০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
শরীয়তপুরে রহস্যজনক বিস্ফোরণ, খেলতে গিয়ে শিশুর কবজি বিচ্ছিন্ন হাঁটার ছোট পরিবর্তনেই বড় স্বাস্থ্য উপকার, জানালেন বিশেষজ্ঞরা বিশ্বকাপ দেখতে চাইলে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্ক, ক্ষোভ বাড়ছে সমর্থকদের ঈদের ভিড় কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল? ক্রেতাশূন্য ঢাকার বাজারে দোকানিদের দীর্ঘশ্বাস আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাতারাতি বদলাবে না: পরিবেশমন্ত্রী চীন সফরে ট্রাম্প, বিশ্ব নেতৃত্বে পূর্বমুখী শক্তির উত্থানের বার্তা জিয়ার ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক বেতার ভাষণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিল: ভারত কোরবানির হাটে হাসির বদলে হতাশা: খামারিদের লোকসান কি বদলে দেবে দেশের গবাদিপশু খাত? পলিমার্কেটে গোপন তথ্যের বাজি, গুগল প্রকৌশলীকে ঘিরে জালিয়াতির অভিযোগ নিষেধাজ্ঞার যুগে ইরানের তেল

পলিমার্কেটে গোপন তথ্যের বাজি, গুগল প্রকৌশলীকে ঘিরে জালিয়াতির অভিযোগ

অনলাইন ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজির বাজারে গোপন তথ্য ব্যবহার করে লাভ করার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার এমন এক ঘটনার পর্দা উঠেছে, যেখানে একজন সাধারণ অনলাইন পর্যবেক্ষকের সন্দেহ শেষ পর্যন্ত ফেডারেল তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গুগলের দীর্ঘদিনের এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে পলিমার্কেট নামের একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজি প্ল্যাটফর্মে বিপুল অর্থ লাভ করেছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি এমন তথ্যের ভিত্তিতে বাজি ধরেছিলেন যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।

অনলাইন অনুসন্ধানীর সন্দেহ থেকেই শুরু

US charges Google engineer with insider trading on Polymarket

গত বছরের শেষ দিকে এক ব্লকচেইন প্রকৌশলী লক্ষ্য করেন, একটি রহস্যময় অ্যাকাউন্ট ধারাবাহিকভাবে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে বড় অঙ্কের অর্থ জিতছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তিনি দাবি করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্ভবত গুগলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করছেন। কয়েক মাস পর সরকারি অভিযোগপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সেই সন্দেহ নতুন মাত্রা পায়।

কী অভিযোগ আনা হয়েছে

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী গুগলের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সুবিধা নিয়ে একাধিক বাজি ধরে এক মিলিয়ন ডলারেরও বেশি লাভ করেন। পরে সেই অর্থের উৎস গোপন রাখতে বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।

Geopolitical bets surge on Polymarket prediction markets - Rest of World

তদন্তকারীরা জানান, অর্থ স্থানান্তরের কিছু ধাপ আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও আগের একটি লেনদেনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ডিজিটাল সম্পদের গতিপথ অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীরা তার নাম ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের মধ্যে সংযোগ খুঁজে পান।

ভবিষ্যদ্বাণী বাজারে বাড়ছে নজরদারি

পলিমার্কেটের মতো প্ল্যাটফর্মে রাজনীতি, যুদ্ধ, অর্থনীতি কিংবা জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা ঘটনা নিয়ে বাজি ধরা যায়। ফলে যাদের কাছে গোপন বা অপ্রকাশিত তথ্য থাকে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে সব লেনদেন ব্লকচেইনে সংরক্ষিত থাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ। অনেক স্বেচ্ছাসেবী বিশ্লেষক ও অনলাইন পর্যবেক্ষক নিয়মিত এসব তথ্য পর্যালোচনা করেন এবং অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে এলে তা প্রকাশ্যে আনেন।

What If Central Banks Issued Digital Currency?

ব্লকচেইনের স্বচ্ছতাই হয়ে উঠছে অস্ত্র

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থকে প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থায় আনতে হলে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের সাহায্য নিতে হয়। সেই পর্যায়েই তদন্তকারীরা পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ পান।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে অনেকেই প্রমাণ হিসেবে দেখছেন যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও ব্লকচেইনভিত্তিক লেনদেনে সম্পূর্ণভাবে পরিচয় গোপন রাখা অত্যন্ত কঠিন। আর সেই কারণেই ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজারে সম্ভাব্য ভেতরের তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুরে রহস্যজনক বিস্ফোরণ, খেলতে গিয়ে শিশুর কবজি বিচ্ছিন্ন

পলিমার্কেটে গোপন তথ্যের বাজি, গুগল প্রকৌশলীকে ঘিরে জালিয়াতির অভিযোগ

০২:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

অনলাইন ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজির বাজারে গোপন তথ্য ব্যবহার করে লাভ করার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার এমন এক ঘটনার পর্দা উঠেছে, যেখানে একজন সাধারণ অনলাইন পর্যবেক্ষকের সন্দেহ শেষ পর্যন্ত ফেডারেল তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গুগলের দীর্ঘদিনের এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে পলিমার্কেট নামের একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজি প্ল্যাটফর্মে বিপুল অর্থ লাভ করেছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি এমন তথ্যের ভিত্তিতে বাজি ধরেছিলেন যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।

অনলাইন অনুসন্ধানীর সন্দেহ থেকেই শুরু

US charges Google engineer with insider trading on Polymarket

গত বছরের শেষ দিকে এক ব্লকচেইন প্রকৌশলী লক্ষ্য করেন, একটি রহস্যময় অ্যাকাউন্ট ধারাবাহিকভাবে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে বড় অঙ্কের অর্থ জিতছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তিনি দাবি করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্ভবত গুগলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করছেন। কয়েক মাস পর সরকারি অভিযোগপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সেই সন্দেহ নতুন মাত্রা পায়।

কী অভিযোগ আনা হয়েছে

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী গুগলের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সুবিধা নিয়ে একাধিক বাজি ধরে এক মিলিয়ন ডলারেরও বেশি লাভ করেন। পরে সেই অর্থের উৎস গোপন রাখতে বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।

Geopolitical bets surge on Polymarket prediction markets - Rest of World

তদন্তকারীরা জানান, অর্থ স্থানান্তরের কিছু ধাপ আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও আগের একটি লেনদেনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ডিজিটাল সম্পদের গতিপথ অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীরা তার নাম ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের মধ্যে সংযোগ খুঁজে পান।

ভবিষ্যদ্বাণী বাজারে বাড়ছে নজরদারি

পলিমার্কেটের মতো প্ল্যাটফর্মে রাজনীতি, যুদ্ধ, অর্থনীতি কিংবা জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা ঘটনা নিয়ে বাজি ধরা যায়। ফলে যাদের কাছে গোপন বা অপ্রকাশিত তথ্য থাকে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে সব লেনদেন ব্লকচেইনে সংরক্ষিত থাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ। অনেক স্বেচ্ছাসেবী বিশ্লেষক ও অনলাইন পর্যবেক্ষক নিয়মিত এসব তথ্য পর্যালোচনা করেন এবং অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে এলে তা প্রকাশ্যে আনেন।

What If Central Banks Issued Digital Currency?

ব্লকচেইনের স্বচ্ছতাই হয়ে উঠছে অস্ত্র

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থকে প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থায় আনতে হলে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের সাহায্য নিতে হয়। সেই পর্যায়েই তদন্তকারীরা পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ পান।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে অনেকেই প্রমাণ হিসেবে দেখছেন যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও ব্লকচেইনভিত্তিক লেনদেনে সম্পূর্ণভাবে পরিচয় গোপন রাখা অত্যন্ত কঠিন। আর সেই কারণেই ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজারে সম্ভাব্য ভেতরের তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার হচ্ছে।