যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দলের ভেতর থেকেই ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা দেখানো রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ এখন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান নিতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের কিছু নীতি ও প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। ইরান-সংক্রান্ত অবস্থান, হোয়াইট হাউসের একটি প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন, বিশেষ তহবিল গঠন এবং নজরদারি সংক্রান্ত আইন নিয়ে দলীয় ভেতরেই আপত্তি দেখা গেছে। এমনকি প্রতিনিধি পরিষদ ইউক্রেনকে সহায়তা ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলও পাস করেছে, যা ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নির্বাচনের আগে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক হিসাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মনোভাবকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে তারা সব বিষয়ে ট্রাম্পকে অনুসরণ করার পরিবর্তে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবস্থান নিচ্ছেন।
যদিও ডেমোক্র্যাটদের একাংশ মনে করে, এটিকে এখনই ট্রাম্পবিরোধী বড় ধরনের বিদ্রোহ বলা যাবে না। তাদের মতে, রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের প্রভাব এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে দলীয় ভেতরে মতপার্থক্য যে দৃশ্যমান হচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
ক্ষোভের পেছনে কী কারণ
রিপাবলিকানদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষের অন্যতম কারণ হলো সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ। কয়েকজন বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটরের পুনর্নির্বাচন প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের সময় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু আইনপ্রণেতা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।
মে মাসের শেষ দিকে একটি বিতর্কিত তহবিল এবং অভিবাসন প্রয়োগ সংক্রান্ত অর্থায়ন বিলকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানদের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকেই অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

সামনে আরও কঠিন লড়াই
দলীয় ভেতরের এই মতবিরোধ এখনো মূলত প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও সামনে তা আরও বড় আকার নিতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও প্রশাসনিক পদে মনোনয়ন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর পরিকল্পনা নিয়েও কিছু রিপাবলিকান নেতা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
আইনপ্রণেতাদের একাংশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে আইনের শাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আগামী মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ কংগ্রেসে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন যত কাছে আসবে, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের এই টানাপোড়েনও তত বেশি গুরুত্ব পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা এখন ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান জোরালো হচ্ছে। কংগ্রেসে বাড়ছে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক চাপ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















