গাজার উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের পরিচালক ও খ্যাতনামা ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকার পর সম্প্রতি তাকে একাকী কারাবাসে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটক থাকলেও তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।
পরিবারের দাবি, আটক অবস্থায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তার ছেলে ইলিয়াস আবু সাফিয়া, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, বলেছেন যে বাবার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে তারা ক্রমেই বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ছেন।
স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
ইলিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় তার বাবার বাম উরুতে থাকা ধাতব টুকরো অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ব্যথা ও ফোলাভাবের সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন।

পরিবারের কাছে পৌঁছানো তথ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থার প্রথম কয়েক মাস তিনি পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ পাননি। এতে তার ত্বকে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় শারীরিক কষ্ট আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একাকী সেলে স্থানান্তর
সম্প্রতি তাকে একটি অত্যন্ত ছোট একাকী কক্ষে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, কক্ষটি এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করা বা আরাম করে বসাও কঠিন।
এ ধরনের একাকী কারাবাসকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিশ্বের অন্যতম কঠোর বন্দিত্ব ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিবেশে রাখা হলে তা গুরুতর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
হাসপাতাল ছাড়তে অস্বীকৃতি
হুসাম আবু সাফিয়া গাজার সংঘাতকালীন সময়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। অবরোধ ও সামরিক অভিযানের মধ্যেও তিনি হাসপাতাল ত্যাগ না করে রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখেন।

তার ছেলে দাবি করেন, হাসপাতাল খালি করে চলে যাওয়ার নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। পরিবারের মতে, রোগীদের পাশে থাকার সিদ্ধান্তই তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ আটক
হুসাম আবু সাফিয়াকে এমন একটি আইনি কাঠামোর অধীনে আটক রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় বিচার ছাড়াই বন্দি রাখা সম্ভব। তার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও সীমিত।
আইনজীবীরা তার মুক্তির আবেদন জানালেও মামলার কার্যক্রম গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে তার আটকাদেশের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অন্যান্য চিকিৎসকরাও আটক

হুসাম আবু সাফিয়া একা নন। আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি চিকিৎসক দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ ছাড়াই আটক রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি আটক এবং তাদের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা একটি উদ্বেগজনক বিষয়। এ বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গাজার চলমান সংকটের মধ্যে হুসাম আবু সাফিয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার পরিবার এখনো আশায় আছে, একদিন তিনি মুক্ত হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















