ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি মানুষের আবেগের মিলনমেলা। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে এক নতুন বাস্তবতা সামনে এসেছে—খেলা দেখতে মাঠে যেতে চাইলে সমর্থকদের গুনতে হচ্ছে বিপুল অর্থ। টিকিট, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে অনেকের কাছেই বিশ্বকাপ এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে উৎসাহের কমতি নেই, তবে খরচের চাপ নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা। অনেক ফুটবলপ্রেমীর অভিযোগ, বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম দেখে অনেকেই বিস্মিত। পুনর্বিক্রয় বাজারে কিছু টিকিটের মূল্য কয়েক হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি কিছু বিক্রেতা অবিশ্বাস্য উচ্চমূল্যও চেয়েছেন, যা সাধারণ সমর্থকদের জন্য কল্পনারও বাইরে।
শুধু ফাইনাল নয়, গ্রুপ পর্বের অনেক ম্যাচের টিকিটও বেশ ব্যয়বহুল। জনপ্রিয় দলগুলোর ম্যাচে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও দ্রুত বেড়েছে। ফলে মাঠে বসে খেলা দেখার স্বপ্ন অনেক সমর্থকের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।
যাতায়াতেও বাড়তি চাপ
স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর খরচও আলোচনায় এসেছে। কিছু আয়োজক শহরে ম্যাচের দিন বিশেষ পরিবহন ভাড়া সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দর্শকদের মোট ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজকদের যুক্তি, অতিরিক্ত ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে সমর্থকদের একটি বড় অংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।
মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক
এবারের বিশ্বকাপে চাহিদাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদা বাড়লে টিকিটের দামও বেড়ে যায়। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থা আয়োজকদের রাজস্ব বাড়ালেও সাধারণ সমর্থকদের জন্য বড় বাধা তৈরি করছে।
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ফুটবল এমন একটি খেলা যা সব শ্রেণির মানুষকে একত্র করে। কিন্তু অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনাকে দুর্বল করতে পারে।
প্রত্যাশার তুলনায় কম বুকিং
উচ্চ ব্যয়ের প্রভাব ইতোমধ্যে পর্যটন খাতেও পড়তে শুরু করেছে। কিছু আয়োজক শহরে প্রত্যাশার তুলনায় হোটেল বুকিং কম হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক আন্তর্জাতিক দর্শক ভ্রমণের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন বা বাতিল করছেন।

অর্থনৈতিকভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদেশি পর্যটকরা শুধু খেলার টিকিটই কেনেন না, তারা হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসাতেও অর্থ ব্যয় করেন। ফলে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিকল্প পথ খুঁজছেন সমর্থকরা
তবে সব খবরই হতাশার নয়। কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম সময়ের সঙ্গে কমতেও শুরু করেছে। অনেক সমর্থক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট পাওয়ার আশায়।
এছাড়া বিভিন্ন শহরে বিনামূল্যের দর্শক সমাবেশ, উন্মুক্ত প্রেক্ষাগৃহ এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হচ্ছে। অনেকের মতে, হাজার হাজার সমর্থকের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করার আনন্দও কম নয়।
বিশ্বকাপ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবগুলোর একটি। তবে বাড়তি খরচের কারণে এবারের আসর নতুন এক প্রশ্ন সামনে এনেছে—ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ কি ধীরে ধীরে শুধু ধনীদের নাগালে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















