বিদেশি বিনিয়োগের নামে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চল হস্তান্তরের অভিযোগে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আলবেনিয়া। রাজধানী তিরানাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রস্তাবিত বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প।
বিতর্কিত প্রকল্প ঘিরে বাড়ছে জনঅসন্তোষ
গত কয়েকদিন ধরেই তিরানায় চলমান বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন সাধারণ নাগরিক, পরিবেশবাদী এবং বিরোধী মতের মানুষ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার দেশের মূল্যবান উপকূলীয় এলাকা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শুক্রবারও হাজারো মানুষ রাজধানীতে জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তারা প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেন এবং বিতর্কিত প্রকল্প বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকির আশঙ্কা
প্রায় ১৪০ কোটি ইউরো ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে জ্যারেড কুশনারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি দ্বীপ ও উপকূলীয় অনুন্নত এলাকায় বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
তবে পরিবেশবিদদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিস্তীর্ণ সৈকত, জলাভূমি এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে অঞ্চলটি ফ্লেমিঙ্গো, সিল এবং সামুদ্রিক কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, ভিয়োসা-নার্তা এলাকা দেশটির ফ্লেমিঙ্গোদের একমাত্র প্রজননস্থল। প্রতি বছর হাজার হাজার ফ্লেমিঙ্গো এই অঞ্চল ব্যবহার করে। তাদের আশঙ্কা, বড় আকারের নির্মাণকাজ শুরু হলে পাখিগুলো এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে পারে।

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ বিতর্ক
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অবশ্য বলছে, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তাদের মতে, এই বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে সমালোচকদের দাবি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়। ফলে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্নে আলবেনিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এর আগেও অঞ্চলে বড় বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে জনঅসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। ফলে বর্তমান প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















