দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়া, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
ভূমিকম্প দুটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবলভাবে অনুভূত হয়। অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের তীব্রতা ও প্রভাব বিবেচনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ফেটে গেছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
ভূমিকম্পের পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেক হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরা আহতদের সেবায় কাজ করছেন।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসা সহায়তা এবং জরুরি সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করতে মাঠপর্যায়ে জরিপ শুরু হয়েছে।

সহায়তার প্রস্তুতি
ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সতর্ক থাকার এবং পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভেনেজুয়ায় মাঝেমধ্যে ভূকম্পন অনুভূত হলেও সাম্প্রতিক এই জোড়া ভূমিকম্পের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। দেশটির জন্য এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















