০৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
কানের দুল নেবার জন্যই হত্যা করে বস্তাবন্দী করা হলো গৃহশিক্ষিকাকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট আইন নিয়ে নতুন বিতর্ক, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা হামের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্য খাতে সব ছুটি বাতিল, জরুরি নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১১ শিশুর মৃত্যু বিদ্যুৎ বিভাগে বড় রদবদল, সচিব পদ হারালেন ফারজানা মমতাজ প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি, কমবে ডায়াবেটিস-হৃদরোগের ঝুঁকি সিলেট সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবির পাল্টাপাল্টি গুলি, হতাহতের ঘটনা নেই তাইজুলের জোড়া আঘাতে চাপে পাকিস্তান, সিলেটে জয়ের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ ঈদুল আজহায় ২৫ থেকে ৩১ মে বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজার বিপন্ন প্যাঙ্গোলিন পাচারের গোপন রুট শনাক্তে ডিএনএ মানচিত্র, বড় অগ্রগতি বিজ্ঞানীদের

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ঝুঁকিতে ৩ কোটি ৮০ লাখ চাকরি: আইএলওর সতর্কবার্তা

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা। সংস্থাটির আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জেনেভা থেকে প্রকাশিত আইএলওর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ, পর্যটন খাতে ধাক্কা এবং অভিবাসন সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপে পড়তে শুরু করেছে।

তেলের দাম বাড়লে বাড়বে বেকারত্ব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির গড় মূল্যের তুলনায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে ২০২৬ সালে কাজের সময় কমে যেতে পারে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ২০২৭ সালে কাজের সময় কমে যেতে পারে ১ দশমিক ১ শতাংশ। এর প্রভাব পড়বে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির ওপর।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক বেকারত্বের হারও বাড়তে পারে। আইএলওর হিসাবে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত ৫০ লাখ মানুষ এবং ২০২৭ সালে আরও ২ কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়তে পারেন।

Middle East conflict may have 'more lasting damage' on work than COVID, ILO  warns | Human Resources Director

আয়ের ওপর বড় চাপ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের প্রকৃত আয়ও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক শ্রম আয়ে প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কমতি দেখা দিতে পারে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৭ সালে এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেবে। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে।

ভারতের মতো দেশেও প্রভাবের আশঙ্কা

আইএলও জানিয়েছে, জ্বালানি ও সার সরবরাহে সংকট তৈরি হলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ভারতের মতো যেসব দেশ আমদানি করা সারের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোতে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এশিয়া ও আরব অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিতে

আইএলও বলছে, এই সংকটের প্রভাব সব অঞ্চলে সমান হবে না। যেসব দেশের অর্থনীতি উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানিনির্ভর শিল্পের সঙ্গে বেশি যুক্ত, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং আরব রাষ্ট্রগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

মেটা বর্ণনা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বে ৩ কোটি ৮০ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএলও।

জনপ্রিয় সংবাদ

কানের দুল নেবার জন্যই হত্যা করে বস্তাবন্দী করা হলো গৃহশিক্ষিকাকে

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ঝুঁকিতে ৩ কোটি ৮০ লাখ চাকরি: আইএলওর সতর্কবার্তা

০৫:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা। সংস্থাটির আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জেনেভা থেকে প্রকাশিত আইএলওর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ, পর্যটন খাতে ধাক্কা এবং অভিবাসন সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপে পড়তে শুরু করেছে।

তেলের দাম বাড়লে বাড়বে বেকারত্ব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির গড় মূল্যের তুলনায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে ২০২৬ সালে কাজের সময় কমে যেতে পারে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ২০২৭ সালে কাজের সময় কমে যেতে পারে ১ দশমিক ১ শতাংশ। এর প্রভাব পড়বে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির ওপর।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক বেকারত্বের হারও বাড়তে পারে। আইএলওর হিসাবে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত ৫০ লাখ মানুষ এবং ২০২৭ সালে আরও ২ কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়তে পারেন।

Middle East conflict may have 'more lasting damage' on work than COVID, ILO  warns | Human Resources Director

আয়ের ওপর বড় চাপ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের প্রকৃত আয়ও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক শ্রম আয়ে প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কমতি দেখা দিতে পারে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৭ সালে এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেবে। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে।

ভারতের মতো দেশেও প্রভাবের আশঙ্কা

আইএলও জানিয়েছে, জ্বালানি ও সার সরবরাহে সংকট তৈরি হলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ভারতের মতো যেসব দেশ আমদানি করা সারের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোতে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এশিয়া ও আরব অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিতে

আইএলও বলছে, এই সংকটের প্রভাব সব অঞ্চলে সমান হবে না। যেসব দেশের অর্থনীতি উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানিনির্ভর শিল্পের সঙ্গে বেশি যুক্ত, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং আরব রাষ্ট্রগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

মেটা বর্ণনা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বে ৩ কোটি ৮০ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএলও।