী। মাত্র ১০২ বলে ৭১ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।

তাইজুলের জাদুতে বদলে যায় ম্যাচ
ম্যাচ যখন ধীরে ধীরে পাকিস্তানের দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে, তখন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কৌশলী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তুলনামূলক নতুন বল তুলে দেন তাইজুল ইসলামের হাতে। আর সেই সিদ্ধান্তই মুহূর্তেই বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র।
৮২তম ওভারে তাইজুল প্রথমে সালমান আগাকে ফিরিয়ে দেন। আগের বলেই টার্নে তাকে পরাস্ত করার পর পরের ডেলিভারিতে দ্রুতগতির আর্ম বল করেন তিনি। সালমান রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হয়ে যান। এতে ভাঙে ১৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
এর ঠিক পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন তাইজুল। হাসান আলিকে শূন্য রানে ফেরান তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে দারুণ ভাসানো ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হন হাসান, আর স্লিপে সহজ ক্যাচ নেন অধিনায়ক শান্ত।
এই জোড়া আঘাতেই পাকিস্তানের ইনিংস কার্যত চাপে পড়ে যায়। শেষদিকে রিজওয়ান একাই লড়াই চালিয়ে গেলেও বাংলাদেশের জয় এখন অনেকটাই নাগালের মধ্যে।
সিলেট টেস্টে তাইজুল ইসলামের জোড়া আঘাতে চাপে পাকিস্তান। চতুর্থ দিন শেষে জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















