০১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ডেভিড হকনির বিদায়: ক্যালিফোর্নিয়ার রঙে বিশ্বজয়ী ব্রিটিশ শিল্পীর জীবনাবসান নাগরিক অধিকার নাকি দয়ার দান: প্রতিবন্ধী মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন ভাবনার সময় সোনার দামে বড় উল্লম্ফন, চার দফা কমার পর ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কানাডার বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, গ্যালারিতে তারকাদের উচ্ছ্বাসে প্রথম পয়েন্ট দেশজুড়ে বাড়তে পারে বৃষ্টি, আরও পাঁচ দিন সক্রিয় থাকবে মৌসুমি বায়ু যুক্তরাষ্ট্রের দাপুটে জয়, বিশ্বকাপের শুরুতেই প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দিল স্বাগতিকরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু শেরপুরে শিক্ষার্থী সাইফ হত্যা: তিনজন গ্রেপ্তার, প্রধান আসামিদের দাবিতে সড়ক অবরোধ নিখোঁজ শিবির নেতা জিসান: কুমিল্লায় উদ্বেগ, প্রতিবাদে কর্মীরা বিশ্বকাপ উন্মাদনার মাঝে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক, নিউইয়র্কে ভিন্ন এক উৎসব

প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে দ্বন্দ্বে পদত্যাগ, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে সরকারের ভেতরের মতবিরোধ শেষ পর্যন্ত বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে জন হিলির পদত্যাগ সেই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পদত্যাগপত্রে তিনি সরকারের নিরাপত্তা নীতি, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

পদত্যাগপত্রে জন হিলি বলেছেন, গত দুই বছরে সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটেন নেতৃত্বমূলক অবস্থান নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে বিশ্ব পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাড়ছে নিরাপত্তা হুমকি

হিলির মতে, শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার তৎপরতা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে ব্রিটিশ দায়িত্ব—সব মিলিয়ে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে।

UK defense secretary quits over military spending dispute - Boston 25 News

তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ জরুরি। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে সরকার কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

অর্থায়ন নিয়ে অসন্তোষ

পদত্যাগপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে হিলি সরাসরি অভিযোগ করেন যে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল।

তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত ও স্পষ্ট প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বারবার বিলম্বিত হয়েছে এবং প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব এসেছে।

UK hikes defense spending to 2.5 percent by cutting aid – POLITICO

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে বিতর্ক

বর্তমানে জাতীয় আয়ের তুলনায় ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের হার প্রায় আড়াই শতাংশের কাছাকাছি। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তা বাড়িয়ে সাড়ে তিন শতাংশে নেওয়ার কথা বলা হলেও হিলি মনে করেন, এই গতি যথেষ্ট নয়।

তার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যেই প্রতিরক্ষা ব্যয় অন্তত তিন শতাংশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি বিশ্বাস করেন, এমন একটি পদক্ষেপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও ব্যাপক সমর্থন পাবে।

দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা

Qatar news agency

হিলি পদত্যাগপত্রে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অপর্যাপ্ত অর্থায়ন দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যা দেশের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

এই কারণেই তিনি জানান, নীতিগত অবস্থান থেকে তার আর পদে থাকা সম্ভব নয় এবং সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট

পদত্যাগপত্রের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রীকে শুভকামনা জানানো হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্যেও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। কারণ তিনি শুধু আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নেতৃত্বের সংকটের কথাও পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জন হিলির এই পদত্যাগ কেবল একটি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘটনা নয়। এটি সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি, বাজেট অগ্রাধিকার এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তার নিজের ভূমিকাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেভিড হকনির বিদায়: ক্যালিফোর্নিয়ার রঙে বিশ্বজয়ী ব্রিটিশ শিল্পীর জীবনাবসান

প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে দ্বন্দ্বে পদত্যাগ, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন

১১:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে সরকারের ভেতরের মতবিরোধ শেষ পর্যন্ত বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে জন হিলির পদত্যাগ সেই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পদত্যাগপত্রে তিনি সরকারের নিরাপত্তা নীতি, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

পদত্যাগপত্রে জন হিলি বলেছেন, গত দুই বছরে সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটেন নেতৃত্বমূলক অবস্থান নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে বিশ্ব পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাড়ছে নিরাপত্তা হুমকি

হিলির মতে, শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার তৎপরতা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে ব্রিটিশ দায়িত্ব—সব মিলিয়ে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে।

UK defense secretary quits over military spending dispute - Boston 25 News

তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ জরুরি। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে সরকার কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

অর্থায়ন নিয়ে অসন্তোষ

পদত্যাগপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে হিলি সরাসরি অভিযোগ করেন যে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল।

তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত ও স্পষ্ট প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বারবার বিলম্বিত হয়েছে এবং প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব এসেছে।

UK hikes defense spending to 2.5 percent by cutting aid – POLITICO

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে বিতর্ক

বর্তমানে জাতীয় আয়ের তুলনায় ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের হার প্রায় আড়াই শতাংশের কাছাকাছি। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তা বাড়িয়ে সাড়ে তিন শতাংশে নেওয়ার কথা বলা হলেও হিলি মনে করেন, এই গতি যথেষ্ট নয়।

তার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যেই প্রতিরক্ষা ব্যয় অন্তত তিন শতাংশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি বিশ্বাস করেন, এমন একটি পদক্ষেপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও ব্যাপক সমর্থন পাবে।

দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা

Qatar news agency

হিলি পদত্যাগপত্রে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অপর্যাপ্ত অর্থায়ন দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যা দেশের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

এই কারণেই তিনি জানান, নীতিগত অবস্থান থেকে তার আর পদে থাকা সম্ভব নয় এবং সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট

পদত্যাগপত্রের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রীকে শুভকামনা জানানো হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্যেও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। কারণ তিনি শুধু আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নেতৃত্বের সংকটের কথাও পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জন হিলির এই পদত্যাগ কেবল একটি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘটনা নয়। এটি সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি, বাজেট অগ্রাধিকার এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তার নিজের ভূমিকাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।