অনলাইন ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজির বাজারে গোপন তথ্য ব্যবহার করে লাভ করার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার এমন এক ঘটনার পর্দা উঠেছে, যেখানে একজন সাধারণ অনলাইন পর্যবেক্ষকের সন্দেহ শেষ পর্যন্ত ফেডারেল তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গুগলের দীর্ঘদিনের এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে পলিমার্কেট নামের একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজি প্ল্যাটফর্মে বিপুল অর্থ লাভ করেছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি এমন তথ্যের ভিত্তিতে বাজি ধরেছিলেন যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।
অনলাইন অনুসন্ধানীর সন্দেহ থেকেই শুরু
গত বছরের শেষ দিকে এক ব্লকচেইন প্রকৌশলী লক্ষ্য করেন, একটি রহস্যময় অ্যাকাউন্ট ধারাবাহিকভাবে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে বড় অঙ্কের অর্থ জিতছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তিনি দাবি করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্ভবত গুগলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করছেন। কয়েক মাস পর সরকারি অভিযোগপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সেই সন্দেহ নতুন মাত্রা পায়।
কী অভিযোগ আনা হয়েছে
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী গুগলের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সুবিধা নিয়ে একাধিক বাজি ধরে এক মিলিয়ন ডলারেরও বেশি লাভ করেন। পরে সেই অর্থের উৎস গোপন রাখতে বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারীরা জানান, অর্থ স্থানান্তরের কিছু ধাপ আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও আগের একটি লেনদেনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ডিজিটাল সম্পদের গতিপথ অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীরা তার নাম ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের মধ্যে সংযোগ খুঁজে পান।
ভবিষ্যদ্বাণী বাজারে বাড়ছে নজরদারি
পলিমার্কেটের মতো প্ল্যাটফর্মে রাজনীতি, যুদ্ধ, অর্থনীতি কিংবা জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা ঘটনা নিয়ে বাজি ধরা যায়। ফলে যাদের কাছে গোপন বা অপ্রকাশিত তথ্য থাকে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে সব লেনদেন ব্লকচেইনে সংরক্ষিত থাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ। অনেক স্বেচ্ছাসেবী বিশ্লেষক ও অনলাইন পর্যবেক্ষক নিয়মিত এসব তথ্য পর্যালোচনা করেন এবং অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে এলে তা প্রকাশ্যে আনেন।
ব্লকচেইনের স্বচ্ছতাই হয়ে উঠছে অস্ত্র
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থকে প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থায় আনতে হলে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের সাহায্য নিতে হয়। সেই পর্যায়েই তদন্তকারীরা পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ পান।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে অনেকেই প্রমাণ হিসেবে দেখছেন যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও ব্লকচেইনভিত্তিক লেনদেনে সম্পূর্ণভাবে পরিচয় গোপন রাখা অত্যন্ত কঠিন। আর সেই কারণেই ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজারে সম্ভাব্য ভেতরের তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















