ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। বুধবারের এই জয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখানো ব্রাজিল সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায়। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আরও একটি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ফলে টানা তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
এই দুই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে ভিনিসিয়ুসের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার। গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান অবস্থানে রয়েছেন। তাদের সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি।
ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাসী অগ্রযাত্রা
ভিনিসিয়ুসের পাশাপাশি ব্রাজিলের হয়ে আরেকটি গোল করেন মাথেউস কুনিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ১৫তম বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে পৌঁছানোর নজির গড়ল সেলেসাওরা।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে মরক্কো। ফলে ব্রাজিলের সঙ্গে তারাও শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে।
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুতে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করলেও পরে ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। হাইতি ও স্কটল্যান্ড—দুই ম্যাচেই ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দলটি। প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির মতে, টুর্নামেন্টের শুরু থেকে তার দল ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উন্নত করেছে।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, “আমরা আমাদের সেরা ফুটবল খেলতে চেষ্টা করছি। তবে লক্ষ্য শুধু ভালো খেলা নয়, লক্ষ্য হলো জেতা। যদি আমরা বিশ্বকাপ জিতি, তাহলে বলা হবে আমরা ভালো খেলেছি। আর যদি না জিতি, তাহলে বলা হবে আমরা খারাপ খেলেছি।”
ভিনিসিয়ুসের ঝলক
ব্রাজিলের প্রথম গোলটি আসে ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার রায়ানের পাস থেকে। বল পেয়ে স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে সহজেই জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। পরে স্কটল্যান্ডের আরেকটি রক্ষণাত্মক ভুল কাজে লাগিয়ে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস বলেন, “গোল করা এবং ভালো ম্যাচ খেলা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেটা করতে পেরেছি এবং নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি।”
নেইমারের প্রত্যাবর্তন
এই ম্যাচে ব্রাজিলের জন্য আরেকটি ইতিবাচক খবর ছিল নেইমারের ফেরা। ডান পায়ের কাফে চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে না খেললেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। হার্ড রক স্টেডিয়ামে তার নামার সময় দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
আনচেলত্তি জানান, নেইমার খেলার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং সীমিত সময় মাঠে থেকেও ভালো খেলেছেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ৭৯। ১৩০ ম্যাচে এই কীর্তি গড়া তারকা দেশের হয়ে টানা চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন এবং বিশ্বকাপ মঞ্চে এখন পর্যন্ত করেছেন আট গোল।
স্কটল্যান্ডের হতাশা
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া স্কটল্যান্ডের জন্য এবারের অভিযান শেষ হলো গ্রুপ পর্বেই। এটি নবমবারের মতো বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়।
তবে মাঠের বাইরে স্কটিশ সমর্থকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি নজর কেড়েছে। ‘টার্টান আর্মি’ নামে পরিচিত তাদের সমর্থকরা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।
স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার নাথান প্যাটারসন বলেন, “আমরা জানতাম তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের আক্রমণভাগ খুবই বিপজ্জনক। এমন দলের বিপক্ষে সহজ গোল উপহার দিলে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যায়।”
ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। নেইমারের প্রত্যাবর্তনও দিয়েছে বাড়তি স্বস্তি।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং নকআউট নিশ্চিত করার গল্প পড়ুন।
#ব্রাজিল #ভিনিসিয়ুসজুনিয়র #বিশ্বকাপ #স্কটল্যান্ড #নেইমার #ফুটবল #WorldCup #Brazil
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















