যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সোমবার থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। তবে এই আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্যও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি।
নিউ জার্সিতে সপ্তাহান্ত কাটিয়ে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চান। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ হলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে, আর সেটি তিনি এড়াতে চান।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি সামরিক হামলা স্থগিত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত একটি সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে সচল করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার সমাধান করা।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে এ পথে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে।
তবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় বাজারে এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
একই সময়ে ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এই আলোচনা মূলত নতুন নৌপথ নিয়ে এবং হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
ইসরায়েলের কঠোর বার্তা

ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, ইরান যদি আবার পারমাণবিক কর্মসূচি বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের চেষ্টা করে, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরের মতোই দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
আলোচনার দিকে নজর বিশ্বজুড়ে
সোমবারের এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, এর ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী অবস্থান নিলেও এখনো স্পষ্ট নয়, এই উদ্যোগ থেকে কত দ্রুত কোনো কার্যকর সমঝোতা অর্জিত হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















