ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় নিখোঁজ হওয়া তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ভারত সরকার। একই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিক থাকা আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজেও নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যদিও ওই জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ আছেন বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানান, পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি সেট্টেবেলোতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় প্রথমে নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত তিন ভারতীয় নাবিকের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই মৃত্যু সামুদ্রিক পরিবহন খাতের জন্য এক গভীর ক্ষতি। নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ থেকে নিহত

বুধবার ওমানের উপকূলে হামলার শিকার হয় এমটি সেট্টেবেলো। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। ওমানের সশস্ত্র বাহিনী ২৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব নিহতদের মধ্যে দুজনের নাম প্রকাশ করেন। তারা হলেন ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা এবং ইঞ্জিন ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া।
আরেক হামলার খবর
একই অঞ্চলে বৃহস্পতিবার ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শিনাস বন্দরের কাছে একটি জাহাজ-সংক্রান্ত ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ভারতের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সেট্টেবেলোতে হামলার ঘটনার পর ভারত সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করে ঘটনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ নিবন্ধন করে।
এদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, আক্রান্ত জাহাজগুলো কোনো অস্ত্র বহন করছিল না এবং সাধারণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
বিতর্কের কেন্দ্রে সামুদ্রিক নিরাপত্তা
এই সপ্তাহে এমটি সেট্টেবেলোর পাশাপাশি এমটি মারিভেক্স নামের আরেকটি জাহাজও হামলার মুখে পড়ে। পালাউয়ের পতাকাবাহী ওই জাহাজে থাকা ২৪ ভারতীয় নাবিককে ওমানের সামরিক বাহিনী নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
মনোজ যাদবের দাবি, চলমান সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হামলার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে হামলা চালানো হলে জ্বালানি ও দাহ্য পদার্থের কারণে নাবিকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এমটি সেট্টেবেলো ওমান উপসাগর অতিক্রম করার সময় মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করেছিল। তাদের দাবি, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করে চলমান অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা করছিল। এ কারণে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ অকার্যকর করা হয়।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















