ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে, ওমান উপকূলে একটি জাহাজকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে তারা নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
তৃতীয়বারের মতো ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা
ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম ‘জালভির’। এটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে এটি ভারতীয় নাবিক বহনকারী তৃতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আওতায় আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
)
এর আগে বুধবার ওমান উপসাগরে ‘সেত্তেবেল্লো’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
এরও আগে ‘মারিভেক্স’ নামের একটি খালি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে জাহাজটিতে গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। সেখানে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ওয়াশিংটন পাল্টা হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতির কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

ভারতের উদ্বেগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, অঞ্চলে চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব এখন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ভারত অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু না করারও দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















