০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার সঙ্গীতের গণ্ডি ভেঙে নিজেদের পথ: স্বাধীন ব্যান্ড দ্য অ্যারিস্টোক্র্যাটসের সাফল্যের গল্প যুদ্ধের পরিসংখ্যানের আড়ালে যে মানুষগুলো থাকে ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের বিশ্বকাপ আক্ষেপ: ৪৫৪ অভিষেক, ১৫ কোচ, তবু অধরাই শিরোপা ব্রড পিকে তুষারধস: নিখোঁজ ৭ আরোহীর সন্ধানে আবারও উদ্ধার অভিযান, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

বিশ্বশক্তির সীমাবদ্ধতা: যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার সমীকরণ

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—শক্তিশালী রাষ্ট্র যা চায় তাই করতে পারে, আর দুর্বল রাষ্ট্রকে তার ফল ভোগ করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় সংঘাত সেই ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা এবং যুদ্ধের নতুন কৌশল দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু সামরিক শক্তি থাকলেই আর নিশ্চিত বিজয় অর্জন করা যায় না।

যুদ্ধক্ষেত্রে বদলে গেছে হিসাব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের চিত্র দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। শক্তিধর দেশগুলো বিপুল সামরিক ব্যয় ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযান চালিয়েও দেশটির শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি দুর্বল করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ইউক্রেনকে দ্রুত পরাজিত করার যে ধারণা একসময় অনেকের ছিল, বাস্তবে তা সফল হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ও অভিযোজনের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে শক্তির ভারসাম্য

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় ড্রোন, নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং কম খরচের আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে যেখানে উন্নত সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো আকাশ ও স্থলযুদ্ধে স্পষ্ট সুবিধা পেত, এখন তুলনামূলক ছোট রাষ্ট্রও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে ব্যয়বহুল অস্ত্রভাণ্ডারের পাশাপাশি সৃজনশীল ও দ্রুত অভিযোজনক্ষম প্রযুক্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অর্থ বা অস্ত্রের পরিমাণই আর সাফল্যের একমাত্র নির্ধারক নয়।

The world's great powers are learning they have limits | Mint

জনগণের প্রতিরোধই বড় শক্তি

বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলো আরেকটি বিষয় সামনে এনেছে। কোনো দেশের জনগণ যদি নিজেদের রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে, তাহলে বাহ্যিক শক্তির পক্ষে দ্রুত বিজয় অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুগে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন বা পুরো রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। সামরিক অভিযান শুরু করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে জনগণের প্রতিরোধ ভেঙে ফেলা কঠিন হয়ে উঠছে।

চীনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা এশিয়ার কৌশলগত হিসাবেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে চীন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, রাজনৈতিক ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রতিরোধের মানসিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে রাষ্ট্র এসব ক্ষেত্রে দুর্বল হবে, তার জন্য সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।

মধ্যম শক্তির নতুন কৌশল

বিশ্বের মধ্যম আকারের দেশগুলোও এখন নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে বড় শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

অনেক দেশের নীতিনির্ধারক মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বে একক আধিপত্যের যুগ ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। তার পরিবর্তে সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতার অহংকার বড় শক্তিগুলোর জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বর্তমান সংঘাতগুলো সেই পুরোনো শিক্ষাকেই নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তারও সীমা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা?

বিশ্বশক্তির সীমাবদ্ধতা: যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার সমীকরণ

০৬:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—শক্তিশালী রাষ্ট্র যা চায় তাই করতে পারে, আর দুর্বল রাষ্ট্রকে তার ফল ভোগ করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় সংঘাত সেই ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা এবং যুদ্ধের নতুন কৌশল দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু সামরিক শক্তি থাকলেই আর নিশ্চিত বিজয় অর্জন করা যায় না।

যুদ্ধক্ষেত্রে বদলে গেছে হিসাব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের চিত্র দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। শক্তিধর দেশগুলো বিপুল সামরিক ব্যয় ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযান চালিয়েও দেশটির শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি দুর্বল করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ইউক্রেনকে দ্রুত পরাজিত করার যে ধারণা একসময় অনেকের ছিল, বাস্তবে তা সফল হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ও অভিযোজনের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে শক্তির ভারসাম্য

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় ড্রোন, নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং কম খরচের আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে যেখানে উন্নত সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো আকাশ ও স্থলযুদ্ধে স্পষ্ট সুবিধা পেত, এখন তুলনামূলক ছোট রাষ্ট্রও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে ব্যয়বহুল অস্ত্রভাণ্ডারের পাশাপাশি সৃজনশীল ও দ্রুত অভিযোজনক্ষম প্রযুক্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অর্থ বা অস্ত্রের পরিমাণই আর সাফল্যের একমাত্র নির্ধারক নয়।

The world's great powers are learning they have limits | Mint

জনগণের প্রতিরোধই বড় শক্তি

বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলো আরেকটি বিষয় সামনে এনেছে। কোনো দেশের জনগণ যদি নিজেদের রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে, তাহলে বাহ্যিক শক্তির পক্ষে দ্রুত বিজয় অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুগে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন বা পুরো রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। সামরিক অভিযান শুরু করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে জনগণের প্রতিরোধ ভেঙে ফেলা কঠিন হয়ে উঠছে।

চীনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা এশিয়ার কৌশলগত হিসাবেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে চীন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, রাজনৈতিক ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রতিরোধের মানসিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে রাষ্ট্র এসব ক্ষেত্রে দুর্বল হবে, তার জন্য সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।

মধ্যম শক্তির নতুন কৌশল

বিশ্বের মধ্যম আকারের দেশগুলোও এখন নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে বড় শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

অনেক দেশের নীতিনির্ধারক মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বে একক আধিপত্যের যুগ ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। তার পরিবর্তে সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতার অহংকার বড় শক্তিগুলোর জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বর্তমান সংঘাতগুলো সেই পুরোনো শিক্ষাকেই নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তারও সীমা রয়েছে।