চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ জন। আর দুইজন শিশু লজ্জা ও মানসিক আঘাতে আত্মহত্যা করেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ চিত্র।
অপরাধী বেশিরভাগ পরিচিত মুখ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া ইকবাল বলেছেন, গবেষণায় দেখা গেছে দশটি ধর্ষণের মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রেই অপরাধী শিশুর পরিচিত। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয় পর্যন্ত, বাড়ির কাছের মানুষই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধী।
সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় নতুন আলোড়ন
ঢাকার পল্লবীতে ১৯ মে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তার মাথা উদ্ধার হয় প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে। সিলেটে ৬ মে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার পর হত্যা করা হয়। ১২ মে প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিচারহীনতাই বড় বাধা
আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, দীর্ঘসূত্রী বিচার প্রক্রিয়া আর দুর্বল তদন্ত শিশু নির্যাতনে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের সবচেয়ে বড় বাধা। সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদ শিশুর জীবন ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করলেও বাস্তবে রাষ্ট্র বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। একই সময়ে আরও ৪৬টি শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে।
জানুয়ারি থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার, নিহত ১৭। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে উঠে এল রাষ্ট্রের ব্যর্থতার ভয়াবহ চিত্র।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















